শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ০৭:৩৪ পূর্বাহ্ন
কেন্দুয়া পৌরসভার শহীদ মিনার সংলগ্ন একটি কবরস্থানের গেইটে প্রতিদিন প্রকাশ্যে প্রস্রাব করছে অসংখ্য মানুষ। স্থানীয়দের ভাষ্য, দিনে কমপক্ষে এক হাজার মানুষ এই স্থানে প্রস্রাব করে থাকেন। এতে পরিবেশ যেমন নোংরা হচ্ছে, তেমনি মৃতদের প্রতি চরম অবমাননা এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, কবরস্থানের প্রধান ফটকের আশপাশে কোথাও কবরস্থান শব্দটা লিখা নেই এমনকি কোনো সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড নেই। নেই নিয়মিত তদারকি কিংবা নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা। ফলে পথচারী, যানবাহনের চালক ও আশপাশের কিছু দোকানদার নির্বিঘ্নে জায়গাটিকে অঘোষিত প্রস্রাবখানা হিসেবে ব্যবহার করছেন।
স্থানীয় মুসল্লি ও সচেতন নাগরিকরা জানান, এটি একটি সক্রিয় কবরস্থান, যেখানে নিয়মিত দাফন কার্যক্রম হয়। শহীদ মিনারের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার পাশেই এমন একটি পবিত্র স্থান দীর্ঘদিন ধরে অবহেলায় পড়ে থাকলেও এর দায়িত্ব কার্যত কেউ নিতে চাইছে না। কাগজে-কলমে কবরস্থানটির দায়িত্বে রয়েছে কেন্দুয়া পৌরসভা। তবে ব্যবস্থাপনায় রয়েছে পুরাতন জামে মসজিদ কমিটি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ না থাকায় ক্ষোভ বাড়ছে এলাকাবাসীর মধ্যে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিষয়টি একাধিকবার মৌখিকভাবে জানানো হলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি। কবরস্থান এলাকায় পর্যাপ্ত আলো নেই, সীমানা প্রাচীর ভাঙাচোরা, গেট অরক্ষিত এবং নজরদারির কোনো ব্যবস্থা না থাকায় পরিস্থিতি দিন দিন আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। বিকল্প পাবলিক টয়লেটের অভাবও সমস্যাকে বাড়িয়ে তুলেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কেন্দুয়া পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাতুল ইসলাম, “বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। কবরস্থানটি একটি পবিত্র স্থান—এখানে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা কোনোভাবেই কাম্য নয়। খুব শিগগিরই সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন, গেট সংস্কার, পাবলিক টয়লেট এর ব্যাবস্থা করা এবং নজরদারির ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে মসজিদ কমিটির সঙ্গেও সমন্বয় করে স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
সচেতন মহল বলছে, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে এটি সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয়ের একটি নেতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। তারা পৌরসভার সরাসরি তত্ত্বাবধানে কবরস্থানটির রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।