নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার খিদিরপুর ইউনিয়নের রামপুর এলাকায় হিন্দু সম্প্রদায়ের মন্দির ও দাহশালায় (শ্মশান) যাতায়াতের একমাত্র সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সড়কটির বিভিন্ন অংশ ভেঙে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দ। এতে প্রতিদিন চলাচলকারী সাধারণ মানুষসহ ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠানে অংশ নিতে আসা লোকজন চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
স্থানীয়রা জানান, রামপুর এলাকার এই সড়কটি শুধু সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ নয়; হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক আচার-অনুষ্ঠান, প্রতিমা বিসর্জন সহ পূজা-পার্বণ, ধর্মীয় অনুষ্ঠান এবং শ্মশােনে( অন্তোষ্টি ক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়) কার্যক্রমে যাতায়াতের জন্যও এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি রাস্তা । মন্দির ও শ্মশান ঘাটে যাওয়ার জন্য এলাকায় এটিই একমাত্র রাস্তা। বিকল্প কোনো রাস্তা না থাকায় সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় দুর্ভোগের মাত্রা দিন দিন বাড়ছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বালু ও মাটি বহনকারী ট্রলির অবাধ চলাচলের কারণে সড়কটির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অতিরিক্ত ওজনের ট্রলি চলাচলে সড়কের বিভিন্ন স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে এবং কোথাও কোথাও গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির পানি জমে এসব গর্ত আরও বড় আকার ধারণ করছে। ফলে পায়ে হেঁটে চলাচল করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। ছোট যানবাহন ও মোটরসাইকেল চলাচলের ক্ষেত্রেও তৈরি হচ্ছে ঝুঁকি।
বিশেষ করে কোনো ধর্মীয় অনুষ্ঠান, পূজা-পার্বণ কিংবা কারও মৃত্যুর পর দাহকার্য সম্পন্ন করতে শ্মশানে যাওয়ার সময় স্থানীয়দের চরম ভোগান্তির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। অনেক সময় বয়স্ক ব্যক্তি, নারী ও শিশুদেরও ঝুঁকি নিয়ে এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা তপন বনিক জয়ন্ত পিন্টু বনিক বলেন, “মন্দির ও শ্মশানে যাওয়ার জন্য এই রাস্তাটিই আমাদের একমাত্র ভরসা। দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাটি নষ্ট হয়ে আছে। কোনো বিকল্প রাস্তা না থাকায় বাধ্য হয়েই আমাদের এই সড়ক ব্যবহার করতে হচ্ছে। দ্রুত রাস্তাটি সংস্কার করে জনসাধারণের চলাচলের উপযোগী করা হোক—এটাই আমাদের দাবি।”
তারা আরও বলেন, বালু ও মাটি বহনকারী ট্রলির কারণে যাতে সড়কটি আর ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেজন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
এলাকাবাসীর দাবি, জনসাধারণের দুর্ভোগ ও ধর্মীয় কার্যক্রমের বিষয়টি বিবেচনা করে দ্রুত রাস্তাটি সংস্কার করা হোক এবং অবৈধভাবে বালু-মাটি পরিবহনকারী ট্রলির চলাচল বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হোক। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত উদ্যোগ নিলে দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগ থেকে রেহাই পাবেন রামপুর হিন্দু সম্প্রদায় সহ আশপাশের এলাকার মানুষ।