শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ১০:২২ পূর্বাহ্ন
সুন্দরবনের দস্যুতা ছেড়ে একসময় স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এলেও আবারও সেই অন্ধকার পেশায় নাম লেখাতে বাধ্য হয়েছেন ‘দুলা ভাই বাহিনী’র সদস্যরা। তাদের এই ফিরে আসার পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে চরম আইনি হয়রানি এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসা। এই বাহিনীর প্রধান রবিউল ইসলাম ছিলেন একজন সাধারণ বনজীবী, যিনি রাজনৈতিকভাবে জামায়াতে ইসলামীকে সমর্থন করতেন। তার অভিযোগ, এই রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণেই আওয়ামী লীগের কয়রা উপজেলার তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক ও মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বিজয় কৃষ্ণ সরদারের রোষানলে পড়েন তিনি। এলাকায় যেকোনো অপরাধ বা ডাকাতি সংঘটিত হলেই রবিউলকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হতো এবং চেয়ারম্যানের নির্দেশে পুলিশ তাকে অমানুষিক নির্যাতন করত। এমন নিরুপায় পরিস্থিতিতে সপরিবারে ভারতে পালিয়ে গিয়েও শেষ পর্যন্ত ক্ষোভ ও বাঁচার তাগিদে দেশে ফিরে তিনি ‘দুলা ভাই বাহিনী’ গঠন করেন।
একই অবস্থা বাহিনীর অন্যান্য সদস্যদেরও। আক্কাস আলীর মতো যারা ২০১৮ সালে আত্মসমর্পণ করেছিলেন, তাদের দাবি—স্বাভাবিক জীবনে ফেরার পর তাদের সহযোগিতা করার বদলে উল্টো মিথ্যা হত্যা মামলায় প্রধান আসামি করে জেলে পাঠানো হয়েছে। জামিন নিয়ে বের হয়ে পুলিশি নির্যাতন আর হয়রানি থেকে বাঁচতেই তারা আবার বনে ফিরতে বাধ্য হয়েছেন। বাহিনীর আরেক সদস্য রহিম উদ্দিনও ২০০৯ সালের একটি মিথ্যা মামলার ঘানি টানতে গিয়ে ঘরবাড়ি ছেড়ে দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন এবং শেষে ক্ষোভ থেকে এই পথে পা বাড়িয়েছেন। বর্তমানে দুলা ভাই বাহিনীর একটাই দাবি, যদি রাষ্ট্র তাদের ওপর থেকে এই হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলাগুলো প্রত্যাহার করে নেয়, তবেই তারা দস্যুতা ছেড়ে আবারও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবে। র্যাব-৬ এর পক্ষ থেকে বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হলেও পুরো বিষয়টি এখন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আইনি সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়।