অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের করা একমাত্র গোলে আর্জেন্টিনাকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছে স্পেন। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত রোমাঞ্চকর ফাইনালে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আধিপত্য বিস্তার করে লা রোহা। অন্যদিকে আর্জেন্টিনা পুরো ১২০ মিনিটে লক্ষ্যে একটি শটও রাখতে পারেনি।
ম্যাচের ১০৬তম মিনিটে পেদ্রো পোরোর ক্রস থেকে নিকো উইলিয়ামসের হেড পেয়ে জোরালো শটে জয়সূচক গোল করেন বার্সেলোনার ফরোয়ার্ড ফেরান তোরেস। সেই গোলেই ২০১০ সালের পর দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ ট্রফি নিজেদের করে নেয় স্পেন।
এই পরাজয়ের মধ্য দিয়ে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসির সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হয় হতাশায়। ৩৯ বছর বয়সী এই মহাতারকা পুরো ম্যাচেই স্পেনের কঠোর মার্কিংয়ে নিষ্প্রভ ছিলেন এবং দলকে শিরোপা এনে দিতে পারেননি।
পুরো ম্যাচজুড়ে বলের দখল ও আক্রমণে স্পষ্ট আধিপত্য ছিল স্পেনের। গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ একাধিক দুর্দান্ত সেভ করে আর্জেন্টিনাকে দীর্ঘ সময় ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন। তবে অতিরিক্ত সময়ে স্পেনের অবিরাম চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত ভেঙে পড়ে আলবিসেলেস্তেদের রক্ষণ।
অতিরিক্ত সময়ে ডিফেন্ডার পাও কুবারসির ওপর বিপজ্জনক ট্যাকল করায় দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ। ১০ জনের দলে পরিণত হওয়ার পর আর্জেন্টিনা আরও চাপে পড়ে।
এর আগে নিকো উইলিয়ামসের একটি গোল ফাউলের অভিযোগে বাতিল হলেও ১০৬তম মিনিটে আর কোনো ভুল করেনি স্পেন। তোরেসের গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর শেষ মুহূর্তে আর্জেন্টিনা সমতায় ফেরার চেষ্টা চালালেও স্পেনের সংগঠিত রক্ষণভাগ তাদের সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দেয়।
ফাইনালটি দেখতে মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ৮০ হাজারের বেশি দর্শকের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও।
এই জয়ের মাধ্যমে স্পেন ফুটবল ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের গৌরব অর্জন করল। অন্যদিকে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের স্বপ্ন ভেঙে গেল আর্জেন্টিনার, আর বিশ্বমঞ্চে লিওনেল মেসির সম্ভাব্য শেষ অধ্যায় শেষ হলো শিরোপাহীন বিদায়ে।