শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ১২:১৪ অপরাহ্ন
সাংবাদিককে হয়রানি “” নেপথ্যে যাত্রাবাড়ী থানার ইন্সপেক্টর (অপারেশন) খালেদ হাসানের বিরুদ্ধে মামলা বাণিজ্যের অভিযোগ,
ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি,
নাম না থাকা সত্ত্বেও অনুসন্ধান স্লিপ পাঠানোয় প্রশ্ন উঠেছে।যাত্রাবাড়ি থানার ইন্সপেক্টর (অপারেশন) খালেদ হাসানের বিরুদ্ধে মামলা বাণিজ্য ও হয়রানিমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারী ভুক্তভোগী সাংবাদিক সাইফুল্লাহ পেশায় দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার পত্রিকার রিপোর্টার।
সিনিয়র ক্রাইম রিপোর্টার দৈনিক আমার প্রাণের বাংলাদেশ পত্রিকা।
পাশাপাশি তিনি একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, জিয়া সাংস্কৃতিক সংগঠন (জিসাস) কেন্দ্রীয় কমিটির সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক এবং একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী।
সাংবাদিক সাইফুল্লাহ জানান, প্রায় সাত বছর আগে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও এলাকার মেয়ে আফরোজা আক্তার আঁখি এর সাথে উওরাতে পরিচয় হয় এবং পাশাপাশি বসবাসের সুবাদে আফরোজা আক্তার (ছদ্মনাম আঁখি)-এর সঙ্গে তার পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে। এই সম্পর্কের সূত্র ধরে বিভিন্ন সময় আর্থিক লেনদেন হয় এবং আঁখির পারিবারিক খরচ, এমনকি তার মায়ের অসুস্থতার কথা বলে নেওয়া ধার বাবদ অর্থও তিনি পরিশোধ করেন।
পরবর্তীতে আঁখিকে বৈধ ভাবে সংসার করার কথা বললে আঁখি সাংবাদিক সাইফুল্লাহকে নানাভাবে চাপ প্রয়োগ করে বলে অভিযোগ। একপর্যায়ে সাইফুল্লাহকে দুষ্কৃতকারীদের দিয়ে হেনস্তা করা হয় এবং ভূয়া পুলিশ পরিচয়ে মারধরের ঘটনাও ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, রাজধানীর কাফরুল থানাধীন মিরপুর শাহ আলী মার্কেটের পেছনে একজন ভুয়া কাজী এনে কাবিননামায় ও সাদা কাগজে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়া হয়। এ ঘটনায় আবুল হোসেন সবুজ, গোল্ডেন আলী ওরফে সোহেল সরকার, আব্দুস সালাম, সুমন, ইমরান রনি, আলামিন ওরফে টিটু, রহমানসহ আরও ৮–১০ জন জড়িত ছিল বলে দাবি করা হয়।
ঘটনার পর থেকেই আফরোজা আক্তার আঁখির সঙ্গে সাংবাদিক সাইফুল্লাহর বিরোধ চলমান রয়েছে। একপর্যায়ে তিনি আদালতে আঁখি ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। এর জেরে আঁখিও পাল্টা কাউন্টার মামলা করে। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে আঁখি ও তার চক্রের বিরুদ্ধে একাধিক সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এই চক্র আবাসিক হোটেলে নারী দিয়ে দেহব্যবসা, মাদক ব্যবসাসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত।
সাইফুল্লাহ আরও জানান, আঁখির করা মামলার তদন্ত চলাকালে পিবিআই বনশ্রী শাখার এসআই ইয়াসিন মামলা তুলে নিতে চাপ প্রয়োগ করেন। এতে তিনি রাজি না হলে তাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেওয়া হয়। এর প্রতিবাদে এসআই ইয়াসিনের বিরুদ্ধে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয় এবং সংবাদমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশিত হয়।
পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে একের পর এক বিভিন্ন থানায় হয়রানিমূলক মামলা ও অভিযোগ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন সাংবাদিক সাইফুল্লাহ। গত বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি কাফরুল থানায় দায়ের করা একটি কথিত গণধর্ষণ মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদনে মামলাটি মিথ্যা প্রমাণিত হয় এবং তদন্ত কর্মকর্তা বাদীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করেন।
এদিকে, ১২ মে ২০২৫ তারিখে যাত্রাবাড়ী থানায় একটি মানবপাচার মামলা দায়ের হয়। ওই মামলার বাদী নাছিমা আক্তার। সাংবাদিক সাইফুল্লাহর দাবি, তার সঙ্গে ওই বাদীর কোনো পরিচয় নেই এবং মামলাতেও তিনি আসামি নন। অথচ দীর্ঘ সাত মাস পর, ২০ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে যাত্রাবাড়ী থানার মামলা নম্বর ৩৬-এর সূত্র ধরে ইন্সপেক্টর (অপারেশন) খালেদ হাসান তার নাম ও ঠিকানা উল্লেখ করে বাকেরগঞ্জ থানায় একটি অনুসন্ধান স্লিপ পাঠান।
এতে তার পারিবারিক ও সামাজিক সম্মান ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। প্রশ্ন তুলেছেন—যে মামলায় তার নাম নেই এবং যিনি তাকে ব্যক্তিগতভাবে চেনেন না, সেই ইন্সপেক্টর অপারেশন খালেদ হাসান তার নাম-ঠিকানা কোথা থেকে পেলেন? কারা বা কোন চক্র এই তথ্য সরবরাহ করেছে?
এই বিষয়ে সাংবাদিক সাইফুল্লাহ সকল সাংবাদিক সহকর্মী ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সঠিক তথ্য উদঘাটনের দাবি জানান। পাশাপাশি তিনি অনুরোধ করেন, যেন কোনো নিরপরাধ ব্যক্তিকে মিথ্যা মামলায় হয়রানি করা না হয়।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে যাত্রাবাড়ী থানার ওসি রাজু সাহেবের সরকারি মোবাইল নম্বর ০১৩০০৪০৫০৯ এবং ইন্সপেক্টর (অপারেশন) খালেদ হাসানের ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর ০১৭১২৬২০৯৫৩-এ ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি আসিফ হোসেন সন্ধ্যা ৫টা ২২ মিনিট ও ৫টা ২৩ মিনিটে একাধিকবার ফোন করলেও কেউ ফোন রিসিভ করেননি। এছাড়া ভুক্তভোগী সাংবাদিক সাইফুল্লাহ নিজেও যাত্রাবাড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ রাজু সাহেবের হোয়াটসঅ্যাপ নাম্বার গতকাল সময় দুপুর ১.৪৪ ও ১.৪৫ মিনিটে ফোন দিলে ফোন রিসিভ করেননি।