শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ১১:১৯ পূর্বাহ্ন
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলায় প্রশাসনের কার্যকর নজরদারির অভাবে তিস্তার শাখা রাঙ্গাপানি নদীসহ বিভিন্ন নদী থেকে অবৈধভাবে কোটি কোটি টাকার বালু ও মাটি লুট হয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এই অনিয়ম চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
উপজেলার ৩নং সদর ইউনিয়নের খয়ের বাগান সংলগ্ন রাঙ্গাপানি নদী এবং তিস্তা নদীর বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে প্রতিদিনই অবাধে বালু ও মাটি উত্তোলন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এরশাদ ও মোহর আলী নামের দুই ব্যক্তি একটি সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে রাতের আঁধারে ও দিনের আলোতেও মাহিন্দ্রা ট্রাক্টর ব্যবহার করে নদী থেকে বালু ও মাটি উত্তোলন করছেন। এসব বালু ও মাটি বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করা হচ্ছে, যার বাজারমূল্য কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নদী থেকে নির্বিচারে বালু ও মাটি উত্তোলনের ফলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এতে আশপাশের কৃষিজমি ও বসতভিটা নদীভাঙনের ঝুঁকিতে পড়ছে। পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতির পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকাও হুমকির মুখে পড়েছে।
হুমকির আশঙ্কায় অনেক স্থানীয় বাসিন্দা প্রকাশ্যে কথা বলতে রাজি নন। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কৃষক জানান, যেভাবে নদী থেকে বালু উত্তোলন চলছে, তাতে আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই এই এলাকা বসবাসের অনুপযুক্ত হয়ে পড়তে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দা মোছাঃ অছিরন বেগম বলেন, “ভোররাতে, সকালে ও রাতের বেলা বালু লুটের বিষয়টি আমরা গ্রাম পুলিশ ও থানা পুলিশকে জানিয়েছি। তারা এসে সামান্য সময় কাটিয়ে চলে যায়, কিন্তু কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয় না।”
স্থানীয় সাংবাদিক মোমিন ইসলাম সরকার বলেন, “অবৈধ বালু ও মাটি উত্তোলন বন্ধ না হলে এই অঞ্চলের পরিবেশ ধ্বংস অনিবার্য হয়ে উঠবে। দ্রুত প্রশাসনিক অভিযান ছাড়া এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব নয়।”
এ বিষয়ে সদর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোঃ নুরুজ্জামান জানান, “বালু উত্তোলনকারী এরশাদকে একাধিকবার নিষেধ করা হয়েছে। কিন্তু সে নিজেকে ‘প্রেসিডেন্ট’ মনে করে কারও কথাই শোনে না। স্থানীয়দের বাধা উপেক্ষা করেই সে নিয়মিত এই অপরাধ চালিয়ে যাচ্ছে।”
এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ মাহমুদুল হাসানের বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের দাবি, অবিলম্বে অবৈধ বালু ও মাটি উত্তোলন বন্ধে কঠোর অভিযান পরিচালনা করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে পরিবেশ ও জনজীবনের ক্ষতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে।