
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় বনভূমির জমি দখল ও অবৈধ ঘর নির্মাণের মহোৎসব শুরু হয়েছে। উপজেলার কাওরাইদ, সাতখামাইর,সিমলাপাড়া ও শ্রীপুর পৌরসভাসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় সংরক্ষিত বনের জমিতে করে গড়ে উঠছে ইটের দালান। অভিযোগ উঠেছে, খোদ বন কর্মকর্তাদের যোগসাজশ ও অর্থের বিনিময়ে আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে এই দখলের হিড়িক পড়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বনের জমি রক্ষায় দায়িত্বরত কর্মকর্তারা দ্বিমুখী নীতি অবলম্বন করছেন। দরিদ্র ও ভূমিহীন মানুষ সামান্য ঝুপড়ি ঘর বা টিনের চালা দিলে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত বন আইনে মামলা দেওয়া হচ্ছে। অথচ প্রভাবশালী মহল ও রাজনৈতিক নেতারা বনের জমি দখল করে ইটের পাকা দালান নির্মাণ করলেও বন বিভাগ নির্বিকার। অনেক ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে ‘লিয়াজোঁ’ করে বনের বড় বড় গাছ কেটে জমি খালি করা হচ্ছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, বনের জমিতে অবৈধ নির্মাণ নিয়ে সংবাদকর্মীরা প্রশ্ন করলে অসাধু কর্মকর্তারা কৌশলী উত্তর শিখিয়ে দিচ্ছেন। দখলদারদের শেখানো হচ্ছে— সাংবাদিকরা এলে বলতে হবে, “এটি বনের গেজেটভুক্ত জমি নয়” কিংবা “পুরানো বাড়ি সংস্কার করা হচ্ছে।” কর্মকর্তাদের এমন প্রশ্রয়ে গণমাধ্যমকর্মীরাও প্রকৃত সত্য উদঘাটন করতে বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন।
বনের জমি দখল নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করলে বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য জানতে চাইলে উল্টো সাংবাদিকদের মামলার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। দায়িত্বশীল বন কর্মকর্তাদের কাছ থেকে এ বিষয়ে কোনো সদুত্তর পাওয়া যাচ্ছে না, বরং তারা এড়িয়ে চলছেন।
বনের জমি এভাবে বেদখল হতে থাকায় শ্রীপুর এলাকার প্রাকৃতিক ভারসাম্য হুমকির মুখে পড়েছে। গাছ কেটে পাকা স্থাপনা নির্মাণের ফলে ধ্বংস হচ্ছে জীববৈচিত্র্য। বন রক্ষা যাদের দায়িত্ব, তাদের এমন ‘ভক্ষক’ ভূমিকায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় সচেতন মহল ও পরিবেশবাদীরা।
বনভূমি রক্ষায় দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ এবং জড়িত অসাধু কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।