শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ০৭:৩২ পূর্বাহ্ন
বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার চরামদ্দি ইউনিয়নে পূর্ব বাদল পাড়া ও কাটাদিয়া গ্রাম রাঙ্গামাটি নদীর তীর ভাঙনে একের পর এক বসতবাড়ি ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক নদীর স্রোত বৃদ্ধি পাওয়ায় এই দুইগ্রামের নদী তীরবর্তী এলাকায় ভাঙন চরম আকার ধারণ করেছে। ইতিমধ্যে নদীগর্ভে সব হারিয়ে অনেকেই নিঃস্ব হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাঙ্গামাটি নদীর তীরবর্তী পূর্ব বাদল পাড়া ও কাটাদিয়া গ্রামের বহু পরিবার ইতোমধ্যে তাদের ঘরবাড়ি সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে। অনেক কৃষক হারিয়েছেন তার চাষাবাদের জমি। অনেকে মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। ভাঙনে ধানক্ষেত, সবজিক্ষেতসহ বিস্তীর্ণ ফসলি জমি নদীতে চলে যাওয়ায় কৃষক পরিবারগুলো বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে।
ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নদী ভাঙন রোধে কার্যকর কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। বারবার জনপ্রতিনিধিদের জানানো হলেও এখন পর্যন্ত টেকসই বাঁধ নির্মাণ বা প্রতিরক্ষা কাজ শুরু হয়নি।
বাদল পাড়া গ্রামের বাসিন্দা শহিদ নেগাবান দৈনিক আমার প্রাণে বাংলাদেশ কে জানান, একযুগেরও বেশি সময় ধরে রাঙ্গামাটি নদীর ভাঙ্গনে আমাদের গ্রামটি ছোট হয়ে আসছে। আমাদের ফসলি জমি অনেক আগেই নদী গর্ভে চলে গেছে। এখন শুধু বাকি রয়েছে মাথা গোজার শেষ ঠাই টুকু।
স্থানীয় ভুক্তভোগী কুলসুম বিবি বলেন, কয়েকবারের ভাঙ্গনে ফসলের জমিসহ বসতবাড়ি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। নতুন করে যেখানে ঘর নির্মাণ করেছি সেটাও এখন ভাঙ্গনের মুখে পড়েছে। সরকার যদি নদী ভাঙ্গন রোধে কোন ব্যবস্থা না নেয় তাহলে সব হারিয়ে আমাদের রাস্তায় বসবাস করতে হবে।
এদিকে এলাকাবাসী দ্রুত নদী শাসন, জিও ব্যাগ ফেলা ও টেকসই বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন। তারা সতর্ক করে বলেন, দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে আগামী দিনগুলোতে আরও বহু ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ বিষয়ে বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: জাবেদ ইকবাল জানান, রাঙ্গামাটি নদী ভাঙ্গন স্থান পরিদর্শন করে ভাঙ্গন রোধে প্রযোজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।