শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ০৮:৩০ পূর্বাহ্ন
রাজধানীর আবাসিক হোটেলে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগ: প্রশাসনের নীরবতায় বেপরোয়া নেটওয়ার্ক
খোকন মৃধা
রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থিত বহু আবাসিক হোটেলে অসামাজিক কার্যকলাপ এবং দেহ ব্যবসা চলার অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ নাগরিকরা বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করলেও প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো কঠোর ব্যবস্থা না থাকায় এসব অবৈধ কার্যক্রম আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ: কিছু হোটেলেই নিয়মিত অসামাজিক কার্যকলাপ হচ্ছে বলে শুনা যাচ্ছে তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে উত্তরার পশ্চিম থানার আওতায় , ১/হোটেল স্টার প্লাস, ২/সী- গার্ল ৩/হোটেলএক্স-প্রেস মলে চলে অসামাজিক কার্যকলাপ,এসব কয়েকটি হোটেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ।উত্তরা পুর্ব থানার আওতায়, ১/হোটেল লন্ডন, ২/ গোল্ডেন বার এর বিরুদ্ধে অভিযোগ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অনেক আবাসিক হোটেলে রাত নামার সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয়—
কক্ষভাড়া দেখিয়ে গোপন লেনদেন
অনৈতিক দেহ বাণিজ্য
অসামাজিক আচরণ
বাড়তি টাকার বিনিময়ে কক্ষ ব্যবহার
এগুলোর বেশিরভাগই পরিচালিত হচ্ছে গোপন চক্রের নিয়ন্ত্রণে, যারা নিয়মিতভাবে বিভিন্ন এলাকায় তাদের প্রভাব বিস্তার করছে।
অসাধু কর্মকর্তাদের ‘আতাতের’ অভিযোগ
স্থানীয় ব্যবসায়ী, পথচারী এবং বাজার এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করেছেন—
কিছু অসাধু ব্যক্তি ও প্রশাসনের কিছু দায়িত্বশীল সদস্যের নীরবতা বা আতাত এসব হোটেলের অবৈধ কার্যকলাপকে আরও সহায়তা করছে।
অনেকে বলেন—
“অভিযান হলে একদিন-দুইদিন বন্ধ থাকে, পরে আবার আগের চেহারা ফিরে আসে। এটা কি প্রশাসন জানে না?”
স্থানীয়দের ক্ষোভ—অবৈধ কার্যকলাপের কারণে এলাকায় অশান্তি
বিভিন্ন স্থানে হোটেলকেন্দ্রিক অসামাজিক কর্মকাণ্ড বেড়ে যাওয়ায়—
পারিবারিক পরিবেশ নষ্ট
যুবসমাজ বিপথে যাওয়ার আশঙ্কা
চুরি–ছিনতাইসহ নানা অপরাধ বাড়ছে
—এমন অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগীরা।
অনেকেই বলেন, আবাসিক এলাকায় এ ধরনের হোটেল ব্যবসা রীতিমতো আতঙ্ক সৃষ্টি করছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান থাকলেও স্থায়ী সমাধান নেই
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাঝে মাঝে অভিযান চালানো হলেও সেগুলো টেকসই বা নিয়মিত নয়, যার ফলে চক্রগুলো আবার সক্রিয় হয়ে ওঠে।
নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন—
“শুধু অভিযান নয়, হোটেলগুলোর লাইসেন্স যাচাই, নিয়মিত নজরদারি ও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত না করলে এই অসামাজিক বাণিজ্য বন্ধ হবে না।”
নাগরিকদের দাবি: অবৈধতা বন্ধে জরুরি ব্যবস্থা প্রয়োজন
এ বিষয়ে নগরবাসীর দাবি—
সব আবাসিক হোটেলের লাইসেন্স ও কার্যক্রম তদন্ত
অসামাজিক কাজে জড়িতদের দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা
প্রশাসনের অসাধু ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি
হোটেল এলাকায় নিয়মিত মনিটরিং
তাদের মতে, “প্রশাসন সত্যিকারের উদ্যোগ নিলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হোটেলগুলোর অসামাজিক কার্যক্রম বন্ধ করা সম্ভব।”