শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ১০:২৫ পূর্বাহ্ন
বিশ্ব জাকের মঞ্জিলের মহামহিম প্রতিষ্ঠাতা বিশ্ব ওলি হজরত শাহ সুফি খাজাবাবা ফরিদপুরী (কু.ছে.আ.) কেবলাজান ছাহেবের মহাপবিত্র বিশ্ব উরস শরীফ শুরু হয়েছে।
সাম্য, শান্তি ও ঐক্যের বার্তা ছড়িয়ে দিতে প্রতিবছরের মতো এবারও লাখো আশেকান ও ভক্তবৃন্দের অংশগ্রহণে শুক্রবার জুমার বিশাল জামাতের পর হজরত শাহ সুফি খাজাবাবা ফরিদপুরী (কু.ছে.আ.) কেবলাজান ছাহেবের পবিত্র রওজা শরীফ জিয়ারতের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্ব উরস শরীফের উদ্বোধন করা হয়।
ফরিদপুর জেলার সদরপুর উপজেলার আটরশি গ্রামে অবস্থিত বিশ্ব জাকের মঞ্জিলে চার দিনব্যাপী এ বিশ্ব উরস শরীফ ১০, ১১, ১২ ও ১৩ জানুয়ারি পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। উরস উপলক্ষে ইতোমধ্যেই দেশ-বিদেশ থেকে লক্ষাধিক ভক্ত ও ধর্মপ্রাণ মুসলমান আটরশিতে সমবেত হয়েছেন। মঙ্গলবার ১৩ জানুয়ারি আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে বিশ্ব উরস শরীফের পরিসমাপ্তি ঘটবে।
মহাপবিত্র বিশ্ব উরস শরীফ উপলক্ষে বিশ্ব জাকের মঞ্জিলকে নান্দনিক আলো ও সাজে সজ্জিত করা হয়েছে। দেশ-বিদেশের আশেকান, জাকেরান, ধর্মপ্রাণ মুমিন মুসলমান ও ভক্তবৃন্দের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে আটরশি এলাকা। উরস চলাকালীন ইবাদত-বন্দেগি, জিকির-আজকার, মিলাদ মাহফিল, ওয়াজ-মাহফিল, দোয়া ও বিশেষ মোনাজাতসহ নানা ধর্মীয় কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
প্রতিদিন রাত ৩টায় রহমতের সময় থেকে শুরু করে এশার নামাজের পর দয়াল নবী (সা.)-এর উদ্দেশ্যে ৫০০ বার দরুদ শরীফ পেশের মাধ্যমে দিনের কর্মসূচি শেষ হয়। পাশাপাশি দিনভর ধর্মীয় আলোচনা ও বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
বিশ্ব জাকের মঞ্জিলের সুমহান প্রতিষ্ঠাতা বিশ্ব ওলি হজরত শাহ সুফি খাজাবাবা ফরিদপুরী (কু.ছে.আ.) ১৩৫৪ বাংলা সালে ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার আটরশি গ্রামে আগমন করেন। নির্জন এই পল্লীতে জাকের ক্যাম্প স্থাপনের মাধ্যমে তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সত্য তরিকা ও ইসলামের আদর্শ প্রচার শুরু করেন।
খাজাবাবা ফরিদপুরী (কু.ছে.আ.) যেদিন প্রথম আটরশিতে আগমন করেন, সেদিন ছিল পবিত্র ঈদুল আজহা। সে সময় এ অঞ্চলে ইসলামী অনুশাসনের চর্চা ছিল প্রায় অনুপস্থিত। নামাজ, কোরবানি ও ইসলামী রীতিনীতি সম্পর্কে মানুষ ছিল উদাসীন। এমন অবস্থায় মাত্র তিনজন নিয়ে তিনি ঈদের নামাজ আদায় করেন এবং মহান আল্লাহর দরবারে দোয়া করেন—এই এলাকায় যেন একদিন বিশাল ঈদের জামাত কায়েম হয়। মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে আজ সেই আটরশিতেই লক্ষ লক্ষ মুসল্লির অংশগ্রহণে বিশাল ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
উল্লেখ্য, হজরত ফরিদপুরী (কু.ছে.আ.)-এর দাদাপীর হজরত সৈয়দ ওয়াজেদ আলী (রহ.) ফরিদপুর জেলার গেরদা ইউনিয়নে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি এ অঞ্চলে সত্য ইসলামের হিদায়াত প্রচারে বাধার সম্মুখীন হয়ে কলকাতায় চলে যেতে বাধ্য হন। তবে যাওয়ার আগে তিনি ভবিষ্যদ্বাণী করে বলেন—“এখানে আমার গোলামের গোলাম আসবে, যার সামনে কোনো অপশক্তিই টিকবে না।”
সেই ভবিষ্যদ্বাণী বাস্তবায়ন করেন হজরত এনায়েতপুরী (কু.ছে.আ.) ও তাঁর সুযোগ্য শিষ্য খাজাবাবা ফরিদপুরী (কু.ছে.আ.)। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আদর্শে নিজ জীবন গড়ে তুলে সুদীর্ঘ ৪০ বছর সাধনার মাধ্যমে তিনি ইসলামের সত্য প্রচারে প্রতিষ্ঠা করেন পুণ্যভূমি বিশ্ব জাকের মঞ্জিল।
বিশ্ব উরস শরীফকে কেন্দ্র করে আটরশিতে ধর্মীয় আবহ ও আধ্যাত্মিকতার এক অনন্য পরিবেশ বিরাজ করছে, যা মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও শান্তির বার্তা বহন করছে।