শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ০৮:২৯ পূর্বাহ্ন
মানুষের দেহে এক লক্ষ কিমির নীরব মহাবিশ্ব এবং সেখানে লুকানো আল্লাহর নিদর্শন
মাওলানা আহমদ উল্লাহ:
কখনো কি আমরা নিজের বুকে হাত রেখে ভেবেছি ‘
আমাদের ভেতর الآن, এই মুহূর্তে, কী চলছে?
আমাদের অজান্তে, ইচ্ছার বাইরে, শরীরের গভীরে বয়ে যাচ্ছে এক বিস্ময়কর নদী—
রক্তের নদী।
আর সেই নদী ছুটছে এমন এক নালীপথ ধরে,
যার মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ১,০০,০০০ কিলোমিটার।
হ্যাঁ আপনি ঠিক শুনছেন, এক লক্ষ কিলোমিটার!
এতটাই লম্বা যে— চাইলেই পৃথিবীকে আড়াই বার পেঁচিয়ে আসতে পারে।
আমাদের দেহের প্রতিটি কোষ—প্রায় ৩৭ ট্রিলিয়ন কোষ— সকলেই জীবিত শুধু একটি কারণে:
রক্তনালী নামের সেই নীরব সড়কগুলো সবসময়
আমাদের বাঁচিয়ে রাখছে আল্লাহর ইচ্ছায়।
এই রক্তনালীর তিনটি স্তর:
ধমনী (Arteries) — হৃদয় থেকে রক্ত ছুটে বের হয়
শিরা (Veins) — রক্ত ফিরে আসে হৃদয়ে
কেশিকা (Capillaries) — সবচেয়ে সূক্ষ্ম নালী
প্রতিটি কোষের দরজায় গিয়ে অক্সিজেন ও পুষ্টি পৌঁছে দেয়। এর সংখ্যা কয়েক বিলিয়ন,
পুরো নেটওয়ার্কের বড় অংশ কেশিকানালী দিয়ে তৈরি
এ কেশিকাগুলোর ব্যাস মানব চুলের থেকেও ৩০ গুণ পাতলা।
কিন্তু সব মিলিয়ে নেটওয়ার্ক এত বিশাল যে তার দৈর্ঘ্য, একজন মানুষ কখনো চোখে দেখতে পারবে না।
এই নেটওয়ার্ক কে চালায়? আমি তুমিই কি?
আমার তোমার ইচ্ছা কি রক্তনালীর দিক নির্ধারণ করে?
আমি, তুমি ঘুমালে নালী বন্ধ হয়ে যায়?
আমি তুমি তুমি চাইলে রক্তপ্রবাহ বন্ধ হয়?
আমাদের কোনো নিয়ন্ত্রণ আছে এক ফোঁটাতেও?
না।
ভাবুন কুরআনের এই বাণীর তাৎপর্য
আল্লাহ তাআলা বলেন—
“وَفِي أَنفُسِكُمْ ۚ أَفَلَا تُبْصِرُونَ”
“আর তোমাদের নিজের মধ্যেই (আমার নিদর্শন রয়েছে); তবুও কি তোমরা দেখ না?”
এত সূক্ষ্ম ব্যবস্থা, এত নিখুঁত সমন্বয়—এটা কি কাকতালীয়?
প্রতিদিন আমাদের হৃদয় প্রায় ১,০০,০০০ বার ধুক্ ধুক্ করে, আর প্রতি মিনিটে প্রায় ৫ লিটার রক্ত পাম্প করে, এই এক লক্ষ কিমির পথচলায়।
এ রক্ত প্রতিদিন আমাদের দেহে প্রায় ৭২,০০০ বার ভ্রমণ করে ,যেন একটি অবিরাম সার্কিট।
আমারা ঘুমায়, হতাশ হয়, কাঁদি, আনন্দ করি—
সবই চলে, কিন্তু রক্তের স্রোত থেমে থাকে না।
বিজ্ঞানীরা বলেন—
যদি রক্তনালীর ব্যাস ৫% হলেও কম-বেশি হয়ে যেত, মানবজাতি বেঁচে থাকতে পারত না।
একটি ছোট কেশিকা যদি বন্ধ হয়ে যায় চোখ অন্ধ হয়ে যেতে পারে। একটি ক্ষুদ্র আর্টারি ফেটে গেলে মানুষ মুহূর্তে মৃত্যুর মুখে চলে যায়। এতোই নাজুক আমরা।
আর এই নাজুকতাকেই রক্ষা করে
আল্লাহর অসীম রহমত।
“فَبِأَيِّ آلَاءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ؟”
তোমরা তোমাদের রবের কোন কোন অনুগ্রহ অস্বীকার করবে?