শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ০৮:১০ পূর্বাহ্ন
কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার মাওলানা ভাসানী হরিপুর সেতুর সংযোগ সড়কটির নবনির্মিত কার্পেটিং মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে উঠে যেতে শুরু করেছে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, কাজের মান নিম্নমানের হওয়ায় অল্প সময়েই এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, দীর্ঘদিনের ভোগান্তি পেরিয়ে সম্প্রতি সেতুটির দুই প্রান্তে নতুন করে সংযোগ সড়ক তৈরি ও কার্পেটিং করা হয়। স্থানীয়দের প্রত্যাশা ছিল, এই রাস্তা চালু হলে তাদের চলাচলে নতুন স্বস্তি ফিরবে। কিন্তু কাজ শেষ হওয়ার পর এক সপ্তাহ না যেতেই বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং উঠে গিয়ে পাথর বের হয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও খোয়া ও বিটুমিন আলাদা হয়ে গর্ত তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন, “আমরা ভাবছিলাম এবার ভালো একটা রাস্তা পেলাম, কিন্তু কয়েকদিনেই দেখছি রাস্তার উপরকার লেয়ার উঠে যাচ্ছে। এটা দেখে মনে হয় ঠিকঠাকভাবে কাজ হয়নি।”
একই অভিযোগ জানান স্থানীয় বাসিন্দা সুলতান আলী, তিনি বলেন, “এত দ্রুত নষ্ট হওয়া মানে কাজের সময় নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করা হয়েছে, কিংবা যথাযথ তদারকি ছিল না।”
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সেতু ও সংযোগ সড়কের কাজটি বাস্তবায়ন করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। কাজ শেষ হয় মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে। তবে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর হয়নি বলে জানা গেছে।
এলজিইডি চিলমারীর এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “রাস্তার কিছু অংশে কার্পেটিং ওঠার খবর পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করা হবে। যদি কাজের মানে ঘাটতি পাওয়া যায়, তবে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে দায় নিতে হবে।”
স্থানীয়দের দাবি, এই প্রকল্পে কোটি টাকার কাজ হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই এমন পরিস্থিতি স্পষ্ট করে দেয় যে, তদারকি দুর্বল ছিল। তারা দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে এলাকাবাসী আশঙ্কা করছে, এখনই যদি সংস্কার না করা হয়, তবে শীত মৌসুমে ভারী যানবাহন চলাচলে রাস্তার অবস্থা আরও বেহাল হবে।
একদিকে উন্নয়ন প্রকল্পের সাফল্যের দাবি, অন্যদিকে মাত্র এক সপ্তাহে রাস্তা নষ্ট হয়ে যাওয়া—দুটির ব্যবধানেই যেন লুকিয়ে আছে অব্যবস্থাপনা ও অনিয়মের ছবি। চিলমারীর হরিপুর সেতুর সংযোগ সড়কের এই অবস্থা এখন স্থানীয় জনমনে একটাই প্রশ্ন তুলেছে—“এমন উন্নয়ন কতটা টেকসই?”