শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ০৮:২৯ পূর্বাহ্ন
ময়মনসিংহ সদর উপজেলার সিরতা ইউনিয়নের চর আনন্দিপুর গ্রামে অবৈধভাবে ব্যাটারি পুড়িয়ে সীসা তৈরির একটি কারখানাকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ পরিবেশগত ঝুঁকি ও জনদুর্ভোগের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ নেতা মোশাররফ মন্ডলের মালিকানাধীন ওই কারখানা থেকে নির্গত বিষাক্ত ধোঁয়া ও এসিডযুক্ত বর্জ্যে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। দিন-রাত কারখানা থেকে বের হওয়া কালো ধোঁয়ায় শ্বাসকষ্ট, চোখ জ্বালা, মাথাব্যথাসহ নানা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন এলাকাবাসী। বিশেষ করে নারী,শিশু ও বয়স্করা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে রয়েছেন বলে জানান স্থানীয়রা। শুধু তাই নয়, কারখানা থেকে বের হওয়া এসিডযুক্ত পানি আশপাশের জমি ও জলাশয়ে প্রবাহিত হওয়ায় মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনাও ঘটছে। চর আনন্দিপুর গ্রামের বাসিন্দা হাবিব জানান,কারখানা থেকে বের হওয়া এসিডযুক্ত পানি পান করে তার প্রায় তিন লক্ষ টাকা মূল্যের একটি মহিষ মারা গেছে। একই ঘটনায় পাশের আরেক বাড়ির একটি গরু মারা যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে। স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, মুরগি ও অন্যান্য পশুপাখি মারা যাচ্ছে, গাছপালা শুকিয়ে যাচ্ছে এবং ফসলি জমি পুড়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ ও পরিবেশবিধ্বংসী কারখানা স্থাপন সম্পূর্ণ বেআইনি ও জনস্বার্থবিরোধী। তবে কারখানার মালিক প্রভাবশালী হওয়ায় অনেকেই প্রকাশ্যে মুখ খুলতে ভয় পাচ্ছেন বলে জানান তারা।
এদিকে জানা গেছে,সম্প্রতি পরিবেশ অধিদপ্তর ওই কারখানায় অভিযান চালিয়ে এক লক্ষ টাকা জরিমানা করেছে। কিন্তু স্থানীয়দের অভিযোগ, জরিমানা আদায় হলেও কারখানা বন্ধের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বরং আগের মতোই বীরদর্পে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে কারখানাটি। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ও সহকারী পরিচালকের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কারও সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি নাজমুস সাকিব জানান,বিষয়টি সম্পর্কে তারা অবগত। তিনি বলেন, “পরিবেশ অধিদপ্তর ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” অভিযোগের বিষয়ে কারখানার মালিক মোশাররফ মন্ডল স্থানীয়দের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “কারখানাটি এখনো পুরোপুরি চালু হয়নি।” তবে পরিবেশবিদ ও সচেতন মহলের আশঙ্কা,দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা না নিলে এই অবৈধ কারখানার কারণে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ক্ষতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।