
রংপুর জেলার গংগাচড়া উপজেলা-কে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘বাল্যবিবাহ, শিশুশ্রম এবং স্কুল হতে শিশু ঝরে পড়ামুক্ত উপজেলা’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন ও ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সোমবার (১২ মে) এ ঘোষণা দেওয়া হয়।
গংগাচড়া উপজেলার মাল্টিপারপাস কনফারেন্স হলে সকাল সাড়ে ১০টায় অনুষ্ঠিত এ ঘোষণাপর্বে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছাঃ জেসমিন আক্তার। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোঃ রায়হান সিরাজী।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “একটি শিক্ষিত ও সমৃদ্ধ জাতি গঠনে শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা অপরিহার্য। গংগাচড়াকে শিশুশ্রম ও বাল্যবিবাহমুক্ত ঘোষণা করা কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি আমাদের আগামীর সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার অঙ্গীকার।”
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সুরেশ বার্টলেট এবং চন্দন জেড গোমেজ। তারা শিশুদের অধিকার রক্ষা ও জীবনমান উন্নয়নে ওয়ার্ল্ড ভিশনের চলমান কার্যক্রম তুলে ধরে স্থানীয় প্রশাসনের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান।
অন্যান্য অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন লিমা হান্না দারিং, রাজু উইলিয়াম গোমেজ, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ হামিদুল ইসলাম, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু মোঃ আলেমুল বাসার, গংগাচড়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুস ছবুর, বিএনপির সভাপতি মোঃ চাঁদ সরকার, জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মোঃ নায়েবুজ্জামান, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মাহফুজার রহমান, কৃষি কর্মকর্তা রুবেল হোসেন, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মৌসুমী আক্তার, সমবায় কর্মকর্তা আবতাবুজামান, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু সাইদ মোঃ আরিফ মাহফুজ, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শায়লা জেসমিন সাইদ, সিনিয়র ম্যানেজার উত্তম দাস, এরিয়া প্রোগ্রাম ম্যানেজার লিওবার্ট চিসিমসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
উপজেলা প্রশাসন, গংগাচড়া আয়োজিত এ কর্মসূচিতে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে গংগাচড়া এরিয়া প্রোগ্রাম, ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ।
সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছাঃ জেসমিন আক্তার বলেন, শিশুদের শ্রমে যুক্ত হওয়া এবং স্কুল থেকে ঝরে পড়া রোধে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে তিনি জনপ্রতিনিধি, অভিভাবক ও সুশীল সমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণ কামনা করেন।
অনুষ্ঠানের শেষে উপস্থিত সবাই বাল্যবিবাহ, শিশুশ্রম ও স্কুল ঝরে পড়ামুক্ত একটি আদর্শ উপজেলা গড়ার প্রত্যয়ে সম্মিলিত শপথ পাঠ করেন। এসময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, সাংবাদিকসহ প্রায় ছয় শতাধিক মানুষ উপস্থিত ছিলেন।