শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ০৭:৩৪ পূর্বাহ্ন
আইনের শাসন ও রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্বের প্রতি সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে ময়মনসিংহ নগরীতে প্রকাশ্য দিবালোকে পুলিশের ওপর নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটেছে। মামলার এজাহারভুক্ত এক আসামিকে গ্রেপ্তার করে থানায় আনার পথে হামলাকারীরা পাঁচ পুলিশ সদস্যকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করে এবং হাতকড়াসহ আসামিকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে নগরীর দিগারকান্দা ফিশারি মোড় এলাকায় এই চাঞ্চল্যকর ও নজিরবিহীন ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মুহূর্তের মধ্যেই পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। মামলার পটভূমিঃ
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়,কয়েকদিন আগে রাসেল নামের এক যুবককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগে কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের হয়। ওই মামলার প্রধান আসামি আরিফুল ইসলাম। বর্তমানে ভুক্তভোগী রাসেল রাজধানীর জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (নিটোর),পঙ্গু হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
গ্রেপ্তার ও হামলার ভয়াবহতাঃ মঙ্গলবার বিকেলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি মডেল থানার এসআই ফরিদ আহমদের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি পুলিশ দল দিগারকান্দা এলাকায় অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত আসামি আরিফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে। তাকে হাতকড়া পরিয়ে থানায় নেওয়ার পথে হঠাৎ করে আসামির বাবা সাগর আলীর নেতৃত্বে কয়েকশ লোক লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পুলিশের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। একপর্যায়ে হামলাকারীরা দায়িত্ব পালনরত পুলিশ সদস্যদের ওপর এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও নির্মমভাবে পিটিয়ে গুরুতর জখম করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের আগেই তারা পুলিশ সদস্যদের রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে রেখে হাতকড়াসহ আরিফুল ইসলামকে ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। আহত পুলিশ সদস্যদের অবস্থাঃ
হামলায় গুরুতর আহত পাঁচ পুলিশ সদস্যকে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন,আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। রাষ্ট্রীয় বাহিনীর তৎপরতাঃ ঘটনার পর এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে র্যাব ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং টহল জোরদার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
পুলিশের বক্তব্যঃ কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাজমুস সাকিব ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে হাতকড়াসহ আরিফুল ইসলাম নামে এক আসামিকে ছিনিয়ে নিয়ে গেছে তার সহযোগীরা। হামলায় পাঁচজন পুলিশ সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন এবং তারা বর্তমানে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আসামির বাবা সাগর আলীকে আটক করা হয়েছে। ছিনিয়ে নেওয়া আসামিসহ হামলায় জড়িত সকলকে গ্রেপ্তারে বিশেষ অভিযান চলছে।” আইনের শাসন নিয়ে প্রশ্নঃ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর প্রকাশ্যে সশস্ত্র হামলা ও আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার এই ঘটনা দেশজুড়ে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধু পুলিশের ওপর হামলা নয়—বরং রাষ্ট্রের আইন প্রয়োগকারী ক্ষমতার ওপর সরাসরি আঘাত। এ ঘটনায় দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা না নেওয়া হলে অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।