শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ০৭:৩৩ পূর্বাহ্ন
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার বেতগাড়ী ইউনিয়নের আলদাদপুর গ্রামে কৃষকদের আয়ের প্রধান উৎস হয়ে উঠেছে পান চাষ। গ্রামজুড়ে চোখে পড়ে পানের বরজ। এই পান চাষ করেই এখানকার বেশির ভাগ পরিবার তাদের সংসারের ব্যয় নির্বাহ করছে।
সরেজমিন আলদাদপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, পানচাষি পরেশ রায় (৫০) তার বরজ থেকে পান তুলছেন। কথা হলে তিনি জানান, পানই এ গ্রামের মানুষের প্রধান আয়ের উৎস। বংশানুক্রমিকভাবেই তারা পান চাষের সঙ্গে যুক্ত। তার পূর্বপুরুষরাও এই ফসলের আবাদ করতেন। পরেশ রায় বলেন, গত বছর তিনি ২০ শতক জমিতে পান চাষ করেছিলেন। দুই বছরে এই চাষে তার ব্যয় হয়েছে প্রায় ২ লাখ টাকা। বিপরীতে পান বিক্রি করে তিনি পেয়েছেন প্রায় ৪ লাখ টাকা। এতে তার লাভ হয়েছে প্রায় ২ লাখ টাকা। একই গ্রামের আরেক পানচাষি হেমন্ত রায় (৪৮) জানান, তিনি ২৫ শতক জমিতে দেশি জাতের পান চাষ করেছেন। এই পান চাষ থেকেই তার সংসারের ভরণ–পোষণ চলে। তিনি বলেন, কুয়াশা ও অতিবৃষ্টি পানের প্রধান শত্রু। এ কারণে একটু উঁচু জমিতে বরজ তৈরি করতে হয়। পাশাপাশি কুয়াশা প্রতিরোধে বরজের ওপর মাচা এবং চারপাশ ঢেকে রাখতে হয়। গ্রামের আরও কয়েকজন পানচাষি জানান, এই এলাকার মাটি ও পরিবেশ পান চাষের জন্য বেশ উপযোগী। ফলে পানই এখন এই গ্রামের প্রধান অর্থকরী ফসল হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। চাষিরা জানান, পান চাষে জৈব সার, খৈল এবং অল্প পরিমাণ ইউরিয়া ব্যবহার করা হয়। তবে পোকামাকড়ের আক্রমণ ও কখনো কখনো মারাত্মক পচন রোগ দেখা দেয়। এ কারণে সব সময় সতর্ক থাকতে হয়। স্থানীয় ইউপি সদস্য পরেশ রায় বলেন, পান চাষ লাভজনক হওয়ায় দিন দিন এর প্রতি কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। উৎপাদিত পান স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতেও সরবরাহ করা হচ্ছে।