শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ১০:২৭ পূর্বাহ্ন
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার দুপুরে রামুর জোয়ারিয়ানালার মৌলভীপাড়া এলাকায় একটি অভিযানে পুলিশ প্রায় দুই লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করে। তবে পরবর্তীতে জব্দ তালিকায় দেখানো হয় মাত্র ১ লাখ ৪ হাজার পিস ইয়াবা। বাকি প্রায় ৯৬ হাজার পিস ইয়াবার কোনো হিসাব পাওয়া যায়নি, যা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
রামুতে পুলিশের অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় বড় ধরনের গরমিলের অভিযোগ উঠেছে। অভিযানে প্রায় দুই লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধারের দাবি করা হলেও জব্দ তালিকায় দেখানো হয়েছে মাত্র ১ লাখ ৪ হাজার পিস। বাকি ইয়াবা গায়েব করে দেওয়া হয়েছে এমন অভিযোগ উঠেছে অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভুঁইয়ার বিরুদ্ধে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় তিন কোটি টাকা।
ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে ও গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে পুলিশ একই দিন রাত ৮টার দিকে দ্বিতীয় দফায় অভিযান চালায়। এ সময় তিনজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে যাচাই-বাছাই শেষে জোয়ারিয়ানালার মৌলভীপাড়ার বাসিন্দা মৃত কামাল আক্তারের স্ত্রী মাবিয়া বেগম ওরফে আমেনা খাতুন (৬৫)-কে গ্রেপ্তার দেখিয়ে একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি দেয় পুলিশ।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়, বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে এসআই মোহাম্মদ আনোয়ার সঙ্গীয় ফোর্সসহ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে আমেনা খাতুনের বসতঘরের খাটের নিচ থেকে ১ লাখ ৪ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করেন এবং তা জব্দ তালিকাভুক্ত করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত নারীর পুত্রবধূ জানান, পুলিশের একটি দল তাদের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ২০ বান্ডিল, অর্থাৎ আনুমানিক দুই লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করে এবং সেগুলো তার সামনেই গণনা করা হয়। পরে ওসি ঘটনাস্থলে এসে উপস্থিত লোকজনের সামনে এর একটি অংশ প্রদর্শন করেন এবং বাকি অংশ ভেতরে রেখে দেন। পরবর্তীতে ১০টি বান্ডিল ইয়াবা গায়েব করার পর খাটের নিচ থেকে ১০ বান্ডিল ইয়াবা জব্দ দেখানোর নাটক করা হয় এবং তা ভিডিও করা হয়।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, আমরা নিজের চোখে দেখেছি ইয়াবার পরিমাণ অনেক বেশি ছিল। কিন্তু পরে অর্ধেকেরও কম দেখানো হয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত সন্দেহজনক।
এ ছাড়া, এর আগেও গত ১৮ ফেব্রুয়ারি রামু কেন্দ্রীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে বালুভর্তি একটি ট্রাকে করে পাচারের সময় ৪ লাখ ৫০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছিল। ওই ঘটনাতেও ৩ লাখ পিস ইয়াবা গায়েব করে মাত্র ১ লাখ ৫০ হাজার পিস জব্দ হিসেবে দেখানো হয়েছিল বলে ওসি মনিরুল ইসলাম ভুঁইয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে।
ওই ঘটনার পর রামু ও কক্সবাজারের বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযানের কঠোর সমালোচনা করেছিলেন। তবে সে সময়ও অদৃশ্য কারণে ওসি মনিরুল ইসলাম ভুঁইয়া বহাল তবিয়তেই দায়িত্ব পালন করে যান।
অন্যদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ সদস্যও এ ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, এত বড় চালান থেকে কম দেখানো স্বাভাবিক নয়। বিষয়টি তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। এর আগে একই ধরনের ঘটনা ঘটলেও তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও মিডিয়াকর্মীদের ‘ম্যানেজ’ করে অবস্থান শক্ত করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া এসআই মোহাম্মদ আনোয়ার বলেন, অভিযানে যা পাওয়া গেছে, তা-ই মামলায় দেখানো হয়েছে। কোনো গরমিল করা হয়নি। ইয়াবা গায়েবের বিষয়টি সঠিক নয়।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রামু থানার ওসি মনিরুল ইসলাম ভুঁইয়া। তিনি বলেন, উদ্ধারকৃত সব ইয়াবা আইনগত প্রক্রিয়ায় জব্দ করা হয়েছে। গায়েবের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তিনি আরও জানান, আটক বাকী একজনকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে নির্দোষ প্রমাণিত হলে ছেড়ে দেওয়া হবে।
এ বিষয়ে কক্সবাজার জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেবদ্যুত মজুমদার বলেন, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে দেখা হবে।