লাখো শহীদের রক্তে কেনা, দেশটা কারো বাপের না
মাছুম কাজী :
১৪০০ প্রাণের তাজা বলিদান দিয়ে বর্ষা বিপ্লবে আমরা ডাইনিটাকে তাড়িয়েছি—
এটা ইতিহাস।
এবার দেশের পুনর্গঠনের সময়,
সংস্কারের সময়, সোজা হয়ে দাঁড়ানোর সময়।
বর্ষা বিপ্লবের সময় কী জোরে শ্লোগান উঠেছিলো মনে আছে?
“লাখো শহীদের রক্তে কেনা, দেশটা কারো বাপের না!”
হাসিনা পালালো ঠিকই কিন্তু পরিবারতন্ত্রের জমিদারি রাজনীতি? ও মা, সে তো এখনো পুরনো ভাঁড়ের মতোই বসে আছে! এক সময় বাংলায় জমিদারদের এমন দাপট ছিলো—জমিদার বাড়ির সামনে দিয়ে হাঁটার সময়লোকজন ছাতার হাতল বগলদাবা করতো,
জুতা খুলে হাতে নিয়ে যেতো…মানে, “স্যালুট” দেওয়ার আরেক ভার্সন—
জুতাস্যালুট!
জমিদারি গেছে ঠিকই,
কিন্তু গোলামী মানসিকতা?
হায় হায়… সেটা যে এখনো গা থেকে খসে না!
নেতার ছেলে নেতা,
এমপি’র ছেলে এমপি—
গরিব মানুষের ছেলেমেয়ে নাকি শুধু ভোটার হিসেবেই ভালো!
দুনিয়া নাসা বানিয়ে মহাশূন্যে ঘুরছে,
আর আমাদের দেশে এখনো বিশ্বাস—
“যোগ্যতা লাগে না, বাপের নাম হলেই চলবে।”
গলায় তো আর গন্ডবেড়ী নেই,
কিন্তু মনের বেড়ীর তালা খুলতে যেনো কেউ রাজি নয়।
ইন্টারমিডিয়েট টেনেটুনে পাশ দেয়া ছেলেটা
যার নিজের খরচ নিজে চালানোর অভিজ্ঞতা নেই,
সে নাকি চালাবে ১৮ কোটি মানুষের দেশ!
বাবা রে…
মগজটা কি সত্যিই ভাড়ায় দিয়ে রেখেছো?
ছবির ছাগলটার লেদাতেও মনে হয় একটু বেশি প্রজ্ঞা আছে!
আর মজার ব্যাপার হলো—
আগে “হাম্বালীগের লোকেরা” এসে গালি দিতো,
এখন “খাম্বার লোকেরা” সেই দায়িত্ব নিয়েছে।
গালাগালি দেখলেও খারাপ লাগে না এই ভেবে,
গান্ডুদের অন্তত লেখার চর্চা তো হচ্ছে!
ভাগ্যিস তা না হলে এই খাম্বাগুলো তো
বাংলা লেখাই ভুলে যেতো।
কিন্তু যে “বিলাতি রাজকুমার” দূর থেকে এসে
এই গড়ার পথে বাঁশ দিয়ে যায়—
তার প্রতি আমার অনুকম্পা নেই মোটেও।
যে শহীদের রক্তকে তাচ্ছিল্য করে,
তার বিরুদ্ধে আমার সংগ্রাম
চলেছিলো…
চলছে…
চলতেই থাকবে।