শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ০৭:৩০ পূর্বাহ্ন
ভুঁইফোড় সাংবাদিক ও সংগঠকের দৌরাত্ম্যে অতিষ্ঠ পেশাজীবি সাংবাদিক
শের ই গুল
দেশজুড়ে ভুঁইফোড় সাংবাদিক ও সংগঠকের দৌরাত্ম্যে অতিষ্ঠ পেশাজীবি সাংবাদিকরা। সাংবাদিকতা এটি মহান পেশা হিসেবে সারা বিশ্বে সর্বজনীন স্বীকৃত। গণমাধ্যম তথা সাংবাদিকতাকে জাতি কিংবা রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়। সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশ করাই নয় ??? সাংবাদিকের সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতি রয়েছে অনেক দায়িত্ব ও কর্তব্য। সততা নিষ্ঠা সাহসিকতার সাথে সমাজের সকল সংগতি অসঙ্গতি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই-বাছাই করে তা জনগণের কাছে তুলে ধরা একজন সাংবাদিকের নৈতিক দায়িত্ব বলে মনে করেন সুশীল সমাজ । অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করে সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ করায় সাংবাদিকরা জনগণের হৃদয়ের মনিকোঠায় অবস্থান করেন। তাই এ মহান পেশার প্রতি জনগণের রয়েছে প্রগাঢ় শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। সাংবাদিক পেশায় যেমনটা ঝুঁকি রয়েছে তেমন রয়েছে সম্মান। কিন্তু সাংবাদিকতার মুখোশ পড়ে নানান অপকর্মে লিপ্ত হচ্ছেন রাতারাতি মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে হাতিয়ে নিচ্ছেন সাংবাদিকতার আইডি কার্ড। সংবাদ কর্মীদের প্রতি সর্বস্তরের জনগণেরই রয়েছে জবাবদিহীতার প্রথা। তাই সমাজের সকল শ্রেণী পেশার মানুষ যখন অপরাধের সাথে সম্পৃক্ত হয় তখনই সংবাদ কর্মীদের প্রতি তাদের নিজ মনে ভয়ের জন্ম নেয়। সংবাদ মাধ্যমের এসব ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে নানান অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে দেশজুড়ে কিছু ভুঁইফোড় সাংবাদিক ও সংগঠক। যদিও সাংবাদিক পেশায় আসার আগে সাংবাদিকতার বৈশিষ্ট্য ও নীতি-নৈতিকতার সম্পর্কে বিশদ ধারণা থাকা প্রয়োজন রয়েছে। অভিজ্ঞতা অর্জন ও গণমাধ্যমের প্রভাব খাটিয়ে লোকাল এরিয়া গুলোতে সাংবাদিক সেজে চাঁদাবাজি, মাদক নিয়ন্ত্রণ, প্রশাসনের সোর্স হয়ে সর্বসাধারণের উপর বল প্রয়োগ করা সহ নানান অপকর্মে জড়িয়ে পড়ছে অনেকেই। অসামাজিক কার্যকলাপ চালায় পতিতার ব্যবসা করে এবং সরাসরি অনেক পতিতারাও এখন সাংবাদিক সেজে দাপট চালিয়ে যাচ্ছে সমাজের রন্দ্রে রন্ধ্রে । এদের বেশিরভাগই প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাগত যোগ্যতাহীন। অশিক্ষিত অর্ধশিক্ষিত বেকাররাই শর্টকাটে অর্থ উপার্জনের জন্য বেঁচে নিচ্ছে সাংবাদিকতার মতো মহান পেশা। চাঁদাবাজি,ধান্ধাবাজি,মাদক ব্যবসা ও নানান অপকর্ম ঢাকাতে অনেকেই ঢাল হিসেবে সাংবাদিক কার্ড ব্যবহার করে আসছে। দেশজুড়ে কিছু ভুঁইফোড় সাংবাদিক ও সংগঠক জন্ম নিয়েছেন, দুই তিন হাজার টাকার বিনিময়ে অনলাইন নিউজ পোর্টালের কার্ড নিয়ে তা গলায় ঝুলিয়ে মানুষকে ব্ল্যাকমেইল করে ভয় দেখিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছ অর্থ । অথচ এই সব ভুঁইফোঁড় পোর্টালের সাংঘাতিক দের বছরে একটিও নিউজ পাবলিস্ট হয় না। যদিও বা হয় তা অন্যের আইডি থেকে কপি পেস্ট করা নিউজ। আর এই সব ভুঁইফোঁড় সাংবাদিক দের জন্য পেশাজীবি সাংবাদিকরা হারাতে বসেছেন মান। এর জন্য দায়ী কে??? আপনারই বলবেন প্লিজ।আমার এই লেখা কোনো পেশাজীবি সাংবাদিক ও সংগঠক কে ছোট করতে নয় বরং ঐ সব সাংঘাতিক যারা মুখোশ পরে সাংবাদিকতার মতো মহান পেশা কে কলঙ্কিত করছে তাদের কে চিহ্নিত করতে আমার এই চেষ্টা।