নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার শুকুন্দী ইউনিয়নের নারান্দী মৌজায় জমি দখলের চেষ্টাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে এক আইনজীবী ও তার পরিবারের সদস্যদের গালিগালাজ, হামলার চেষ্টা ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় অ্যাডভোকেট মাহমুদা আক্তার রুপালী (৪৩) বাদী হয়ে মনোহরদী থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে জামাল মিয়া (৩৯), পিতা—আ. মান্নান; সরাফত (৪০), পিতা—আতর আলী; উভয়ের বাড়ি কামারগাঁও, থানা—কাপাসিয়া, জেলা—গাজীপুর।
এছাড়া কাঞ্চন মিয়া (৬০), পিতা—ফজলুল হক; আরমান মিয়া (২৬), পিতা—কাঞ্চন মিয়া; কাইয়ুম মোল্লা (৪৫), পিতা—মৃত হাফেজ আশরাফ আলী; কাউছার (৫৩), পিতা—মৃত আফছার উদ্দিন মোল্লা; তাদের ঠিকানা উত্তর নারান্দী, ইউনিয়ন—শুকুন্দী, থানা—মনোহরদী, জেলা—নরসিংদী বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৩-৪ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, জমিজমা নিয়ে বাদী ও তার পরিবারের সঙ্গে অভিযুক্তদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। বাদীর দাবি, অভিযুক্তরা তার পরিবারের ভোগদখলীয় জমি দখলের পাঁয়তারা করে আসছিলেন। এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে জামাল মিয়া জমিটি ক্রয় করেছেন বলে দাবি করেন। তবে বাদীর দাবি, তিনি বা তার পরিবারের পক্ষ থেকে ওই জমির কোনো অংশ বিক্রি করা হয়নি। দলিল দেখতে চাইলে অভিযুক্তরা যে দলিল দেখান, সেটি জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ নিয়ে জামাল মিয়া বাদী হয়ে মনোহরদী থানায় এম মামলা নং-৫৬২/২০২৬, ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৫ ধারায় মামলা করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। একই ঘটনায় বাদী ও তার অংশীদাররা মনোহরদী সিভিল জজ আদালতে দেওয়ানী মোকদ্দমা নং-৭৪/২৬ দায়ের করেছেন। উভয় মামলাই বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, আদালত জমিতে ১৪৫ ধারা জারি করার পরও গত ১৩ আগস্ট ২০২৬ সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে জামাল মিয়াসহ অভিযুক্তরা অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে বিরোধীয় জমিতে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কাজ শুরু করেন। খবর পেয়ে বাদী জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে মনোহরদী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ রাখতে বলে।
পরদিন ১৪ আগস্ট বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৪টার দিকে অভিযুক্তরা ওই জমিতে ইটের কণা রাখেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
সর্বশেষ ১৫ আগস্ট সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে বাদী ও তার পরিবারের লোকজন জমিতে গিয়ে অভিযুক্তদের কে জমির জবর দখল নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তারা গালিগালাজ করেন এবং দা, কোদালসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মারধর ও হত্যার উদ্দেশ্যে তেড়ে আসেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় প্রাণভয়ে তারা ঘটনাস্থল থেকে চলে আসেন। পরে অভিযুক্তরা তাদের পিছু ধাওয়া করে প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি দেন বলেও অভিযোগ করেন বাদী।
বাদীর অভিযোগ, অভিযুক্তরা নির্মাণকাজ অব্যাহত রাখলে তার জমি বেদখল হওয়ার পাশাপাশি জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে। এ কারণে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের বিষয়টি জানিয়ে পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন তিনি।
ওসি জাহাঙ্গীর বাদশার বক্তব্য
এ বিষয়ে মনোহরদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাহাঙ্গীর বাদশা বলেন, “জমি সংক্রান্ত বিরোধের ঘটনায় থানায় একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সতর্ক রয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”