শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ০৭:১২ পূর্বাহ্ন
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) সাবেক প্রশাসক, ঢাকা ওয়াসার সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি), এবং এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) মোহাম্মদ শাহজাহান মিয়ার (আইডি নং ৬২৭৯) বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি, কমিশন বাণিজ্য এবং একই সাথে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পদ বাগিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে কর্মরত আছেন। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্ত ধামাচাপা দেওয়ারও অভিযোগ করা হয়েছে।
মানবাধিকার সংস্থা সোসাইটি ফর এনফোর্সমেন্ট অফ বেসিক রাইটস (SEBR) কর্তৃক গত সোমবার (১০ই অক্টোবর) দুদক এবং জনপ্রশাসন সচিব বরাবর দাখিলকৃত এক অভিযোগে এসব তথ্য জানা যায়।
অভিযোগে বলা হয়, অতিরিক্ত সচিব শাহজাহান মিয়া চাকরিজীবনের প্রথম থেকেই ‘ঘুষখোর ও দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা’ হিসেবে পরিচিত।
তিনি বিরাট অঙ্কের টাকার বিনিময়ে তদবির করে একই সময়ে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পদ বাগিয়ে নেন এবং শত শত কোটি টাকা ‘কামিয়ে নিয়েছেন’ বলে অভিযোগ করা হয়।
জনৈক শাকিল আহমেদের দায়ের করা দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত হলেও শাহজাহান মিয়া বিভিন্ন মহল থেকে তদবির করে তা ধামাচাপা দেন।
ওয়াসাসাবেক এমডি তাসকিনের আমলের বকেয়া বিল ১০-১৫% কমিশনের বিনিময়ে ঠিকাদারদের পরিশোধ।বিল পরিশোধ, কেনাকাটা, নিয়োগসহ বিভিন্ন খাত থেকে প্রায় ২৫০ কোটি টাকা।ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (তাপস আমল)ফজলে নূর তাপসের আমলের ১৫০০ কোটি টাকার বিল প্রদান।প্রায় ১৬২ কোটি টাকা (১০% হারে ঠিকাদারদের কাছ থেকে কমিশন বাবদ)।ফরিদপুর পৌরসভা (প্রশাসক থাকাকালীন)সাবেক মন্ত্রী মোশাররফ হোসেনের সিন্ডিকেটকে ব্যাপক বরাদ্দ দিয়ে নামমাত্র কাজ করে শত শত কোটি টাকার বিল উত্তোলন ও অনিয়ম।সুনির্দিষ্ট অঙ্ক উল্লেখ নেই, তবে ‘ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি’।এলজিআরডি মন্ত্রণালয় (অতিরিক্ত সচিব – উন্নয়ন)বিভিন্ন প্রকল্পে দুর্নীতি।তদন্তের অনুরোধ করা হয়েছে।
ওয়াসার নথি তলব ও ডিএসসিসি-তে কাজের বিল প্রদানের বিষয়ে তদন্ত করলে এসব দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া যাবে বলে মানবাধিকার সংস্থার পক্ষ থেকে দাবি করা হয়।
অভিযোগে বলা হয়েছে, শাহজাহান মিয়া তার আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবের মাধ্যমে আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া এবং দুবাইতে টাকা পাচার করেছেন।
রাশিয়া ভ্রমণের সময় দুবাইতে বিপুল অঙ্কের ডলার পাচার করেছেন বলে অভিযোগ। তিনি ডলার, পাউন্ডসহ বিভিন্ন বিদেশী মুদ্রায় অবৈধ লেনদেন করেছেন।
তিনি নামে-বেনামে ঢাকার ধানমন্ডি ও বারিধারায় একাধিক ফ্ল্যাট কিনেছেন। এছাড়া নিজ এলাকা পটুয়াখালীর মির্জগঞ্জ এবং শ্বশুরবাড়ি এলাকা বরগুনার বেতাগীর চন্দখালিতে কয়েক একর কৃষি জমি কিনেছেন।
দুদকের নিয়ম অনুযায়ী তার সম্পত্তির অনুসন্ধান এবং আয়কর নথি পর্যালোচনা করলে তার অবৈধ সম্পদের পরিমাণ বেরিয়ে আসবে বলে দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, শাহজাহান মিয়া তৎকালীন মন্ত্রী ও শেখ হাসিনার বেয়াই ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন। এই প্রভাব খাটিয়েই তিনি তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পদ বাগিয়ে নেন।
ফরিদপুর পৌরসভার প্রশাসক থাকাকালীন মোশাররফ হোসেনের ভাই মোহতেশাম এবং ২০০০ কোটি টাকার অর্থ পাচার মামলার আসামি সাজ্জাদ হোসেন বরকত ও ইমতিয়াজ হোসেন রুবেল গংদের সাথে ঠিকাদারি ও বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন।
তিনি নিজেকে বিভিন্ন উপদেষ্টার খুব ঘনিষ্ঠ দাবি করেন এবং প্রভাব দেখিয়ে বলেন, কেউ তার কিছু করতে পারবে না।
ব্যাপক অভিযোগের মুখে তাকে ওয়াসা ও ডিএসসিসির পদ থেকে সরানো হয় এবং ২৯শে অক্টোবর তাকে এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) থেকে দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়। কিন্তু এই পদ ‘পছন্দ না হওয়ায়’ তিনি তদবির করে ৬ই নভেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগে বদলির আদেশ করান।
দুদকে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্ত না হওয়া এবং একজন বিতর্কিত কর্মকর্তাকে ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) না করে বারবার আদেশ বদল করে তার পছন্দের জায়গায় পোস্টিং নেওয়ার ঘটনাকে অভিজ্ঞ মহল সন্দেহের চোখে দেখছেন। ‘আসলে তার খুঁটির জোর কোথায়?’ এমন প্রশ্নও উঠেছে।
এ বিষয়ে তার মন্তব্য জানতে চেয়ে হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ দেওয়া হলেও তিনি কোনো বক্তব্য দেননি।