বরিশালের গৌরনদীতে আবাসিক মাদরাসার কক্ষ থেকে ১১ বছর বয়সী এক ছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহত জান্নাতুল ফেরদাউসকে ধর্ষণের পর হত্যা করে ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে—এমন গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে ঘটনার প্রকৃত রহস্য আড়াল করতে মাদরাসা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা এবং প্রশাসনের কথিত নীরব ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
সোমবার (২০ জুলাই) দিবাগত রাতে উপজেলার কাসেমাবাদ এলাকার মিফতাহুল জান্নাহ হিফজুল কুরআন মডেল মহিলা মাদরাসার একটি আবাসিক কক্ষ থেকে জান্নাতুল ফেরদাউসের (১১) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত জান্নাতুল নওগাঁর আত্রাই উপজেলার নালুয়া গ্রামের প্রবাসী মো. সান্টুর মেয়ে। বাবার প্রবাসে থাকার কারণে সে মায়ের সঙ্গে গৌরনদীর কাসেমাবাদ গ্রামে নানার বাড়িতে থাকত। সে ওই মাদরাসার নাজেরা বিভাগের আবাসিক ছাত্রী ছিল।
মাদরাসা কর্তৃপক্ষের দাবি, সন্ধ্যার পর একটি কক্ষ দীর্ঘ সময় ভেতর থেকে বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থী ও শিক্ষিকাদের সন্দেহ হয়। পরে জানালার কাচ দিয়ে ভেতরে তাকিয়ে জান্নাতুলকে জানালার গ্রিলের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় ঝুলতে দেখা যায়। পরে দরজা ভেঙে তাকে উদ্ধার করা হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
তবে নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, জান্নাতুলকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। পরে প্রকৃত ঘটনা আড়াল করে আত্মহত্যা হিসেবে প্রচারের চেষ্টা করা হয়েছে কি না, তা নিয়েও তারা সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করতে হবে।
ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যেও নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। একটি আবাসিক মাদরাসায় থাকা ১১ বছর বয়সী একজন শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা কতটা নিশ্চিত ছিল, ঘটনার সময় মাদরাসায় কারা উপস্থিত ছিলেন, কক্ষে অন্য কারও যাতায়াত ছিল কি না এবং মৃত্যুর আগে ওই শিক্ষার্থী কোনো নির্যাতনের শিকার হয়েছিল কি না—এসব বিষয় তদন্তের দাবি উঠেছে।
পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। ময়নাতদন্তের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ফরেনসিক পরীক্ষা ও ঘটনাস্থলের আলামত বিশ্লেষণের মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা।
গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তারিক হাসান রাসেল বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এটি আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনো কারণে মৃত্যু হয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এ ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে ধর্ষণ, হত্যা এবং ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগের সত্যতা এখনো তদন্তে প্রমাণিত হয়নি। ফলে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের ফলাফলের ওপরই নির্ভর করছে জান্নাতুলের মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য।
নিহত শিশুর পরিবারের দাবি, ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে দায়সারা তদন্ত না করে সব সম্ভাব্য দিক খতিয়ে দেখে নিরপেক্ষ ও গভীর তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং অপরাধী থাকলে তাদের আইনের আওতায় আনা হোক।