শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ০৭:২৯ পূর্বাহ্ন
রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতাল এখন কেবল একটি চিকিৎসাকেন্দ্র নয়, বরং বাংলাদেশের রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন দেশের রাজনীতির দুই ভিন্ন প্রজন্মের দুই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধি—বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদি।
গত ২৩ নভেম্বর থেকে বেগম খালেদা জিয়া এভারকেয়ার হাসপাতালের সিসিইউতে ভর্তি রয়েছেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে ভেন্টিলেটর সাপোর্টে নেওয়া হয়। ৭৯ বছর বয়সী এই নেত্রী দীর্ঘদিন ধরে লিভার সিরোসিস, কিডনি জটিলতা, ডায়াবেটিস, হৃদরোগসহ একাধিক রোগে ভুগছেন। গত ৫ ডিসেম্বর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে লন্ডনে নেওয়ার প্রস্তুতি থাকলেও চিকিৎসকদের বোর্ড দীর্ঘ ভ্রমণের ঝুঁকি বিবেচনায় শেষ মুহূর্তে সে সিদ্ধান্ত স্থগিত করে। বর্তমানে দেশি-বিদেশি চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত বোর্ডের নিবিড় পর্যবেক্ষণে তার চিকিৎসা চলছে।
এদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মাথায় গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন শরিফ ওসমান বিন হাদি। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, প্রকাশ্য দিবালোকে মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে অবস্থার অবনতি হলে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে রয়েছেন।
এই ঘটনায় দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৪ সালের সরকার পতনের সময় লুট হওয়া অস্ত্র এখনো পুরোপুরি উদ্ধার না হওয়ায় নির্বাচনের আগে সহিংসতার ঝুঁকি বেড়েছে। হামলার ঘটনায় পুলিশ সন্দেহভাজনদের ধরতে পুরস্কার ঘোষণা করলেও সমালোচকরা একে দেরিতে নেওয়া পদক্ষেপ বলে মনে করছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনমুখী বাংলাদেশে এমন দুটি ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা ও হাদির ওপর হামলা—এই দুই বিষয়ই এখন দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলছে। পুরো জাতির দৃষ্টি এখন এভারকেয়ার হাসপাতালের দিকে।