শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ০৭:৩৪ পূর্বাহ্ন
জুলাই বিপ্লবী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে উত্তাল রাজধানীর শাহবাগ চত্বর। তার লাশ সিঙ্গাপুর থেকে ঢাকায় পৌঁছানার পর মুহূর্তের মধ্যেই শোক আর ক্ষোভে ফেটে পড়েন শাহবাগে অবস্থানরত বিক্ষোভকারীরা। চারপাশজুড়ে প্রতিধ্বনিত হতে থাকে একটাই ধ্বনি—‘হাদি, হাদি’।
শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় হাদির লাশ দেশে পৌঁছানোর সংবাদ নিশ্চিত হওয়ার পর শাহবাগে অবস্থানরত আন্দোলনকারীরা আরও সংগঠিত হয়ে ওঠেন। কণ্ঠে বাড়ে প্রতিবাদের তীব্রতা, হাত উঁচু করে একের পর এক স্লোগান দিতে থাকেন তারা। কারও চোখে অশ্রু, কারও কণ্ঠে বজ্রকঠিন প্রত্যয়— সবার দৃষ্টি তখন একটাই, ওসমান হাদির শেষ যাত্রা ও তার হত্যার বিচার।
এ সময় আন্দোলনকারীরা ‘তুমি কে আমি কে— হাদি, হাদি’, ‘আমরা সবাই হাদি হবো— যুগে যুগে লড়ে যাবো’,
‘রক্তের বন্যায় ভেসে যাবে অন্যায়’, ‘হাদি ভাই মরলো কেন— ইন্টেরিম জবাব দে’, ‘আইজিপি জবাব দে, জাহাঙ্গীর জবাব দে’, ‘গোলামি না—আজাদী, আজাদী’ এবং ‘দিল্লি না—ঢাকা, ঢাকা’সহ নানা প্রতিবাদী স্লোগান দেন।
স্লোগানের ফাঁকে ফাঁকে বিক্ষোভকারীরা বলেন, হাদির হত্যার বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথ ছাড়বেন না।
শাহবাগে উপস্থিত শিক্ষক রহমত আলী বলেন, “হাদির লাশ এসেছে—এখন জবাব চাই। বিচার না হলে এই আন্দোলন থামবে না।”
জুলাই ভাস্কর্যের পাদদেশে জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সদস্যদেরও দেখা যায়। সবাই এক কণ্ঠে স্লোগান দিয়ে আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করছেন।
বিক্ষোভকারীদের দাবি, হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার দায় নিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে পদত্যাগ করতে হবে।
চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখসারির যোদ্ধা ওসমান হাদি পরে ‘ইনকিলাব মঞ্চ’ গড়ে তুলে ভারতীয় আধিপত্যবাদ ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে আলোচনায় আসেন। বিভিন্ন টেলিভিশনের টক শোতেও নিয়মিত আমন্ত্রণ পেতে থাকেন তিনি। তার যুক্তিতর্কের অনেক ক্লিপ সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। তিনি আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা–৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন।
গুলিবিদ্ধ হওয়ার মাসখানেক আগে হত্যার হুমকি পাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন ওসমান হাদি। তিনি গত নভেম্বরে নিজের ফেসবুক পেজে বলেছিলেন, দেশি-বিদেশি অন্তত ৩০টি নম্বর থেকে তাকে ফোনকল করে এবং মেসেজ পাঠিয়ে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। ওই পোস্টে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের ‘খুনি’ ক্যাডাররা তাকে সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখছে। তবে প্রাণনাশের আশঙ্কা সত্ত্বেও ইনসাফের লড়াই থেকে পিছিয়ে যাবেন না তিনি।
১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজের পর রাজধানীর বিজয়নগরের বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় প্রচারে যাওয়া ওসমান হাদিকে গুলি করে মোটরসাইকেলে আসা দুই সন্ত্রাসী। রিকশায় থাকা হাদি মাথায় গুলিবিদ্ধ হন। তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এরপর তাকে নেওয়া হয় এভারকেয়ার হাসপাতালে। অবস্থা গুরুতর দেখে সেখান থেকে হাদিকে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যায় সরকার। চিকিৎসকদের সর্বাত্মক চেষ্টার পরও মৃত্যুর সঙ্গে লড়াইয়ে হেরে যান হাদি। বৃহস্পতিবার রাতে তার মৃত্যুর খবর জানান চিকিৎসকরা।
৩৫০ শব্দের মধ্যে সংবাদ আকারে সাজিয়ে দাও