1. amarpranerbd@gmail.com : news :
  2. amarpranerbangladesh@gmail.com : PRANER BD REPORTER : PRANER BD REPORTER
  3. editor.amarpranerbd.official@gmail.com : Newsdesk :
শিরোনাম :
টঙ্গীতে শান্তা জুয়েলার্সের মালিক কাস্টমারের কোটি টাকা নিয়ে উধাও ,থানায় একাধিক লিখিত অভিযোগ বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গাইবান্ধায় আনন্দ র‍্যালি ও সমাবেশ শ্রীপুরের মানুষের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার পুরাতন খলনায়ক নতুন করে আবির্ভাব। কুড়িগ্রামে পালিত হলো বিএনপির ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। ডিবির বিশেষ অভিযান: ইয়াবা-গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ৭,  সরফভাটা ওয়েলফেয়ার সোসাইটির উদ্যোগে ঈদে মিলাদুন্নবী ও গুণীজন সংবর্ধনা কবে হবে সুন্দরবন দস্যুমুক্ত আজ থেকে নিষেধাজ্ঞা শেষে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বনে ফিরছেন জেলে-বাওয়ালিরা কেশবপুরে জামায়াতে ইসলামীর ইউনিট দায়িত্বশীল সম্মেলন ২০২৬ অনুষ্ঠিত সওজ’র গাফলতি চরমে,অকেজো হচ্ছে কোটি টাকার ফেরি নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে চৈতী কম্পোজিট  লিঃকে ৭৫ লক্ষ ৪ হাজার টাকা জরিমান ধার্য করা হয় 

কোথাও দীর্ঘ লাইন কোথাও তেল নাই, সরবরাহের দুর্বলতা এবং কারসাজির সিন্ডিকেটের চক্করে বাংলাদেশ ।

এনামুল হক সুজন :
  • Update Time : Saturday, March 28, 2026,
  • 150 Time View

মোটরসাইকেল চালক থেকে শব্যক্তিগত গাড়ির মালিক সবার প্রশ্ন একটাই– দেশে উৎপাদন থাকলে পেট্রোল-অকটেনের এমন সংকট কেন?
কোথাও দীর্ঘ লাইন, কোথাও আবার ‘তেল নেই’
খাত-সংশ্লিষ্টদের মতে, সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতা, সম্ভাব্য বাজার কারসাজি এবং আতঙ্কে অতিরিক্ত কেনাকাটা– এগুলোর সমন্বয়ে পেট্রোল ও অকটেনের বর্তমান সংকট তৈরি হয়েছে। তারা বলছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে হলে শুধু উৎপাদন বাড়ালেই হবে না, সরবরাহ ব্যবস্থার স্বচ্ছতা, কঠোর নজরদারি এবং ভোক্তা পর্যায়ে সচেতনতা– এই তিনটি দিকেই সমান গুরুত্ব দিতে হবে।
জ্বালানি খাতের তথ্য বলছে, দেশে পেট্রোলের পুরো চাহিদাই দেশীয়ভাবে উৎপাদিত হয়। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে পেট্রোলের মোট চাহিদা ছিল চার লাখ ৬২ হাজার ৪৭৫ টন, যার শতভাগই দেশে উৎপাদন হয়েছে। অপরিশোধিত তেল থেকে ১৬ শতাংশ উৎপাদন করে ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল)। বাকি ৮৪ শতাংশ বেসরকারি রিফাইনারি থেকে উৎপাদিত হয়।
অকটেনের ক্ষেত্রেও বড় অংশ দেশেই উৎপাদিত হয়, মূলত কনডেনসেট থেকে। প্রাকৃতিক গ্যাস উত্তোলনের সময় পাওয়া এই উপজাত তরল পদার্থ পরিশোধন করে অকটেন তৈরি করা হয়। গত অর্থবছরে প্রায় পাঁচ লাখ ৯৭ হাজার টন কনডেনসেট সংগ্রহ ও পরিশোধন করা হয়েছে। তবে অকটেনের চাহিদা পূরণে ঘাটতি রয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে চার লাখ ১৫ হাজার টন চাহিদার বিপরীতে দুই লাখ ৩৪ হাজার ৮৩ টন এমন অকটেন আমদানি করে বিপিসি।
গত পাঁচ বছরে পেট্রোল ও অকটেনের ব্যবহার ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। ২০২০-২১ অর্থবছরে যেখানে পেট্রোল বিক্রি হয়েছিল তিন লাখ ৭৮ হাজার টন, সেখানে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে চার লাখ ৬২ হাজার টনে। একই সময়ে অকটেনের ব্যবহার তিন লাখ টন থেকে বেড়ে চার লাখ ১৫ হাজার টনে পৌঁছেছে।
পাম্প মালিকদের অভিযোগ, সমস্যার বড় অংশই সরবরাহ চেইনে। পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম দৈনিক আমার প্রাণের বাংলাদেশকে বলেন, ডিপো থেকে চাহিদামতো তেল পাওয়া যাচ্ছে না। পেট্রোল-অকটেন দেশেই উৎপাদিত–তাই এমন সংকট হওয়ার কথা নয়। তাঁর দাবি, বেসরকারি কনডেনসেট রিফাইনারি ইউনিটগুলো দাম বাড়ার আশায় সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে।
রাজধানীর তেজগাঁওয়ের সাউদার্ন পাম্পে বুধবার দুপুরে দেখা যায়, অকটেন নিতে লাইনে দাঁড়িয়ে রয়েছেন অন্তত ৩০-৪০ চালক। তাদের একজন রাইডার রুহুল আমিন বলেন, তেলের জন্য এক পাম্প থেকে আরেক পাম্পে ঘুরতে হচ্ছে। পাম্পটির একজন কর্মকর্তা জানান, গত বছর এই সময়ে তারা প্রতিদিন প্রায় ১৬ হাজার লিটার অকটেন বিক্রি করতেন। কিন্তু এখন সরবরাহ অনিয়মিত। মঙ্গলবার পেয়েছেন মাত্র চার হাজার লিটার এবং বুধবার ৯ হাজার লিটার। তিনি বলেন, চাহিদার তুলনায় অর্ধেকও পাচ্ছি না, তাই সবাইকে দিতে পারছি না।
বিপিসির এক কর্মকর্তা দৈনিক আমার প্রাণের বাংলাদেশকে বলেন, মজুত মোটামুটি রয়েছে; কিন্তু আগামী দিনগুলোর কথাও ভাবতে হবে। হুট করে কোনো চালান আটকে গেলে পুরো সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে। তাই সরবরাহ চেইনে একটু লাগাম দেওয়া হয়েছে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ইজাজ হোসেইনও বিষয়টিকে সন্দেহের চোখে দেখছেন। তাঁর মতে, উৎপাদনের উৎস ঠিক আছে, কিন্তু সরবরাহে সমস্যা হলে সেটি বাজার কারসাজির ইঙ্গিত হতে পারে। সরকারকে বিষয়টি গভীরভাবে খতিয়ে দেখতে হবে।
সরকার বলছে, সংকটকে আরও তীব্র করছে আতঙ্কে কেনাকাটা। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, যে পরিমাণ তেল কয়েক দিনে শেষ হওয়ার কথা, তা কয়েক ঘণ্টায় শেষ হয়ে যাচ্ছে। এতে সরবরাহ চেইন ভেঙে পড়ছে। জ্বালানির দাম বাড়ছে না– এটি স্পষ্ট। তাই কেউ মজুত করে লাভবান হতে পারবে না।
মজুতের চিত্র
দেশে অকটেনের মজুত সক্ষমতা ৫৩ হাজার ৩৬১ টন। মার্চ মাসে এর গড় চাহিদা ছিল ৩৬ হাজার ৭০০ টন। গত মঙ্গলবারের তথ্য বলছে, অকটেনের মজুত ৯ হাজার ৮২৯ টনে নেমে এসেছে। দৈনিক এক হাজার ১৯৩ টন সরবরাহ বিবেচনায় দেশে এখন মাত্র আট দিনের অকটেন মজুত রয়েছে।
দেশে পেট্রোলের মজুত সক্ষমতা ৩৭ হাজার ১৩ টন। চলতি মার্চ মাসে পণ্যটির গড় চাহিদা দাঁড়িয়েছে ৪২ হাজার ১০০ টনে। বর্তমানে পেট্রোলের মজুত রয়েছে ১৬ হাজার ২২৫ টন। দৈনিক গড়ে এক হাজার ৪৯৬ টন সরবরাহ বিবেচনায় এই মজুতে আর মাত্র ১১ দিন চলা যাবে।

Facebook Comments Box

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2019 প্রানের বাংলাদেশ