শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ১০:২৫ পূর্বাহ্ন
শিশু যৌন পাচার (সিএস ই সি) ও ঝুঁকিতে থাকা শিশুদের সুরক্ষা এবং পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে কার্যকর রেফারেল সেবা ব্যবস্থা জোরদারের উপর অপরাজেয় বাংলাদেশ গুরুত্বারোপ করেছে। দীর্ঘ কর্ম অভিজ্ঞতার মাধ্যমে অপরাজেয় বাংলাদেশ মনে করে, রেফারেল ব্যবস্থা কার্যকর না হলে- শিশু যৌন পাচার প্রতিরোধ ও ভুক্তভোগী শিশুদের দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়বে।
অপরাজেয়-বাংলাদেশ (এবি) একটি জাতীয় পর্যায়ের মানবিক ও সামাজিক উন্নয়ন মূলক সংস্থা যা ১৯৯৫ সাল থেকে ঝুকিপূর্ণ শিশু, নারী ও কমিউনিটির সুরক্ষা, সেবা ও উন্নয়নে কাজ করে আসছে। সংস্থাটি বাংলাদেশের শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে বিভিন্ন কর্মসূচী দ্যা ফ্রিডম ফান্ডের আর্থিক সহযোগিতায় বাস্তবায়ন করছে। কার্যক্রমের মূল লক্ষ হলো – জাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কাঠামোর সাথে সামঞ্জস্য রেখে শিশু সুরক্ষায় রেফারেল সেবাও রিসোর্স মোবিলাইজেশন কার্যক্রমটি শক্তিশালী করা।
সংস্থাটি শিশু সুরক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে শিশু যৌন পাচার (সি,এস,ই,সি)থেকে উদ্ধার হওয়া এবং ঝুঁকিতে থাকা শিশুদের জন্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আইনি সহায়তা, মনো সামাজিক সহায়তা, পুনর্বাসন এবং পরিবার পুনর্মিলনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবা প্রদান করে আসছে।
এছাড়া সরকারি ও বেসরকারি সেবা প্রদানকারীদের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করার মাধ্যমে শিশু যৌন পাচার ও ঝুঁকিতে থাকা শিশুদের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য সেবা, আইনি সহায়তা,ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশ সরকার জাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী (এন,এস,এস,এন)এর আওতায় বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি পরিচালনা করলেও তথ্যের অভাব, নীতিগত ঘাটতি এবং সেবার সীমিত প্রবেশাধিকার কার্যকর বাস্তবায়নের পথে বড় অন্তরায়। বিশেষ করে শিশু যৌন শোষণ পাচারের শিকার শিশুদের ক্ষেত্রে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সাথে রেফারেল সংযোগ দুর্বল হওয়ায় কাঙ্খিত ফলাফল অর্জন করা কষ্ট সাধ্য ।
রেফারেল সেবার ক্ষেত্রে প্রধান সমস্যা সমূহ:
সিএসটি শিশুদের জন্য জাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে সীমিত প্রবেশাধিকার।
সেবা প্রদানকারী সংস্থা গুলোর মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি।
অর্থ ও মানব সম্পদের সীমাবদ্ধতা।
সুপারিশ সমূহ :
*একটি স্ট্যান্ডার্ড রেফারেল প্রটোকল ও পরিষ্কার নির্দেশিকা প্রদান।
*জাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা কৌশলের আওতায় সি এস ই সি ও ঝুঁকিতে থাকা শিশুদের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা।
*তথ্য সংগ্রহ ও ডাটাবেজ ব্যবস্থাপনা জোরদার করা।
*সি,এস,ই,সি,শিশুদের পরিবার পুনর্মিলন কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা।
*শিশু যৌন পাচার থেকে উদ্ধার হওয়া শিশুদের জন্য কোটা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা ।
*সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি করা ।