শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ০৮:৩২ পূর্বাহ্ন
ঢাকা-১৯ (সাভার–আশুলিয়া) আসনের শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে ঢাকা-১৯ (সাভার–আশুলিয়া) শ্রমিকদের দাবি বাস্তবায়ন কমিটি।বুধবার (২১ জানুয়ারি ২০২৬) সকালে সাভার প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। এ সময় সাভার ও আশুলিয়া অঞ্চলের বিভিন্ন গার্মেন্টস শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধি ও শ্রমিকরা উপস্থিত ছিলেন।লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বারবার সরকার ও জনপ্রতিনিধি পরিবর্তন হলেও শ্রমিকদের জীবনমান, সামাজিক নিরাপত্তা ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ আজও নিশ্চিত হয়নি। অথচ দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও শিল্পায়নে শ্রমিকদের অবদান সবচেয়ে বেশি।বক্তারা জানান, ঢাকা-১৯ সংসদীয় আসনটি সাভার উপজেলা ও আশুলিয়ার কিছু অংশ নিয়ে গঠিত। এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা প্রায় ৯ লাখ ২৮ হাজার ৪২৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৪ লাখ ৭৪ হাজার ৬৮৭ জন, নারী ভোটার ৪ লাখ ৫৩ হাজার ৭২৫ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১৬ জন। গড়ে প্রতি ভোটারের সঙ্গে চারজন করে পরিবারের সদস্য ধরলে এই এলাকায় প্রায় ৪০ লাখ মানুষের বসবাস।সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, এই এলাকায় দুটি উপজেলা, একটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় স্মৃতিসৌধ, যুব উন্নয়ন একাডেমি, ডেইরি ফার্ম, সাভার ক্যান্টনমেন্টসহ বহু গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। পাশাপাশি এখানে প্রায় ১ হাজার ৮৬০ থেকে ২ হাজারের মতো শিল্পকারখানা রয়েছে, যার মধ্যে তৈরি পোশাক কারখানার সংখ্যাই সর্বাধিক।বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, কাজের সুবাদে এ অঞ্চলে বসবাসরত বিপুল সংখ্যক শ্রমিক স্থায়ী ভোটার না হওয়ায় তারা নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ফলে জনপ্রতিনিধিরা শ্রমিকদের সমস্যা ও দাবি উপেক্ষা করছেন।তারা আরও বলেন, বিগত দুই দশকে গার্মেন্টস ভবন ধস, অগ্নিকাণ্ডসহ বিভিন্ন দুর্ঘটনায় প্রায় ১৫শ থেকে ২ হাজার শ্রমিক নিহত এবং ২০ থেকে ২৫ হাজার শ্রমিক আহত হয়েছেন। অনেক শ্রমিক আজও আহত অবস্থায় পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।সংবাদ সম্মেলনে শ্রমিক নেতারা বলেন, বর্তমান মজুরি দিয়ে একটি পরিবারের ন্যূনতম জীবনযাপন করাই কঠিন। তার ওপর বাড়িভাড়া বৃদ্ধি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে শ্রমিকরা চিকিৎসা, পুষ্টিকর খাবার ও সন্তানদের শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
সংবাদ সম্মেলন থেকে শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ, সামাজিক নিরাপত্তা ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়।
শ্রমিকদের ৬ দফা দাবি
১. জনসংখ্যা অনুপাতে সরকারি উদ্যোগে শ্রমিক কলোনি, সরকারি স্কুল ও কলেজ, ডে-কেয়ার সেন্টার, খেলার মাঠ এবং বার্ন ইউনিটসহ ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট আধুনিক সরকারি হাসপাতাল নির্মাণ।
২. জলাবদ্ধতা নিরসনে দ্রুত কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ।
৩. শ্রমিকদের নিরাপদ চলাচলের জন্য পর্যাপ্ত সড়কবাতি, সিসি ক্যামেরা স্থাপন এবং কর্মস্থলে যাতায়াতের সময় বৃষ্টির হাত থেকে রক্ষায় যাত্রী ছাউনি নির্মাণ।
৪. মাদক ব্যবসা ও সেবন, ছিনতাই, চাঁদাবাজিসহ সব ধরনের অপরাধ দমনে কঠোর ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ।
৫. শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে কারখানাভিত্তিক রেশনিং ব্যবস্থা চালু, ফেয়ার প্রাইস শপ ও ফ্যামিলি কার্ড প্রবর্তন এবং অনিয়ন্ত্রিত বাড়িভাড়া বৃদ্ধি রোধে বাড়িভাড়া আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন।
৬. জাতীয় সংসদে শ্রমজীবী মানুষের অধিকার ও প্রত্যাশা তুলে ধরতে জাতীয় ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন ও শ্রমিক অধিকার সংগঠনগুলোর সমন্বয়ে গঠিত শ্রমিক অধিকার জাতীয় অ্যাডভোকেসি অ্যালায়েন্সের সুপারিশ বাস্তবায়ন।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি বাস্তবায়ন ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। তারা আশা প্রকাশ করেন, ঢাকা-১৯ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য শ্রমজীবী মানুষের দাবি সংসদে তুলে ধরবেন এবং তা বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ নেবেন।
সংবাদ সম্মেলন শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের ধন্যবাদ জানানো হয়।