শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ১১:২০ পূর্বাহ্ন
ভাটি অঞ্চলের নারী শিক্ষার অন্যতম প্রাচীন প্রতিষ্ঠান, কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলা সদরে অবস্থিত শহীদ স্মরণিকা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, আরও একবার শিক্ষাঙ্গনে ভিন্ন বার্তা দিলো। গত মঙ্গলবার বিদ্যালয়ের এক ক্লাসে অনুষ্ঠিত নিয়মিত ক্লাস টেস্টে উত্তীর্ণ হওয়া এক ছাত্রীকে যেভাবে সম্মানিত করা হলো, তা শিক্ষকদের আন্তরিকতা ও শিক্ষাদানের পদ্ধতির নতুন দিক তুলে ধরেছে।
প্রধান শিক্ষক ও অন্য সম্মানিত শিক্ষকরা মিলে ওই ছাত্রীকে আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কার প্রদান করেন। পুরস্কার গ্রহণের সেই দৃশ্য ছিল আবেগঘন। বাম হাতে পুরস্কার গ্রহণ করার সময় ছাত্রীর চোখেমুখে ছিল একইসঙ্গে গর্ব ও বিস্ময়ের ছাপ। উপস্থিত শিক্ষক-শিক্ষিকারা পুরস্কার বিতরণীর সময় এমনভাবে উল্লাস প্রকাশ করছিলেন, যেন ছাত্রীটি কোনো দেশের সর্বোচ্চ পদক জয় করেছে।
এই বিষয়ে প্রধান শিক্ষক মোঃ সাফি উদ্দিন বলেন, “আমাদের কাছে প্রতিটি অর্জনই মূল্যবান। শুধু বোর্ডের পরীক্ষায় নয়, ক্লাস টেস্টে নিজের মেধার প্রমাণ রাখাটাও এক বিরাট সফলতা। আমরা চেয়েছি, শিক্ষার্থীরা বুঝুক—শিক্ষকরা তাদের ছোট সাফল্যগুলোও গুরুত্ব সহকারে দেখেন। এই উদযাপন তাদের মধ্যে পড়ালেখার প্রতি আরও গভীর ভালোবাসা তৈরি করবে।”
বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়টি শুরু থেকেই ব্যতিক্রমধর্মী শিক্ষাদান পদ্ধতির জন্য পরিচিত। এখানকার শিক্ষকরা বিশ্বাস করেন, শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে ছোট অর্জনের স্বীকৃতি এবং প্রকাশ্যে তাদের প্রশংসা করা অত্যন্ত জরুরি।
শিক্ষাবিদদের মতে, এই ধরনের পদক্ষেপ শিক্ষার্থীদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং বিদ্যালয়ের প্রতি তাদের বন্ধন দৃঢ় করে। শহীদ স্মরণিকা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হতে পারে।