শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ০৯:৩০ পূর্বাহ্ন
রাজধানীতে ভবিষ্যৎ বড় ধরনের ভূমিকম্পের সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি কমাতে এখনই সমন্বিত ও দ্রুত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় ও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। সোমবার (২৪ নভেম্বর) ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি)–এ রাজউক আয়োজিত ‘ভূমিকম্প ঝুঁকি হ্রাসে প্রস্তুতি ও করণীয়’ শীর্ষক সেমিনার ও মতবিনিময় সভায় তিনি এ আহ্বান জানান।
উপদেষ্টা বলেন, সম্ভাব্য ভূমিকম্পের ক্ষতি রোধে শুধু রাজউক নয়, সব সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। জননিরাপত্তার স্বার্থে প্রয়োজন হলে ব্যক্তিগত সম্পত্তির ঝুঁকি নিরূপণ ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণে সরকারের হস্তক্ষেপের ক্ষমতা থাকতে হবে। মানুষের প্রস্তুতির পাশাপাশি সচেতনতা বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
রিজওয়ানা হাসান প্রস্তাব করেন, রাজউকের পাশাপাশি থার্ড পার্টির মাধ্যমে রিস্ক অ্যাসেসমেন্ট কার্যক্রম শুরু করা যেতে পারে। বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয়দের সহায়তায় দ্রুত জরিপ কার্যক্রম শুরু করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, “অপেক্ষা করার সুযোগ নেই; মানুষকে আশ্বস্ত করতে হবে যে সরকার ভূমিকম্প মোকাবিলায় সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।”
পুরান ঢাকার ঝুঁকির বিষয়ে তিনি উল্লেখ করেন, কেমিক্যাল কারখানা, ঘনবসতি ও বিল্ডিং কোড না মানার কারণে এলাকা অত্যন্ত বিপদজনক হয়ে উঠেছে। এসব কেমিক্যাল কারখানা জরুরি ভিত্তিতে নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরের ওপর তিনি জোর দেন। পাশাপাশি বিশেষ নির্দেশনার মাধ্যমে রিস্ক অ্যাসেসমেন্ট কাজ দ্রুত শুরুর পরামর্শ দেন।
সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে ধীরগতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অভাবে ঝুলে থাকে। রাজউককে প্রয়োজনীয় ক্ষমতা দিয়ে প্রক্রিয়াকে সহজ করাই জরুরি। তিনি আরও বলেন, “আতঙ্ক নয়, এখন প্রয়োজন পরিকল্পিত উদ্যোগ। কীভাবে কাজ শুরু করা যায়, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।”
সভায় আরও বক্তব্য রাখেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজরুল ইসলাম। সভায় সভাপতিত্ব করেন রাজউক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রিয়াজুল ইসলাম। সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও কর্মকর্তারা।