যুবককে আটকে মারধর, ১০ হাজার টাকা দাবি ও টাকা না পেয়ে মাদক দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ; অনুসন্ধান করতে গিয়ে সাংবাদিক সাব্বির আহম্মেদকে হুমকি
মানুষকে আটকে রেখে মারধর ও ভয়ভীতি প্রদর্শন, মাদক দিয়ে ফাঁসিয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় এবং মাদক কারবারের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে সেচ্ছাসেবকলীগ নেতা ময়লা ফারুকের ভাই জহিরুল ইসলাম জহির ও স্থানীয়ভাবে কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত হিসেবে পরিচিত জুয়েল শেখসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন ব্যক্তিকে আটকের পর ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের বিরুদ্ধে মাদকের অভিযোগ তৈরি করে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করা হয়।
সম্প্রতি হামিম খান নামে এক যুবককে ৫ পিস ইয়াবাসহ পুলিশ আটকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এসব অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করেন জাতীয় দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার পত্রিকার বিশেষ প্রতিবেদক সাংবাদিক সাব্বির আহম্মেদ। অনুসন্ধানে হামিমের পরিবারের সদস্য, হামিম নিজে এবং স্থানীয় একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে তাকে আটকে রাখা, মারধর, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও টাকা দাবির বিষয়ে বিভিন্ন অভিযোগ পাওয়া যায়।
হামিমের ভাইয়ের অভিযোগ, জহিরুল ইসলাম জহির, আবু সাইদ ও জুয়েল শেখসহ কয়েকজন হামিমকে আটকের পর প্রথমে পার্শ্ববর্তী একটি গ্যারেজে এবং পরে জহিরের অফিসে নিয়ে যান। সেখানে তাকে মারধর ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
একপর্যায়ে হামিমকে ক্যামেরার সামনে জোরপূর্বক বক্তব্য দিতে বাধ্য করা হয়। তাকে ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে ১০ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছিল বলেও দাবি করেন হামিমের ভাই।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, টাকা না দিলে হামিমকে মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। পরে দাবিকৃত টাকা দিতে না পারায় হামিমকে মাদক দিয়ে ফাঁসিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অনুসন্ধানকালে স্থানীয় কয়েকজনের কাছ থেকেও অভিযোগ পাওয়া গেছে, বিভিন্ন ব্যক্তিকে আটকে রেখে ভয়ভীতি প্রদর্শন, তাদের বিরুদ্ধে মাদক সংক্রান্ত অভিযোগ তৈরি এবং পরে টাকা দাবি করার মতো কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জহির ও জুয়েলসহ কয়েকজনের সম্পৃক্ততা রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কাউকে মাদক মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করা হয়। এসব শুধু ব্যক্তিগত হয়রানি নয়, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগের ক্ষেত্রেও গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করে।
এদিকে স্থানীয়ভাবে অনুসন্ধান করে জুয়েল শেখ ও তার পিতা আব্বাস আলী শেখের বিরুদ্ধে মাদক সেবন ও মাদক বিক্রির সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগও পাওয়া গেছে। স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, জুয়েল শেখের কাছে একটি সিলভার রঙের আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে। এছাড়া জুয়েল শেখের বিরুদ্ধে ধর্ষণসহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে বলেও স্থানীয়ভাবে তথ্য পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে পুলিশের হাতে আটক হামিমের সঙ্গেও কথা বলে তাকে মারধর ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্য দিতে বাধ্য করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
হামিম খানের পরিবারের অভিযোগ, ওই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে হামিম ও ছাত্রদল নেতা আলিমের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হয়েছে।
হামিমকে আটকে রাখা, মারধর, মাদক দিয়ে ফাঁসানো এবং টাকা দাবির অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধান করতে গিয়ে সাংবাদিক সাব্বির আহম্মেদকে সংবাদ প্রকাশ ও লেখালেখি বন্ধ করতে বলা হয়।
জহিরুল ইসলাম জহির ও জুয়েল শেখ তাকে অনুসন্ধান ও লেখালেখি বন্ধ না করলে দেখে নেওয়া এবং মেরে ফেলার হুমকি দেন। এ সময় তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে জহিরুল ইসলাম জহির ও জুয়েল শেখের বক্তব্য জানতে চাইলে তারা সাংবাদিক সাব্বির আহম্মেদকে বলেন, “যা করতে পারিস কর, তোরে দেখে নিবো।”
সাংবাদিক সাব্বির আহম্মেদ জাতীয় দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার পত্রিকার বিশেষ প্রতিবেদক এবং জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা ঢাকা মহানগর কমিটির তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
সাংবাদিকতা জীবনে তিনি বিভিন্ন সময় অন্যায়, অনিয়ম, অপরাধ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করে আসছেন। জনস্বার্থে সত্য তুলে ধরতে গিয়ে বিভিন্ন সময়ে মামলা ও হামলার শিকার হলেও অন্যায়ের সঙ্গে আপস না করে সাংবাদিকতার দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করেছেন বলে সহকর্মীরা জানান।
তার অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের অন্যতম লক্ষ্য হলো সাধারণ মানুষের অভিযোগ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সামনে তুলে ধরা এবং অনিয়ম ও অপরাধের বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরি করা। হামিম খানকে আটকে রাখা, নির্যাতন, মাদক দিয়ে ফাঁসানো ও অর্থ দাবির অভিযোগের অনুসন্ধান করতে গিয়েই এবার তার বিরুদ্ধে হুমকি ও চাপ প্রয়োগের অভিযোগ উঠেছে।
সাংবাদিকদের ওপর হামলা, হুমকি কিংবা সংবাদ প্রকাশে বাধা সৃষ্টি স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে মাদক কারবার, মানুষকে আটকে রাখা, নির্যাতন কিংবা মাদক দিয়ে ফাঁসানোর মতো গুরুতর অভিযোগ থাকলে তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।