1. amarpranerbd@gmail.com : news :
  2. amarpranerbangladesh@gmail.com : PRANER BD REPORTER : PRANER BD REPORTER
  3. editor.amarpranerbd.official@gmail.com : Newsdesk :
শিরোনাম :
বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গাইবান্ধায় আনন্দ র‍্যালি ও সমাবেশ শ্রীপুরের মানুষের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার পুরাতন খলনায়ক নতুন করে আবির্ভাব। কুড়িগ্রামে পালিত হলো বিএনপির ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। ডিবির বিশেষ অভিযান: ইয়াবা-গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ৭,  সরফভাটা ওয়েলফেয়ার সোসাইটির উদ্যোগে ঈদে মিলাদুন্নবী ও গুণীজন সংবর্ধনা কবে হবে সুন্দরবন দস্যুমুক্ত আজ থেকে নিষেধাজ্ঞা শেষে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বনে ফিরছেন জেলে-বাওয়ালিরা কেশবপুরে জামায়াতে ইসলামীর ইউনিট দায়িত্বশীল সম্মেলন ২০২৬ অনুষ্ঠিত সওজ’র গাফলতি চরমে,অকেজো হচ্ছে কোটি টাকার ফেরি নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে চৈতী কম্পোজিট  লিঃকে ৭৫ লক্ষ ৪ হাজার টাকা জরিমান ধার্য করা হয়  প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে মোহনগঞ্জে পতাকা উত্তোলন ও রেলিতে এমপি বাবর- নবনির্মিত প্রশাসনিক ভবন উদ্বোধন ও বৃক্ষরোপণ

মাদ্রাসা থেকে শিশুকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ, উদ্ধারে পুলিশের বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার দাবি

কয়রা-খুলনা-প্রতিনিধি:
  • Update Time : Thursday, August 20, 2026,
  • 53 Time View

খুলনার কয়রায় একটি কওমি মাদ্রাসা থেকে আট বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীকে মোটরসাইকেলে করে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিশুটির দাদা কয়রা থানায় তার নাতির মামাসহ দুজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

একই ঘটনায় শিশুটিকে উদ্ধারে পুলিশের এক সদস্যের বিরুদ্ধে এক হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগও তুলেছে শিশুটির পরিবার। তবে পুলিশ সদস্যরা এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

অভিযোগপত্র ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শিশুটি কয়রার জামিয়াতুল আবরার ইসলামিয়া মাদ্রাসায় পড়াশোনা করছিল। তার বাবা-মায়ের মধ্যে বিবাহবিচ্ছেদ হওয়ায় সে মাদ্রাসায় থেকে পড়াশোনা করত।

শিশুটির দাদা মো. জিয়াদ আলী গাইনের অভিযোগ, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে মাদ্রাসার শিক্ষকদের না জানিয়ে জাকারিয়ার মামা মেহেদি হাসানসহ দুজন মোটরসাইকেলে করে তাকে তুলে নিয়ে যান। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় লোকজন তাদের ধাওয়া করেন। পরে কয়রার বিভিন্ন বাজারে তাদের আটকের চেষ্টা করা হলেও তারা পালিয়ে যায়।

শিশুটির পরিবারের দাবি, পরে পুলিশের সহযোগিতা চাওয়া হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়, শিশুটির বাবা জাহাঙ্গীর আলম কয়রা থানার আমাদি পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই মেহেদি হাসানকে ফোন করে বিষয়টি জানান।

পরিবারের অভিযোগ, প্রথমে পুলিশ বিষয়টিতে গুরুত্ব না দিলেও পরে এক হাজার টাকা দেওয়ার পর এসআই মেহেদি হাসান ও কনস্টেবল ইয়াসিন শিশুটিকে উদ্ধারে যান। তবে পুলিশ সদস্যরা এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

এসআই মেহেদি হাসান বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে টাকা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল, কিন্তু তিনি টাকা নেননি। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তারা শিশুটির অবস্থান জানতে পেরে একটি বাড়িতে যান। সেখানে জাকারিয়াকে তার মা ফাতেমা আক্তার রিতুর সঙ্গে পাওয়া যায়। এরপর পুলিশ সেখান থেকে চলে আসে।

শিশুটির মা ফাতেমা আক্তার রিতু বলেন, তার সঙ্গে তার স্বামীর বনিবনা না থাকায় তাদের মধ্যে মামলা চলমান রয়েছে। তার সন্তানকে তার কাছ থেকে আলাদা করে মাদ্রাসায় রাখা হয়েছিল। তিনি দাবি করেন, সন্তানকে নিজের কাছে ফিরিয়ে আনতেই তিনি তার ভাইয়ের সহযোগিতায় মাদ্রাসা থেকে জাকারিয়াকে নিয়ে আসেন।

রিতুর ভাষ্য, শিশুটিকে নিয়ে আসার সময় সে কান্নাকাটি করছিল। এ কারণে স্থানীয় লোকজন বিষয়টিকে জোর করে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা হিসেবে মনে করেছেন। তবে তার দাবি, তিনি সন্তানকে জোর করে অপহরণ করেননি; বরং নিজের সন্তানকে নিজের কাছে নিয়ে এসেছেন।

এদিকে, শিশুটির দাদা জিয়াদ আলী গাইন আজ ১৯ আগস্ট, বুধবার কয়রা থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগে তার নাতিকে মাদ্রাসা থেকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে মেহেদি হাসানসহ দুজনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করা হয়েছে।

মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস বলেন, “জোর করে অপহরণের বিষয়টি জানার পর আমরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ি। জানতে পারি, দুজন ব্যক্তি মোটরসাইকেলে করে আমাদের শিক্ষার্থী জাকারিয়াকে নিয়ে গেছেন। এরপর আমরা শিশুটির খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করি।”

অভিযোগের বিষয়ে আমাদি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মেহেদি হাসান ও কনস্টেবল ইয়াসিনের সঙ্গে কথা বলা হলে তারা পরিবারের কাছ থেকে এক হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন। এসআই মেহেদি হাসান বলেন, টাকা দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তারা তা গ্রহণ করেননি।

তবে শিশুটির বাবা জাহাঙ্গীর আলম ও দাদা জিয়াদ আলী গাইন দাবি করেন, শিশুটিকে উদ্ধারের জন্য পুলিশের সদস্যকে বিকাশে এক হাজার টাকা দেওয়া হয়েছিল।

কয়রা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাশেদুল আলম বলেন, শিশুটিকে জোরপূর্বক নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগে শিশুটির মামার বিরুদ্ধে তাকে নিয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। পুলিশের এক সদস্যের বিরুদ্ধে এক হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

খুলনা জেলা পুলিশের ডি-সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. আমির হামজা বলেন, অভিযোগটি খতিয়ে দেখা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Facebook Comments Box

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2019 প্রানের বাংলাদেশ