শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ০৭:৩২ পূর্বাহ্ন
গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত ইব্রাহিম খলিল এখনো গাসিকে বহাল—কাদের ছায়ায় রক্ষা পাচ্ছেন এই চার্জশিটভুক্ত প্রকৌশলী?
শাপলা আক্তার
দুদকের চার্জশিট, আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা, সরকারের লিখিত নির্দেশনা—সবকিছুই আছে।
শুধু নেই পদক্ষেপ।
অভিযুক্ত কর্মকর্তা বহাল তবিয়তে অফিস করছেন, আর গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন (গাসিক) নীরব।
প্রশ্ন একটাই—
একজন ওয়ারেন্টভুক্ত প্রকৌশলীকে রক্ষা করার দায় কার?
ওয়ারেন্ট জারি—তারপরও সিটি কর্পোরেশনে নির্বিঘ্নে দিন কাটাচ্ছেন প্রকৌশলী খলিল
দুদক মামলা (নং ৮/২৩)–এর আসামি ইব্রাহিম খলিল ও তাঁর স্ত্রী হাজিরা এড়িয়ে যাওয়ার পর ২ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে আদালত তাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে (স্মারক ৯০৯৩, ৯০৯৪)।
ওয়ারেন্ট ১৭ নভেম্বর জয়দেবপুর থানায় নথিভুক্তও হয়েছে (স্বারক ৭৮৪০)।
কিন্তু ২৫ দিন পেরিয়েও গ্রেফতার তো দূরের কথা—একটি নোটিশ পর্যন্ত পাননি বলে দাবি করছে গাসিক!
এমন ব্যাখ্যাকে পর্যবেক্ষকরা বলছেন—
“এটি দাপ্তরিক অজুহাত, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নীরবতা।”
সরকারি নির্দেশ স্পষ্ট—তবুও কর্তৃপক্ষের রহস্যজনক নীরবতা
স্থানীয় সরকার বিভাগ ১৯ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে যে নির্দেশ দেয়, সেখানে এক বাক্যে বলা হয়—
> “চার্জশিটভুক্ত ইব্রাহিম খলিলকে সাময়িক বরখাস্ত ও অপসারণের ব্যবস্থা গ্রহণ করুন এবং দ্রুত অবহিত করুন।”
এই নির্দেশ ২৫ দিন ধরে উপেক্ষা করা হয়েছে।
সরকারি নির্দেশ অমান্য করলে সাধারণ কর্মচারীদের বিরুদ্ধে যেসব কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়, সেখানে একজন চার্জশিটভুক্ত প্রকৌশলীর ক্ষেত্রে কেন সম্পূর্ণ বিপরীত আচরণ?
গাসিকের ব্যাখ্যা—‘দাপ্তরিক কপি পাইনি’—এ কি সত্য, নাকি পরিকল্পিত গড়িমসি?
গাসিকের একটি অনানুষ্ঠানিক সূত্র দাবি করেছে যে পরোয়ানার কোনো অফিসিয়াল কপি নাকি তাদের কাছে পৌঁছেনি।
কিন্তু প্রশ্ন হলো—
থানায় ওয়ারেন্ট নথিভুক্ত,
আদালত আদেশ জারি করেছে,
স্থানীয় সরকার বিভাগ বরখাস্তের চিঠি দিয়েছে—
তাহলে গাসিক কার অনুমতি বা কোন কাগজের অপেক্ষায়?
এমন পরিস্থিতিকে পর্যবেক্ষকরা বলছেন—
“এটি প্রকৌশলীর প্রতি প্রাতিষ্ঠানিক প্রশ্রয়।”
দুদকের অভিযোগ—অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদ ও কোটি কোটি টাকার লেনদেন
চার্জশিটে উল্লেখ—
১ কোটি ৪৬ লাখ ৪৯ হাজার টাকার বেশি বৈধ আয়ের উৎসহীন সম্পদ
ব্যাংক হিসাবে ৮ কোটি ৭১ লাখ ৪১ হাজার টাকার বেশি সন্দেহজনক লেনদেন
এ অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁর বিরুদ্ধে দুদক আইন ২০০৪ এর ২৭(১) এবং দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় মামলা চলছে।
এমন অবস্থায়ও তিনি গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) হিসেবে ক্ষমতা, পদ, সুবিধা সবই ভোগ করছেন।
প্রশ্নগুলো এখন সোজাসুজি তিনটি জায়গায় গিয়ে ঠেকেছে
১. গাসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নির্দেশনা না মেনে কার স্বার্থ রক্ষা করছেন?
২. চার্জশিট ও ওয়ারেন্ট থাকা সত্ত্বেও একজন কর্মকর্তাকে কাদের সহায়তায় পদে রাখা হয়েছে?
৩. সরকারের নির্দেশনা অমান্যের পরও গাসিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দেরি কেন?
কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের দাবিতে চাপ বাড়ছে
দুর্নীতিবিরোধী সংগঠনগুলোর ভাষ্য—
“চার্জশিটভুক্ত ও ওয়ারেন্টভুক্ত একজন কর্মকর্তা স্বপদে থাকা—এটি প্রশাসনিক শৃঙ্খলার সরাসরি অপমান।”
তাঁদের দাবি:
অবিলম্বে বরখাস্ত
অপসারণের প্রক্রিয়া শুরু
এবং নির্দেশ অমান্যকারী গাসিক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা গ্রহণ করা অতি জরুরী।