রাজনীতি কেবল ক্ষমতা দখলের সিঁড়ি নয়, মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে দাঁড়ানোর এক পবিত্র ব্রত—এই আদর্শ ধারণ করেই ফুলকোচাসবাসীর হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন জামালপুর জেলার মেলান্দহ উপজেলাধীন ৮নং ফুলকোচা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী, ফুলকোচা ইউনিয়ন বিএনপির বিপ্লবী সাধারণ সম্পাদক মোঃ মোখলেছুর রহমান মামুন। অবহেলিত ও বঞ্চিত মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে এবং ফুলকোচা ইউনিয়নকে একটি আধুনিক ও রোল মডেল জনপদে রূপান্তর করতে তিনি আজ প্রস্তুত।
রক্তে যার জনসেবা ও আপসহীন রাজনীতির সুমহান উত্তরাধিকার, সেই মামুনের শিকড় জড়িয়ে রয়েছে গৌরবোজ্জ্বল রাজনৈতিক পরিবারে। তিনি ৮নং ফুলকোচা ইউনিয়নের স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত কৃতি সন্তান ও সাবেক সফল চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ হাবিবুর রহমান রিপনের সহোদর ছোট ভাই এবং ১৯৯১ সালের মেলান্দহ-মাদারগঞ্জ আসনের বিএনপির দলীয় মনোনীত প্রার্থী মরহুম শাহ মোঃ খায়রুল বাশার চিশতীর ভাগিনা। রাজপথের এই লড়াকু সৈনিক দলীয় প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে ছিলেন সামনের সারিতে। অসংখ্য মিথ্যা মামলা, জেল-জুলুম, পুলিশি হয়রানি ও বর্বরোচিত নির্যাতনের শিকার হয়েও শহীদ জিয়ার আদর্শ থেকে বিন্দুমাত্র বিচ্যুত হননি এই নির্ভীক রাজনীতিবিদ। এর আগেও তিনি ২০১১ সালে এবং ২০১৬ সালে জনগণের ভালোবাসার টানে নির্বাচনে অংশ নিয়ে মানুষের আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছেন।
রাজনীতির পাশাপাশি তাঁর মানবতাবাদী হৃদয়ের পরিচয় মেলে বহুমুখী সমাজসেবামূলক কাজে। ফুলকোচা মহিউস সুন্নাহ কওমী মাদ্রাসার সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে থাকা এই মানুষটি ও তাঁর পরিবার মাদ্রাসার নামে নিজেদের মূল্যবান ৮২ শতক জমি দান করে মানবতার এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। শুধু তাই নয়, ফুলকোচা-পাহাড়ী পটল সামাজিক গোরস্থান ও পাহাড়ী পটল বায়তুল মামুর জামে মসজিদের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি হাজরাবাড়ী বণিক সমিতি ও ধান ব্যবসায়ী সমিতির কোষাধ্যক্ষ হিসেবে সততা ও দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন। আজ তিনি এলাকার প্রতিটি হতদরিদ্র ও অসহায় মানুষের শেষ ভরসাস্থল।
হাজরাবাড়ী বাজারের স্বনামধন্য দই ও মিষ্টি ব্যবসায়ী, ‘কাশফুল’-এর স্বত্বাধিকারী এবং অত্র ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সভাপতি ও সাবেক মেম্বার মোঃ ফজলুল হক তাঁকে নিয়ে বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, “মামুন শুধু একজন নেতাই নন, তিনি আমাদের সুদিনের বন্ধু ও বিপদের সাথি। দলের প্রতিটি কর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের যেকোনো বিপদে তিনি ছায়ার মতো পাশে থাকেন। আমার অন্তরের অন্তস্থল থেকে বিশ্বাস করি, এলাকার জনতা ভালোবেসে তাঁকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করবে এবং ফুলকোচাবাসী তাদের সত্যিকারের আপন ঠিকানাকে খুঁজে পাবে।”
ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের মনেও আজ পরিবর্তনের জোয়ার। এলাকার এক প্রবীণ মুরুব্বী আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “আমরা বছরের পর বছর শুধু অবহেলাই পেয়েছি, উন্নয়নের ছোঁয়া আমাদের দরজায় এসে ধাক্কা দেয়নি। কিন্তু মামুন ভাইকে যখন আমাদের পাশে পাই, তখন মনে হয় আমাদের সুদিন বুঝি আর বেশি দূরে নয়। তিনি তো শুধু প্রার্থী নন, তিনি আমাদের ঘরের সন্তান, আমাদের দুঃখ-কষ্টের সাথি।”
একজন তরুণ সমাজকর্মী জানান, “রাস্তার বেহাল দশা কিংবা চিকিৎসার অভাব—যেকোনো সংকটে আমরা সবার আগে মামুন ভাইকে পাশে পেয়েছি। দলমত নির্বিশেষে উনি সবসময় সাধারণ মানুষের খোঁজ রাখেন। আমরা আর কোনো মিথ্যা আশ্বাসের রাজনীতি দেখতে চাই না, আমরা সৎ ও পরোপকারী মানুষটিকে আমাদের নেতৃত্বে দেখতে চাই।”
ফুলকোচার একজন গৃহিণী নিরাপত্তা ও শান্তির প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বলেন, “আমাদের মা-বোনদের নিরাপত্তা আর এলাকার সার্বিক শান্তি ফিরিয়ে আনতে মামুন ভাইয়ের মতো একজন সাহসী ও আপসহীন মানুষ ভীষণ প্রয়োজন। আমরা বিশ্বাস করি, তিনি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে ফুলকোচায় অন্যায় ও দুর্নীতির কোনো স্থান থাকবে না।”
ফুলকোচা ইউনিয়নকে নিয়ে নিজের স্বপ্ন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা বলতে গিয়ে মোঃ মোখলেছুর রহমান মামুন জানান, “আমার জীবনের একটাই চাওয়া—মানুষের সেবা করা। আমি এমন একটি ফুলকোচা দেখতে চাই, যেখানকার প্রতিটি মানুষ নিরাপদে ঘুমাতে পারবে, প্রতিটি পরিবারে থাকবে সুখ ও স্বাচ্ছন্দ্যের ছোঁয়া। এলাকার প্রতিটি রাস্তাঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় উপাসনালয় এবং হাটবাজারকে আধুনিক সুযোগ-সুবিধায় ঢেলে সাজানো হবে। সাধারণ মানুষের কষ্ট লাঘবে জনবহুল এলাকায় আধুনিক পাবলিক টয়লেট ও সাবমার্সিবল ওয়াটার প্ল্যান্ট স্থাপন আমার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।”
পরিশেষে, ফুলকোচা ইউনিয়নের প্রতিটি মা-বোন, তরুণ সমাজ ও সম্মানিত ভোটারদের প্রতি ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি আসন্ন নির্বাচনে সকলের মূল্যবান ভোট, দোয়া ও সমর্থন প্রত্যাশা করেছেন। একই সঙ্গে তিনি গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও আপসহীন নেত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে।