শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ০৯:২৭ পূর্বাহ্ন
অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবি মামলায় দুই আসামি গ্রেপ্তার, র্যাবের অভিযানে উদ্ধার ভুক্তভোগী
স্টাফ রিপোর্টার :
রাজধানীর বাড্ডা এলাকায় চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে এক যুবককে অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির ঘটনায় র্যাবের সহায়তায় দুইজন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পরিচালিত বিশেষ অভিযানে অপহরণকারী চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করে তাদের আটক করা হয়।
ভুক্তভোগী মোঃ মিরাজ সিকদারের ছোট ভাই মোঃ রিয়াজ সিকদার (৩৩) গত ১২ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে বাড্ডা থানাধীন এএমজেড হাসপাতালের পেছন থেকে অপহরণ হয় তাকে অপহরণ করে পূর্বাচল ২৬ নাম্বার লেনে নিয়ে যায়একটি টিনশেড কক্ষে অবৈধভাবে আটক হন। চাকরির ভাইভা দেওয়ার কথা বলে তাকে সেখানে ডেকে নেয় অভিযুক্তরা। পরে তার কাছে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
মুক্তিপণ দিতে অস্বীকৃতি জানালে অভিযুক্তরা ভুক্তভোগীকে এলোপাতাড়ি মারধর করে এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়। একপর্যায়ে জোরপূর্বক তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন থেকে বিকাশের মাধ্যমে এক হাজার ১৯০০ টাকা আদায় করা হয়। পরে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বড় ভাই মোঃ মিরাজ সিকদার বাড্ডা থানায় লিখিত অভিযোগ ও এজাহার দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু হলেও থানা পুলিশের পক্ষ থেকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় তিনি র্যাব-১ এর সহায়তা কামনা করেন।
র্যাব-১ এর এডিশনাল এসপি শহীদুল ইসলামের নেতৃত্বে ও তত্ত্বাবধানে একটি চৌকস আভিযানিক দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অপহরণকারী চক্রের অবস্থান শনাক্ত করে। পরবর্তীতে পরিচালিত অভিযানে দুইজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা হলেন—
• মোঃ সাগর আহম্মেদ রয়েল (৩২)
• মোঃ ওমর সানি রাব্বি (৩৫)
গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর বড় ভাই মোঃ মিরাজ সিকদার বলেন, “থানায় অভিযোগ করার পর র্যাব-১ দ্রুত পদক্ষেপ নেয়। তাদের অভিযানে অল্প সময়ের মধ্যেই আসামিদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। আমরা ন্যায়বিচারের আশা পাচ্ছি।”
এ ঘটনায় র্যাব ও পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করে স্থানীয়রা জানান, অপহরণ ও চাঁদাবাজির মতো গুরুতর অপরাধ দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এমন তৎপরতা জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
রেপ জানিয়েছে, মামলার সঙ্গে জড়িত পলাতক অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।