শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ০৯:২৭ পূর্বাহ্ন
গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার লক্ষীপুর গ্রামে জমিজমা সংক্রান্ত পূর্বশত্রুতার জেরে এক নারীকে পথরোধ করে অমানবিক নির্যাতন, শ্লীলতাহানি ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী মোসাম্মৎ সুখী বেগম (৩৭) ওই গ্রামের বাসিন্দা।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২১ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে লক্ষীপুর গ্রামের কমিউনিটি ক্লিনিকের পশ্চিম পাশে ধানক্ষেতের আইলে অভিযুক্তরা মোসাম্মৎ সুখী বেগমের পথরোধ করে। এ সময় তারা তাকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে এবং একপর্যায়ে বাঁশের লাঠি ও লোহার রড দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি মারধর করে।
মারধরের ফলে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর ফোলা ও কালশিটে দাগ সৃষ্টি হয়। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, হত্যার উদ্দেশ্যে তার ডান পায়ের গোড়ালিতে সজোরে আঘাত করা হলে তিনি মারাত্মকভাবে আহত হন এবং একটি হাত ভেঙে যায়।
এছাড়াও পরনের কাপড় টানাহেঁচড়া করে তাকে বিবস্ত্র করা হয় এবং শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা চালানো হয়।
স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে একটি অটোরিকশাযোগে প্রথমে পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, দীর্ঘদিন ধরে চলমান জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরেই পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালানো হয়েছে। ঘটনার পর পলাশবাড়ী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলে পুলিশ তা আমলে নিয়ে আদালতে প্রেরণ করে। তবে অভিযোগ রয়েছে, মামলার মূল অভিযুক্তরা এখনো গ্রেফতার না হয়ে আগাম অস্থায়ী জামিনে রয়েছেন।
পরিবারের পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয়, জামিনে মুক্ত হয়ে অভিযুক্তরা ভুক্তভোগী পরিবার ও মামলার সাক্ষীদের ওপর উগ্র আচরণ চালিয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন সময় মারধর, ভয়ভীতি প্রদর্শনের পাশাপাশি ভুক্তভোগীর বাবার জমিতে জোরপূর্বক ধান কেটে নেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
এছাড়া আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী জমির দখলদারের তথ্য সংগ্রহ করতে স্থানীয় ভূমি অফিসার ঘটনাস্থলে গেলে অভিযুক্তরা সাক্ষীদের কথা বলতে বাধা দেয় এবং এলোপাতাড়ি মারধর চালায় বলেও অভিযোগ উঠেছে। এতে ভুক্তভোগী পরিবার ও সাক্ষীরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগীর পরিবার ও এলাকাবাসী দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ, অভিযুক্তদের জামিন বাতিল, গ্রেফতার এবং ভুক্তভোগী ও সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন।