গাইবান্ধা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসাসেবা নিতে গিয়ে টাকা দাবির অভিযোগ করেছেন এক রোগী। দুর্ঘটনায় আহত হয়ে হাসপাতালে গেলে পায়ের গোড়ালিতে সেলাই ও ড্রেসিংয়ের জন্য তার কাছে ৪০০ টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ ওই রোগীর।
ভুক্তভোগীর দাবি, দুর্ঘটনায় তার গোড়ালি ফেটে গিয়ে প্রচুর রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। এ অবস্থায় তিনি গাইবান্ধা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিতে যান। সেখানে কর্তব্যরত ব্যক্তিরা গোড়ালিতে সেলাই দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সুতা বাবদ ৩৫০ টাকা এবং ড্রেসিংয়ের জন্য আরও ৫০ টাকা দাবি করেন।
ভুক্তভোগী জানান, বিষয়টি নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিবাদ করলে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় তিনি কোনো ধরনের বিতর্কে জড়াননি। পরে বিষয়টি প্রমাণ হিসেবে সংরক্ষণ করতে নগদ টাকা না থাকার কথা বলে বিকাশ নম্বর চান। অভিযোগ অনুযায়ী, হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি একটি বিকাশ নম্বর দিলে সেখানে ৪০০ টাকা সেন্ড মানি করেন তিনি।
প্রাপ্ত ফুটেজে আহত ব্যক্তির রক্তাক্ত গোড়ালির ছবি এবং ৪০০ টাকা সেন্ড মানি করার একটি লেনদেনের তথ্য দেখা যায়। স্ক্রিনশটে ১২/০৮/২০২৬ তারিখ বিকেল ৪টা ৮ মিনিটে ৪০০ টাকা পাঠানোর তথ্য এবং একটি ট্রানজেকশন আইডি দৃশ্যমান রয়েছে।
এদিকে গাইবান্ধা সদর হাসপাতাল নিয়ে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ নতুন নয়। চলতি বছরের আগস্টে হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী হাসপাতালের বিভিন্ন অনিয়ম ও গাফিলতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং সাধারণ মানুষ যাতে হয়রানি ছাড়া চিকিৎসাসেবা পান, সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান।
এর আগে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা, ওষুধ সংকট, জনবল ও জরুরি বিভাগের নানা সীমাবদ্ধতা নিয়েও বিভিন্ন সময়ে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে।
তবে জরুরি বিভাগে টাকা দাবির এই অভিযোগের বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানা যায়নি। অভিযোগটি সত্য হলে সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে বা নির্ধারিত ব্যবস্থায় প্রাপ্য সেবার বিপরীতে রোগীর কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার বিষয়টি গুরুতর অনিয়ম হিসেবে তদন্তের দাবি রাখে।
ভুক্তভোগী অভিযোগটির তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া এবং জরুরি বিভাগে রোগীদের হয়রানি ও অনৈতিকভাবে অর্থ আদায় বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।