খাগড়াছড়ি গণপূর্ত বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী পুষন চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম, অগ্রিম বিল অনুমোদন, ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ, সরকারি বাসভবন ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম এবং বদলির পরও পূর্ববর্তী কর্মস্থলের কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ এনে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম গণপূর্ত বিভাগের রক্ষণাবেক্ষণ শাখায় দায়িত্ব পালনকালে ‘৩৬-বাড়ি’ প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় প্রকল্পের কাজ সম্পূর্ণ হওয়ার আগেই ঠিকাদারদের সঙ্গে যোগসাজশ করে অগ্রিম বিল অনুমোদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, এতে সরকারি অর্থের অপব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করলে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসবে।
একই অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বিভিন্ন বিলের বিপরীতে ভুয়া ও কাল্পনিক ভাউচার সংযুক্ত করে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, প্রকল্পসংক্রান্ত বিল-ভাউচার, পরিমাপ বই (Measurement Book), নথিপত্র এবং আর্থিক লেনদেনের ফরেনসিক অডিট বা নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনা করা হলে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হবে।
সরকারি বাসভবন ব্যবস্থাপনায়ও অনিয়মের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, দায়িত্বাধীন সরকারি কোয়ার্টার ও বাসভবন বরাদ্দে প্রচলিত নীতিমালা উপেক্ষা করে আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে বহিরাগতদের বসবাসের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তদন্ত এখনও সম্পন্ন হয়নি।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, অনিয়মের অভিযোগের মধ্যেই প্রকৌশলী পুষন চক্রবর্তীর বদলি হলেও তিনি নেপথ্যে থেকে পূর্ববর্তী কর্মস্থলের কিছু টেন্ডার ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার করে চলেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অবস্থা উদ্ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।
অভিযোগকারীদের দাবি, ‘৩৬-বাড়ি’ প্রকল্পে অনিয়মের বিষয়টি অতীতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নজরে এলেও দৃশ্যমান কোনো চূড়ান্ত ব্যবস্থা বা তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ পায়নি। ফলে পুরো বিষয়টি নতুন করে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের আওতায় আনার দাবি উঠেছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, এসব অনিয়ম ও অভিযোগের কারণে শুধু সরকারি অর্থের ক্ষতিই নয়, গণপূর্ত অধিদপ্তরের ভাবমূর্তিও প্রশ্নের মুখে পড়ছে। তাই প্রকৌশলী পুষন চক্রবর্তীর দায়িত্বকালীন প্রকল্পসমূহ, আর্থিক লেনদেন, সম্পদের উৎস, ব্যাংক হিসাব এবং ‘৩৬-বাড়ি’ প্রকল্পের বিল-ভাউচারসহ সংশ্লিষ্ট সব নথি তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অভিযোগটি পর্যালোচনার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানা গেছে। তবে সংবাদ প্রকাশের আগ পুষন চক্রবর্তী কে একাধিক বার কল দিয়েও প্রকৌশলী পুষন চক্রবর্তীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।
পরবর্তী পর্বে থাকছে চাঞ্চল্যকর তথ্য……!!