শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ০৭:১৩ পূর্বাহ্ন
নাগেশ্বরীর দুধকুমার নদীতে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে চলছে বালু লুটের মহোৎসব। রাতের আঁধারে নদীর বুক চিরে ড্রেজারের পাইপ, আর দিনের আলোয় চলছে ‘উন্নয়ন প্রকল্পের’ রাস্তাকাজ- এই দুই চিত্র এখন একে অপরের ছায়া। দুর্যোগ ঝুঁকি কমানোর কথা যে প্রকল্পের, সেই প্রকল্পই নদীভাঙনপ্রবণ চরাঞ্চলের মানুষের জীবন-বাসস্থানে নতুন ঝুঁকি তৈরি করছে- এ অভিযোগে ক্ষোভে ফুঁসছে কালীগঞ্জ ও নুনখাওয়া ইউনিয়নের মানুষ।
উন্নয়নের নামে নদী লুট- দুই প্রকল্পে বাজেট প্রায় ২ কোটি টাকা
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নাগেশ্বরীর কালীগঞ্জ ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে ভবান্দেরকুটি মনিরের মসজিদ থেকে শহিদুলের বাড়ি পর্যন্ত ১১৫০ মিটার এএইচবিবি রাস্তা নির্মাণে বরাদ্দ ৮০ লাখ ২ হাজার ৮৫৮ টাকা। এখানেও একইভাবে নদী থেকে বালু তুলে ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে কালীগঞ্জ ইউনিয়ন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি।
অন্যদিকে,কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের বটতলা বাজার ওয়াপদা বাঁধ থেকে ভাটি দিকদারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত রাস্তাটি সংস্কারে বরাদ্দ হয়েছে ৯৯ লাখ ৪ হাজার ১৭১ টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে ভোগডাঙ্গা ইউনিয়ন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের সহায়তায় মাটি দিয়ে রাস্তা সংস্কারের কথা থাকলেও বাস্তবে ব্যবহার করা হচ্ছে বালু- যা আনা হচ্ছে নাগেশ্বরীর নুনখাওয়া ইউনিয়নের দুধকুমার নদী থেকে।
গত ২৬ নভেম্বর ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকরা নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগের ভিত্তিতে ২ ডিসেম্বর সহকারী কমিশনার (ভূমি) বদরুজ্জামান রিশাদ অভিযান চালিয়ে অবৈধ উত্তোলন বন্ধ করে দেন এবং ঠিকাদার ও মেম্বারের কাছ থেকে মুচলেকা নেন।
কিন্তু বাস্তবে থামেনি ড্রেজার। প্রতিবেদকের অনুসন্ধানে দেখা যায়, নদীর মাঝখানে ড্রেজারের পাইপলাইনের কিছুই অপসারণ করা হয়নি। স্থানীয় এক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, কালিগঞ্জে দিনে মেশিন বন্ধ রাখে দেখানোর জন্য। রাতে আবার পুরোদমে চলে। সিন্ডিকেটকে কেউ থামাতে পারে না।
এবিষয়ে কালিগঞ্জ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রিয়াজুল হক প্রধানের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করার পরেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায় নি।
সদরে উপজেলার ভোগডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান বালু উত্তোলনের বিষয়ে বলেন,
এগুলো কাজ এভাবেই হয়। সদর ইউএনও সাহেব এসে মৌখিকভাবে অনুমতি দিয়েছেন।
কিন্তু এই বক্তব্য পুরোপুরি অস্বীকার করেন কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসমাইল হোসেন। তিনি সাফ জানিয়ে দেন এসবের কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি। বিষয়টি সম্পূর্ণ অবৈধ।
নাগেশ্বরী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বদরুজ্জামান রিশাদ জনকণ্ঠকে বলেন, অবৈধ উত্তোলন বন্ধ করেছি, মুচলেকা নিয়েছি। যদি আবার চালায়, কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আপনার মাধ্যমে জানলাম- আমরা এটা ব্যবস্থা নিচ্ছি।
কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ জনকণ্ঠকে বলেন, বিষয়টি আমি অবগত ছিলাম না। এখন জানলাম ব্যবস্থা নিচ্ছি।