শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ০৮:৩১ পূর্বাহ্ন
নির্বাচন মানেই গণতন্ত্রের উৎসব, নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার প্রয়োগের মাহেন্দ্রক্ষণ। কিন্তু এই উৎসবের আবহে সাধারণ ভোটারদের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে পরিবহন খাতের লাগামহীন ভাড়া। শরীয়তপুরবাসীসহ দেশের সাধারণ ভোটারদের আশঙ্কা—পরিবহন সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে এবারও অনেকের ভোট দিতে যাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।গত বছরের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, নির্বাচনের সময় রাজধানী ছাড়ার হিড়িককে পুঁজি করে এক শ্রেণির পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা মেতে ওঠেন ‘ভাড়ার ঈদে’। রাজধানীর বিভিন্ন বাস টার্মিনালে দেখা গেছে, ২৫০ টাকার স্বাভাবিক ভাড়া আদায় করা হচ্ছে ৫০০ টাকা পর্যন্ত। দ্বিগুণ ভাড়ার এই বোঝা সইতে না পেরে অনেক নিম্নআয়ের মানুষ ভোট দেওয়ার ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও ঢাকা ছাড়তে পারছেন না।ভুক্তভোগী যাত্রীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, “কেন পকেটের অতিরিক্ত টাকা খরচ করে ভোট দিতে যেতে হবে?” সচেতন নাগরিক সমাজের মতে, এই পরিবহন সিন্ডিকেট যদি এখনই ভাঙা না যায়, তবে সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার প্রয়োগের আগ্রহ অঙ্কুরেই বিনষ্ট হতে পারে।ভোগান্তি কমাতে তিন প্রস্তাবনা:
সাধারণ ভোটার ও যাত্রীদের এই দুর্ভোগ কমাতে প্রশাসনের কাছে তিনটি বিশেষ প্রস্তাবনা তুলে ধরা হয়েছে:
১. প্রতিটি বাস স্টপেজে ও কাউন্টারে বাধ্যতামূলকভাবে সরকারি ভাড়ার তালিকা টাঙানো।
২. ডিজিটাল মনিটরিংয়ের মাধ্যমে লেনদেন স্বচ্ছ রাখা এবং অতিরিক্ত ভাড়া রোধ করা।
৩. প্রতিটি টার্মিনালে মোবাইল কোর্ট মোতায়েন রাখা এবং অভিযোগ পাওয়ামাত্রই তাৎক্ষণিক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা।
নির্বাচন ঘিরে উৎসবমুখর পরিবেশের কথা বলা হলেও রাজপথের ভাড়া নৈরাজ্য সেই পরিবেশকে ম্লান করে দিচ্ছে। শরীয়তপুরসহ সারা দেশের মানুষ চায়, ভোট যেন প্রকৃত অর্থেই জনবান্ধব ও উৎসবমুখর হয়। ঢাকাবাসী যেন নিশ্চিন্তে গ্রামে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে, সেজন্য সরকারের কঠোর ও দ্রুত হস্তক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।
পরিবহন খাতের এই নৈরাজ্য থামিয়ে ভোটের পরিবেশকে নির্বিঘ্ন করার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন সাধারণ ভোটাররা।