শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ০৭:৩৩ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম :
জাতীয় স্মৃতিসৌধে আশুলিয়া থানা প্রেস ক্লাবের সাংবাদিক পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত আওয়ামী প্রতিহিংসার শিকার তিতাস গ্যাস কর্মচারী শ্রমিক দল নেতা চাকরিচ্যুত শওকত ইমামের মানবেতর জীবনযাপন। বাকেরগঞ্জে উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, সাংবাদিকের নিরাপত্তা ও মালিকানার সংকট পঞ্চগড়ে গ্রাম আদালত কার্যক্রম শক্তিশালী করতে অর্ধ-বার্ষিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত। রাজশাহী প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দের সাথে রাসিক প্রশাসকের মতবিনিময় নির্মাণাধীন মসজিদুল আকবর কমপ্লেক্সের ছাঁদ ধসে ক্ষয়ক্ষতি ! কন্ট্রাকটর ও প্রকৌশলীর গাফিলতির অভিযোগ !! প্রেমের অনন্য উপাখ্যান: কাপাসিয়ায় মালয়েশিয়ান তরুণী হাফিজা ও রাকিবের বিয়েতে নায়িকা প্রিয়াংকা ফোরকান মাস্টারকে ঘিরে অপপ্রচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সত্য, মানবিকতা ও সামাজিক সম্প্রীতির পক্ষে এলাকাবাসীর আহ্বান গংগাচড়ায় শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কার্যকরী পরিষদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত মানবিক সহায়তার আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে জি.আর চাল বিতরণ কোরবানির ঈদে পশুর সংকট নেই, ভারতীয় গরু ঠেকাতে কঠোর নজরদারি: সাভারে মন্ত্রী আমিন উর রশিদ আগরদাঁড়ি ইউনিয়ন আমীরসহ তিন মরহুমের জানাজায় শোকাবহ পরিবেশ কুচক্রী মহলের ষড়যন্ত্রে মিকাইল বিশ্বাসকে ঠেকানো যাবে না বললেন এলাকার সাধারণ জনগণ গাজীপুরে জুতা কারখানায় আগুন ভোলায় ৫০০ গ্রাম গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক, ৩ মাস ৭দিনের কারাদণ্ড। আত্রাইয়ে অভ্যন্তরীণ বোরো ধান-চাল সংগ্রহের শুভ উদ্বোধন মুরাদনগরে মাদকবিরোধী অভিযানে বিদেশি মদ, ইয়াবা ও নগদ টাকাসহ আটক ২ গাজীপুরে টিকটক করতে গিয়ে ট্রেনের ধাক্কায় প্রাণ গেল ২ এসএসসি পরীক্ষার্থীর গাজীপুরে আলোচিত ৫ খুন: সেই ফোরকানের মরদেহ উদ্ধার পদ্মা নদীতে ঈদুল আযহা উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার চাল বিতর অনিয়মে জিরো টলারেন্সের ঘোষণা গাজীপুরের তুরাগ নদীতে তলিয়ে যাওয়া বন্ধুকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ গেল দুই কিশোরের মেয়ে থেকে ছেলেতে রূপান্তরিত নূরনবীকে দেখতে জনতার ভিড়! বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোসলেহ, সম্পাদক শামীমা পারভীন রাণীশংকৈলে ৪ বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা, ধর্ষক কিশোর গ্রেপ্তার প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিবের আস্থাভাজন ছাত্রনেতা তানভীর অসুস্থ, দোয়া কামনা ২০৬ পিস ইয়াবাসহ ঢাকা জেলা ডিবি (উত্তর)-এর পৃথক অভিযানে গ্রেফতার ৫ মাদক ব্যবসায়ী সাতকানিয়ায় ২স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে আটক-৪!ভিকটিমদেরকে উদ্ধার। আটিগ্রাম ভূমি অফিসের ছত্রছায়ায় চলছে অবৈধ ড্রেজার ও মাটি বাণিজ্য কৃষিজমি ধ্বংসের অভিযোগ, প্রশাসনের নীরবতায় ক্ষোভ স্থানীয়দের
জরুরী নোটিশ :
জরুরী নোটিশ এবং সতর্কবার্তা ""গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক  মিডিয়া ভুক্ত পত্রিকা দৈনিক আমার প্রাণের বাংলাদেশে কর্তব্যরত সকল সাংবাদিকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি ।  কিছু কুচুক্তি মহল বিভিন্ন গণমাধ্যমের আইডি কার্ড নকল করে বিভিন্ন প্রকার অপরাধে জড়াচ্ছে কিছুদিন পর পর পত্রিকার এসব খবরে আমরা বিভ্রান্ত। এরকম বেশ কয়েকজন অপরাধী দৈনিক আমার প্রাণের বাংলাদেশ পত্রিকার আইডি কার্ড নকল করেছে এমন প্রমাণিত হওয়াতে আমরা তাদের বিরুদ্ধে  তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা নিয়েছি। এবং সংবাদ প্রকাশ করে এসব অপরাধীদের সাথে আমাদের কোন সম্পর্ক নাই বলে আমরা ঘোষণা দিয়েছি।  সেই সাথে আমরা আমাদের প্রদত্ত বিগত দিনের সকল আইডি কার্ড পরিবর্তন করে স্ক্যানিং কোড সিস্টেম করে নতুন আঙ্গিকে আইডি কার্ড তৈরি করেছি।  দৈনিক আমার প্রাণের বাংলাদেশে কর্তব্যরত সকল সাংবাদিকদের কে সম্মানের সাথে জানাচ্ছি আপনারা  আপনাদের পুরনো আইডি কার্ড পত্রিকা অফিসে জমা দিয়ে সেই সাথে নতুন করে ভোটার আইডি কার্ড এবং  আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতার সকল সনদের সত্যায়িত ফটোকপি সহ জমা দিয়ে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে নতুন আইডি কার্ড সংগ্রহ করার জন্য নির্দেশ দেয়া গেল। পত্রিকা কর্তৃপক্ষের এই নির্দেশ যারা অমান্য করবে তাদেরকে পত্রিকা কর্তৃপক্ষ বহিষ্কৃত বলে গণ্য করবেন। আপনাদের জ্ঞাতার্থে আরও জানাচ্ছি যে  গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়ের নির্দেশক্রমে সাংবাদিকদের শিক্ষাগত যোগ্যতার মান নির্ণয় সহ সাংবাদিকদের ডাটাবেজ তৈরি করছেন, মাননীয় সাবেক বিচারপতি প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ইতিমধ্যে এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিবৃতি দিয়েছেন। পুনরায় আপনার ভোটার আইডি কার্ড এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা অভিজ্ঞতার সনদ সকল কিছু সত্যায়িত করে নতুনভাবে দৈনিক আমার প্রাণের বাংলাদেশ পত্রিকার   কর্তৃপক্ষকে জমা দিয়ে পুরনো কার্ডটি ফেরত দিয়ে নতুন আইডি কার্ড নেওয়ার জন্য নির্দেশ রইল।  আদেশক্রমে --আব্দুল্লাহ আল মামুন--প্রকাশক ও সম্পাদক--দৈনিক আমার প্রাণের বাংলাদেশ ।

মানুষের শরীরের প্রতিটি অঙ্গই জন্ম নেয় বিস্ময়কর শিল্পকর্ম হিসেবে

প্রাণের বাংলাদেশ ডেস্ক: / ৩৯ Time View
Update : শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ০৭:৩৩ পূর্বাহ্ন

মানুষের শরীরের প্রতিটি অঙ্গই জন্ম নেয় বিস্ময়কর শিল্পকর্ম হিসেবে
প্রাণের বাংলাদেশ ডেস্ক:

জন্মের আগে ভ্রূণ অবস্থায় নানা ধাপে ধাপে শরীরের গঠন সম্পন্ন হয়। সেই প্রক্রিয়ার অনেক চিহ্ন আমাদের শরীরে রয়ে যায় আজীবন।
যেমন আমাদের ঠোঁটের মাঝখানে সূক্ষ্ম একটি দাগ, বা বুকের মাঝখানে হাড়ের সংযোগরেখা। ঠিক তেমনই পুরুষদের অন্ডকোষের নিচে মাঝ বরাবর চলে যাওয়া সেলাইয়ের মতো দাগটি অনেকের মনেই নানান প্রশ্নের জন্ম দেয়।
কেউ কেউ একে ভুল করে অস্ত্রোপচারের দাগ মনে করেন, আবার কেউ ভাবে এটি কোনো আঘাতের চিহ্ন। কিন্তু আসলে এটি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক একটি গঠন, যার বৈজ্ঞানিক নাম স্ক্রোটাল রাফে বা Scrotal Raphe।
এই দাগ শুধু অন্ডকোষেই নয়, লিঙ্গের নিচে ও পেরিনিয়াম অঞ্চল পর্যন্ত টানা অবস্থায় দেখা যায়। কেন এটি তৈরি হয়, এর কাজ কী এবং এর সাথে কোনো স্বাস্থ্য সমস্যা যুক্ত আছে কি না এসব প্রশ্নের উত্তর নিয়েই আজকের আলোচনা।
ভ্রূণ অবস্থার গঠনপ্রক্রিয়া
একজন পুরুষ শিশুর জন্ম হওয়ার আগে, ভ্রূণ অবস্থায় তার যৌনাঙ্গ গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। গর্ভধারণের প্রথম দিককার সপ্তাহগুলোতে ভ্রূণের যৌনাঙ্গ তখনো নির্দিষ্টভাবে ছেলে বা মেয়ে হিসেবে পার্থক্য করা যায় না। উভয়ের ক্ষেত্রেই থাকে দুটি ল্যাবিওস্ক্রোটাল ফোল্ডস নামের ভাঁজের মতো গঠন। মেয়েদের ক্ষেত্রে এই ভাঁজ দুটি আলাদা থেকে গিয়ে পরবর্তীতে বাহ্যিক যোনি ঠোঁট বা ল্যাবিয়া তৈরি করে। কিন্তু ছেলেদের ক্ষেত্রে এই দুটি ভাঁজ মাঝ বরাবর একত্র হয়ে যায় এবং একটি থলের মতো অঙ্গ তৈরি করে, যাকে আমরা বলি অন্ডথলি বা স্ক্রোটাম।
এই ভাঁজ দুটি যখন মাঝ বরাবর মিলিত হয়, তখন সেখানে একটি দাগ থেকে যায়। সেই দাগই হলো স্ক্রোটাল রাফে। অর্থাৎ এটি আসলে ভ্রূণ অবস্থার এক ধরনের ডেভেলপমেন্টাল সেলাই যেন দুটি কাপড় সেলাই করলে যেখানে সেলাইয়ের দাগ দেখা যায়, তেমনই একটি দাগ শরীরে থেকে যায় আজীবন।
স্ক্রোটাল রাফের গঠন ও অবস্থান
বাইরে থেকে যেটি আমরা দাগ হিসেবে দেখি, তার ভেতরে রয়েছে একটি আঁশযুক্ত ঝিল্লি বা বিভাজক, যাকে বলা হয় স্ক্রোটাল সেপটাম। এটি অন্ডথলিকে দুটি ভাগে বিভক্ত করে, বাম পাশে একটি টেস্টিস এবং ডান পাশে আরেকটি। ফলে একটি টেস্টিসে কোনো সমস্যা হলে সেটি অপর টেস্টিসে সরাসরি ছড়াতে পারে না।
এই বিভাজন প্রকৃতির এক অসাধারণ কৌশল। শরীরের বাম ও ডান দিক আলাদা করে রাখার প্রবণতা আমরা অনেক জায়গাতেই দেখি, যেমন দুটি ফুসফুস আলাদা থাকে, দুটি কিডনি আলাদা থাকে। তেমনি অন্ডকোষকেও পৃথক রাখতে এই সেপটাম সাহায্য করে। আর বাইরের চামড়ার উপর এই সেপটামের চিহ্নই হলো রাফে, যেটি অনেকের ক্ষেত্রে গাঢ় দাগের মতো দেখা যায়, আবার কারও ক্ষেত্রে হালকা বা অস্পষ্ট থাকে।
স্ক্রোটাল রাফের কাজ কী?
অনেকেই প্রশ্ন করেন, এই দাগের কোনো প্রয়োজন আছে কি না। চিকিৎসাবিদ্যা অনুযায়ী, রাফে নিজে থেকে কোনো বিশেষ শারীরবৃত্তীয় কাজ করে না। এটি মূলত ভ্রূণ অবস্থার ফিউশনের ফল। তবে এর ভেতরে থাকা সেপটাম খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি প্রতিটি অন্ডকোষকে আলাদা কক্ষের মধ্যে রাখে। এর ফলে কিছু সুফল পাওয়া যায়—
কোনো সংক্রমণ হলে সেটি অপর টেস্টিসে সহজে ছড়ায় না।
টেস্টিস মোচড় খেয়ে বা টর্সন হলে তা সাধারণত একপাশে সীমাবদ্ধ থাকে।
গঠনগতভাবে প্রতিটি টেস্টিসকে সাপোর্ট দিয়ে রাখে।
তবে এটাও সত্য, রাফে এবং সেপটাম না থাকলেও জীবনযাত্রায় বড় কোনো সমস্যা হতো না। তাই অনেক বিশেষজ্ঞ বলেন, এটি মূলত এক ধরনের বিকাশজনিত স্মারক, যা মানুষের জন্ম প্রক্রিয়ার ইতিহাস বহন করে।
বৈচিত্র্য ও স্বাভাবিক ভিন্নতা
সব মানুষের রাফে একই রকম হয় না। কারও ক্ষেত্রে এটি স্পষ্টভাবে গাঢ় রেখার মতো দেখা যায়, কারও ক্ষেত্রে হালকা বা ভাঙা ভাঙা থাকে। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে এটি সামান্য বেঁকে থাকে, যাকে বলে রাফে ডেভিয়েশন। বেশিরভাগ সময় এগুলো কেবল বাহ্যিক ভিন্নতা, কোনো অসুবিধা সৃষ্টি করে না।
কিছু শিশু জন্মের পর অস্বাভাবিকভাবে বেঁকে যাওয়া রাফে নিয়ে জন্মায়, যা মাঝে মাঝে হাইপোস্পাডিয়াস নামের জন্মগত সমস্যার সাথে যুক্ত থাকতে পারে। হাইপোস্পাডিয়াস হলো একটি অবস্থা যেখানে মূত্রনালী স্বাভাবিক স্থানে না থেকে লিঙ্গের নিচে কোনো জায়গায় খুলে যায়। গবেষণায় দেখা গেছে, রাফে বেঁকে থাকলে শিশুর ক্ষেত্রে হাইপোস্পাডিয়াস হওয়ার ঝুঁকি সামান্য বাড়তে পারে।
রাফে-সংক্রান্ত সমস্যা: মেডিয়ান রাফে সিস্ট
যদিও রাফে সাধারণত নিরীহ, মাঝে মাঝে এখানে ছোট ছোট গুটি বা সিস্ট দেখা দিতে পারে। একে বলা হয় মেডিয়ান রাফে সিস্ট। এটি একটি জন্মগত সমস্যা, যেখানে ভ্রূণ অবস্থায় সঠিকভাবে ফিউশন না হওয়ার কারণে ভেতরে ক্ষুদ্র থলির মতো জায়গা থেকে যায় এবং পরে তরল জমে সিস্ট তৈরি করে।
এই সিস্ট সাধারণত ছোট হয় এবং তেমন সমস্যা করে না। তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে এটি ফুলে উঠতে পারে, ব্যথা হতে পারে বা ইনফেকশন হতে পারে। তখন চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হয়। চিকিৎসা সাধারণত অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সিস্ট কেটে ফেলা। তবে সিস্ট যদি ছোট এবং কোনো সমস্যা না করে, তাহলে চিকিৎসকরা প্রাথমিকভাবে শুধু পর্যবেক্ষণ করার পরামর্শ দেন।
চিকিৎসকদের দৃষ্টিভঙ্গি
চিকিৎসকরা সাধারণত রোগীদের বোঝান যে স্ক্রোটাল রাফে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক একটি বিষয়। এটি অস্ত্রোপচারের দাগ নয়, আবার যৌন রোগের কোনো চিহ্নও নয়। তবু অনেকেই লজ্জা বা অজ্ঞতার কারণে চিকিৎসকের কাছে প্রশ্ন করেন না। ফলে ভুল ধারণা থেকে যায়। আধুনিক স্বাস্থ্যশিক্ষায় এখন রোগীদের বোঝানো হয় রাফে মানুষের ভ্রূণ অবস্থার এক স্থায়ী চিহ্ন, যা প্রত্যেক পুরুষের শরীরেই থাকে।
কেবল তখনই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া দরকার যখন রাফের জায়গায় ব্যথা, অস্বাভাবিক গুটি, ক্ষত বা কোনো ধরনের নিঃসরণ দেখা দেয়। এগুলো অন্য কোনো সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে, যা চিকিৎসার দাবি রাখে।
সামাজিক দৃষ্টিকোণ ও মানুষের কৌতূহল
সাধারণ মানুষের চোখে রাফে দেখতে অনেকটা সেলাইয়ের দাগের মতো লাগে। তাই অনেকেই ভুল করে মনে করেন জন্মের সময় বা খতনার সময় হয়তো সেলাই করা হয়েছিল। আবার কেউ কেউ মনে করেন এটি যৌনরোগের ফল। এই ভুল ধারণাগুলো ভাঙতে স্বাস্থ্যসচেতনতার প্রয়োজন আছে।
আসলে আমাদের শরীরে আরও অনেক জায়গায় এ ধরনের দাগ রয়েছে, যেমন ঠোঁটের মাঝখানে ছোট্ট দাগ, কিংবা জিহ্বার নিচের ত্বকের ভাঁজ। এগুলো সবই ভ্রূণ অবস্থার গঠনের চিহ্ন। তাই স্ক্রোটাল রাফেও এক ধরনের প্রাকৃতিক দাগ যা কোনোভাবেই অস্বাভাবিক নয়।
অ্যানাটমি ও ভ্রূণবিদ্যার পাঠ্যপুস্তকে স্পষ্টভাবে লেখা আছে, স্ক্রোটাল রাফে তৈরি হয় ল্যাবিওস্ক্রোটাল ফিউশন থেকে। এটি প্রকৃতির একটি প্রমাণ, যে শুরুতে নারী-পুরুষের ভ্রূণ একইরকম কাঠামো নিয়ে শুরু হয়, পরে হরমোনের প্রভাবে ধীরে ধীরে ভিন্ন পথে বিকশিত হয়। পুরুষ ভ্রূণে টেস্টোস্টেরন হরমোনের প্রভাবে ভাঁজ দুটি একত্র হয়ে স্ক্রোটাম তৈরি করে। আর নারীতে এই ভাঁজ দুটি আলাদা থেকে যায় এবং যোনি ঠোঁট গঠন করে।
অর্থাৎ, রাফে কেবল একটি শারীরবৃত্তীয় দাগ নয়, বরং মানুষের ভ্রূণগত ইতিহাসের জীবন্ত সাক্ষ্য। এটি মনে করিয়ে দেয় আমাদের শরীরের প্রতিটি অংশ কতটা জটিল ও চমৎকার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে তৈরি হয়েছে।
অন্ডকোষের মাঝ বরাবর সেলাইয়ের মতো দাগ আমাদের শরীরের একেবারেই স্বাভাবিক ও প্রাকৃতিক একটি বৈশিষ্ট্য, যার নাম স্ক্রোটাল রাফে। এটি তৈরি হয় ভ্রূণ অবস্থায় ল্যাবিওস্ক্রোটাল ফোল্ডস মিলিত হওয়ার ফলে। এর ভেতরে থাকে স্ক্রোটাল সেপটাম, যা দুটি টেস্টিসকে আলাদা করে রাখে। যদিও রাফে নিজে থেকে বিশেষ কোনো কাজ করে না, তবুও এর ভেতরের সেপটাম টেস্টিসের সুরক্ষায় ভূমিকা রাখে ।
রাফে নিয়ে ভয়ের কিছু নেই। এটি অস্ত্রোপচারের দাগ নয়, যৌনরোগের ফলও নয়। তবে যদি সেখানে অস্বাভাবিক ফোলা, ব্যথা বা গুটি দেখা দেয়, তখন অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। সবশেষে বলা যায়, স্ক্রোটাল রাফে মানুষের ভ্রূণ বিকাশের এক চিরস্থায়ী দাগ, একটি প্রাকৃতিক সেলাই যা আমাদের শরীরের জটিল গঠনের ইতিহাস বহন করে। এটি নিয়ে অকারণে দুশ্চিন্তা করার কিছু নেই বরং শরীরের এই স্বাভাবিক চিহ্নটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় জীবনের রহস্যময় সৌন্দর্য।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *