শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ০৭:৩১ পূর্বাহ্ন
উত্তরা হাউজবিল্ডিংয়ে ফুটপাত দখলের মহোৎসব
(প্রশাসন নীরব, অসাধু পুলিশি ছত্রছায়ার দখল বাজরা দখল করছে বলে অভিযোগ উঠেছে)
রবিউল আলম রাজু
রাজধানীর উত্তরা হাউজবিল্ডিং ট্রাফিক পুলিশ বক্সের পূর্বপাশে এখন প্রায় পুরোপুরিই পরিণত হয়েছে অবৈধ দোকানপাটের বেপরোয়া দখলদারিত্বের অভয়ারণ্যে। পথচারীদের চলাচলের জন্য নির্ধারিত ফুটপাত দখল করে গড়ে উঠেছে অসংখ্য দোকান, স্টল এবং ভ্রাম্যমাণ ব্যবসার সারি। প্রতিদিন হাজারো মানুষের চলাচল থাকা সত্ত্বেও প্রশাসন নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে—এমনই অভিযোগ স্থানীয়দের। হাউজবিল্ডিং এর প্রধান সড়কের পাশের বিল্ডিং মালিকগন ফুটপাত থেকে নিয়মিত টাকা পয়সা পায় বলে জানা যায়। সরকারি কোয়ার্টার সংলগ্ন পুলিশ বক্সের আশেপাশে এসব ফুটপাত দখল হওয়ার কারণে বিশাল বিপাকে পড়েছে এখান থেকে চলাচলকৃত হাজার হাজার মানুষ।। প্রধান সড়কের উপর মাছের বাজার থেকে শুরু করে ফলমূল সবজি এমন কিছু নেই যা এখানে বিক্রি হয় না, আপাত দৃষ্টিতে দেখলে মনে হবে দ্বিতীয় কাওরান বাজার এখন হাউজ বিল্ডিং এলাকায়। হাউজ বিল্ডিং এলাকার পূর্ব পাশের এনসিসি ব্যাংকের নিচে রয়েছে বেশ কয়েকটি ভ্রাম্যমান সিগারেটের দোকান এসব দোকানে নিয়মিত মাদকসহ অনেক কিছু বিক্রি হয় তাদের সিন্ডিকেট অনেক বড় এসব বিষয় নিয়ে তাদের সাথে কথা বললে তারা জানায় সংবাদ করলে খবর আছে।
অবস্থার আরও উদ্বেগজনক দিক হলো, এই অবৈধ দোকানপাটের মাত্র কয়েক কদম দূরেই রয়েছে উপ-পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়, এসবি কোয়ার্টার, সশস্ত্র পুলিশ সদস্যদের ব্যারাক, স্কুল-কলেজ এবং হাসপাতালে যাওয়া-আসার প্রধান পথ। সর্বোচ্চ নিরাপত্তার এলাকায় এমন অবৈধ দখল দিন দিন ভয়াবহ আকার ধারণ করলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ক্ষুব্ধ পথচারীরা জানিয়েছেন, ফুটপাত পুরোপুরি দখল হয়ে যাওয়ায় প্রতিদিনই তাদেরকে রাস্তায় নেমে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে, পাশাপাশি তৈরি হচ্ছে যানজট। পথচারীদের ভাষ্য—
“প্রশাসন চোখে যেন কাঠের চশমা পরে আছে। পাশে পুলিশ অফিস, তবুও ফুটপাত দখল মুক্ত হয় না কেন?”
এসময় অভিযোগ উঠে এসেছে—কিছু অসাধু পুলিশ সদস্যের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ আশ্রয়েই এই ফুটপাত দখল চলে। দোকানগুলো নিয়মিত টাকা দেয় বলেই নাকি দখলকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান হয় না।
এই বিষয়ে জানতে উত্তরা পূর্ব থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি)-এর ব্যক্তিগত নম্বরে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কোনো কল রিসিভ করেননি।
স্থানীয়রা দ্রুত ফুটপাত দখলমুক্ত করার জন্য প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। তারা বলছেন,
“এলাকায় স্কুল-কলেজ ও হাসপাতাল আছে। নারী-শিশু-বৃদ্ধ কারও নিরাপত্তা নেই। এখনই ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে।