শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ০৮:৩৫ পূর্বাহ্ন
নরসিংদীতে ভূমি অধিগ্রহণকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ দুর্নীতি, কমিশন বাণিজ্য এবং সাধারণ মানুষের সাথে চরম দুর্ব্যবহারের অভিযোগে অভিযুক্ত অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মাহমুদা বেগমের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে জেলা শহর। রোববার (১৯ এপ্রিল) নরসিংদী প্রেসক্লাবের সামনে কয়েকশ’ ক্ষতিগ্রস্ত ভূমি মালিকের বিক্ষোভ ও মানববন্ধনে প্রশাসনের এই শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে স্লোগানে ফেটে পড়েন ভুক্তভোগীরা। এবং মানববন্ধনটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করেন।
নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার পুটিয়া ইউনিয়নের কারারদি মৌজায় ভূমি অধিগ্রহণ নিয়ে গত ৫-৬ বছর ধরে চলছে চরম টালবাহানা। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, অধিগ্রহণের গ্যাঁড়াকলে পড়ে তারা না পারছেন জমি বিক্রি করতে, না পারছেন ব্যাংক ঋণ নিতে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর পাওনা টাকা চাইতে গেলে এডিসি (রাজস্ব) মাহমুদা বেগমের রূঢ় আচরণ এবং ‘কমিশন’ দাবির মুখে পড়তে হচ্ছে তাদের। তার চাহিদা মতো কমিশন দিতে রাজি না হওয়ায় অধিগ্রহণ ক্যান্সেল করে দেয় এবং শুরু করে খারাপ আচরণ এতে ক্ষতিগ্রস্ত হন শতশত কৃষক শিল্প কারখানা মালিক তারা জানান ইতিপূর্বে তাদেরকে একাধিক নোটিশ দিয়েছিল ।
বিক্ষোভকারীদের দাবি, এডিসি মাহমুদা বেগম একটি প্রভাবশালী মহলের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করছেন। মানববন্ধনে বক্তারা সরাসরি অভিযোগ করেন:
কমিশন বাণিজ্য: জমির ক্ষতিপূরণের চেক ছাড়াতে বড় অঙ্কের অর্থ দাবি করেছিলেন মাহমুদা গং।
প্রভাবশালীদের যোগসাজশ: স্থানীয় শিল্পপতি কাদের মোল্লা ও একটি বিশেষ মহলের সুবিধা দিতে গিয়ে সাধারণ কৃষকদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত রাখা হয়েছে।
দুর্ব্যবহার ও অবহেলা: অভিযোগ নিয়ে গেলে এডিসি মাহমুদা বেগম সাধারণ মানুষের সাথে চরম অবমাননাকর আচরণ করেন বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন।
উত্তপ্ত জেলা প্রশাসকের কার্যালয়
প্রেসক্লাব থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের দিকে অগ্রসর হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। মিছিলকারীরা ডিসি অফিসের গেটে গিয়ে এডিসি মাহমুদার পদত্যাগ দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) গেটে এসে বিক্ষুব্ধদের শান্ত করার চেষ্টা করেন। তিনি ভূমি মালিকদের স্মারক লিপি গ্রহণ করেন । ক্ষতিগ্রস্তরা জানান
”আমরা ৫-৬ বছর ধরে আমাদের পৈতৃক ভিটার ন্যায্য পাওনা পাচ্ছি না। উল্টো এডিসি অফিসে গেলে আমাদের সাথে অপরাধীর মতো ব্যবহার করা হয়। আমরা এই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার দ্রুত অপসারণ ও বিচার চাই।”
মানববন্ধনে নেতৃত্বদানকারী পুটিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম বলেন, “মাহমুদা বেগমের দুর্নীতির সংবাদ ইতিপূর্বে জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদপত্রে একাধিকবার প্রকাশিত হলেও তিনি অদৃশ্য শক্তিবলে চেয়ার আঁকড়ে ধরে আছেন। তার কারণে আজ সাধারণ মানুষ নিঃস্ব।”আমরা তার পদত্যাগের দাবী জানাচ্ছি এবং আমাদের ন্যায্য হিসাবে দাবি করছি ।
প্রশাসনের বক্তব্য
এ বিষয়ে অভিযুক্ত অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মাহমুদা বেগমের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে জেলা প্রশাসন সূত্র জানিয়েছে, বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে ভূমি অধিগ্রহণের নামে চলা এই ‘কমিশন সিন্ডিকেট’ ভেঙে দিতে হবে এবং অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনতে হবে।