1. amarpranerbd@gmail.com : news :
  2. amarpranerbangladesh@gmail.com : PRANER BD REPORTER : PRANER BD REPORTER
  3. editor.amarpranerbd.official@gmail.com : Newsdesk :
শিরোনাম :
সমগ্র দেশব্যাপী অটোরিকশার কারণে বিদ্যুৎ ভোগান্তি  উপকূল সুরক্ষা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে মহেশখালীতে পরিবেশ বিষয়ক ক্যাম্পেইন ও বৃক্ষরোপণ রূপসায় মশা নিধনে নেই কোন তোড়জোড়; ডেঙ্গু আতঙ্ক চরমে খুলনা শিরোমণিতে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে র‍্যালি ও মিছিল বরিশালের বাকেরগঞ্জে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ৪৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন ফ্লাই দুবাইয়ের ফ্লাইটের সিটের নিচে স্কচটেপে মোড়ানো ৮০ স্বর্ণের বার উদ্ধার পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি হলেন হুইপ জি কে গউছ ঢাকা-চট্টগ্রামে কাস্টমস গোয়েন্দার টানা অভিযান: সিগারেট, মোবাইল-এলসিডি, মাদারবোর্ড, মদ ও স্বর্ণসহ প্রায় ১ কোটি টাকার পণ্য জব্দ জুলাই গণঅভ্যুত্থান হত্যা মামলার আসামি কলিন্সের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ টেকনাফে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিউ জামাল মার্কেটের ১০-১৫ দোকান পুড়ে ছাই

রূপসায় মশা নিধনে নেই কোন তোড়জোড়; ডেঙ্গু আতঙ্ক চরমে

ফ.ম.আইয়ুব আলী,রূপসা প্রতিনিধি
  • Update Time : Thursday, September 3, 2026,
  • 19 Time View
রূপসায় মশা নিধনে নেই কোন তোড়জোড়; ডেঙ্গু আতঙ্ক চরমে
ফ.ম.আইয়ুব আলী,রূপসা প্রতিনিধি: বিভিন্ন স্থানে দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। এতে  রূপসাতেও ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ হচ্ছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ গিয়ে জানা যায়, ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ধারণ ক্ষমতার চেয়ে বহু গুনে বেড়ে গেছে। তাদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাক্তার ও নার্সদের। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিসংখ্যানবিদ স্বপ্নায়ারা জানান, এবছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বরের ১ তারিখ পর্যন্ত ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ৩৭৯ জন। তার মধ্যে আগস্ট মাসেই শুধু ২৫০ জন। বর্তমানে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা নিচ্ছেন ৩৪ জন ডেঙ্গু রোগী। এর মধ্য উপজেলার নৈহাটি ইউনিয়নে ডেঙ্গুর পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে।ডেঙ্গুর প্রকোপ বহুগুনে বেড়ে যায় রূপসা বাসীর মাঝে বর্তমানে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।এদিকে মশা নিধনে খুলনা সিটির পক্ষ থেকে মাঝেমধ্যে ফগার মেশিনের সাহায্যে ওষুধ ছিটানো হলেও উপজেলা রূপসার ৫টি ইউনিয়নে এ ধরনের কোন পদক্ষেপ উল্লেখযোগ্যভাবে নেওয়া হয়নি। তার মধ্যে নৈহাটি  ও আইচগাতী ইউনিয়নে বিভিন্ন শিল্প কলকারখানা থাকায় এই এলাকার জনবসতির ঘনত্ব অনেক বেশি ও ডেঙ্গু আক্রান্তের ঝুঁকিও রয়েছে বেশি  ।
রূপসা উপজেলা খুলনার ৯টি উপজেলার মধ্যে ব্যাপক জনবহুল সম্বলিত একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল এরিয়া। এ অঞ্চলের ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষে থেকে মশা নিধনের পদক্ষেপ গ্রহণ করতে দেখা যাচ্ছে না। এমনকি জনসচেতনতামূলক কোনো কার্যক্রমও চালানো হচ্ছে না। এদিকে এডিস মশা নিধনে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ বা ফগার মেশিনের সাহায্যে ওষুধ না ছিটানোর ফলে মশার উপদ্রব কমছে না। তাই গ্রামাঞ্চলে ওষুধ ছিটানো হচ্ছে না বলে স্বাস্থ্য ঝুঁকি আজ চরমে। যদি স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ডেঙ্গু মশার উপদ্রব্যের ভয়াবহতা অনুভব করে রূপসা কেমিস্ট এন্ড ড্রাগিস্ট সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুস্তাফিজুর রহমান মুস্তাফিজ বলেন, মশাবাহিত এ রোগ থেকে বাঁচতে উপজেলাবাসীকে আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার- পরিচ্ছন্ন রাখা, বাসাবাড়ির ছাদ, আঙিনা পরিষ্কার রাখাসহ বিভিন্ন পরামর্শ দেওয়ার ক্ষেত্রে কোন ব্যবস্থাও নিতে দেখা যায়নি। রূপসা উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে মশার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ মানুষ। অথচ মশা নিধনে কোনো ধরনের পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি।জনগণের ধারণা- মশা নিধনে কার্যকরী পদক্ষেপগুলো সরকারিভাবে গ্রহণ করলে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের রাখা সম্ভব হতো। কিন্তু সরকারিভাবে কোন চোখে পড়ার মতো পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় রূপসায় ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে। এবং একপর্যায়ে ভয়াবহ রূপ নিতে পারে এ আশঙ্কা এখন সকলের মাঝে বিরাজ করছে।
রূপসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স যেয়ে দেখা যায়, মসুরি টাঙিয়ে বেডগুলোতে ডেঙ্গু রোগীরা রয়েছেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তৃতীয় তলায়  ৮ নম্বর বেডে আব্দুর রহিম মিনা নামে ৪৫ বছর বয়স্ক একজন  রোগী রয়েছে। তার সাথে কথা বলে জানা যায়, তিনি গত আগস্ট মাসের ২৭ তারিখে  উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছে। রক্ত পরীক্ষা করে তার শরীরে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে । এখানে এসে তিনি ভালো চিকিৎসা পারছেন। তবে স্যালাইন সংকটে তাদেরকে বিড়ম্বনা পোহাতে  হচ্ছে।  বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে স্যালাইন। এমনকি রক্ত পরীক্ষা করাতে বাইরে থেকে প্যাথলজি সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে অতিরিক্ত বাড়তি টাকা দিয়ে করাতে হচ্ছে।
অপর একজন রোগী রূপসা উপজেলার ৩নং নৈহাটি  ইউনিয়নের নিকলাপুর গ্রামের বাসিন্দা রাকিব হাসান (১৮)। তার পিতা রাজ্জাক মিনা বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেবার মান ভালো থাকলেও স্যালাইনের সংকটে তাদের অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। কোথাও নরমাল স্যালাইন মেলাতে পারছে না। যদিও পাওয়া যায় বাড়তি দামে কিনতে হচ্ছে। হাসপাতাল থেকে একবার একটি স্যালাইন মাত্র দিচ্ছি। তিনি আক্ষেপ করে জানান, আমরা গরিব মানুষ। চিকিৎসা সেবা ভালো থাকলেও রক্ত টেস্টের বেলায় অনেক টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে। গত আগস্ট মাসের শেষ সপ্তাহে  আমার ছেলেকে যখন প্রথম ভর্তি করি তখন ডাক্তার রক্ত পরীক্ষা দিলে রূপসা প্যাথোলজি সেন্টারের মালিক মোঃ  ইকবালের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে সে আমাদের আশ্বস্ত করেন কোন সমস্যা হবে না। পরবর্তীতে হাসপাতালে পরীক্ষার ব্যবস্থা না থাকায় অতিরিক্ত টাকা দিয়ে রক্ত পরীক্ষা করাতে হচ্ছে।  এভাবে প্রতিদিন প্যাথলজি টেস্ট করাতে অনেক টাকা ব্যয় করতে তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও)  ডা. মাজেদুল হক কাওসার বলেন,খুলনা জেলার ৯টি  উপজেলার মধ্যে রূপসা উপজেলায় ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি । আমাদের  উপজেলায় ডেঙ্গুর ভয়াবহতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আমি দেড় মাস আগে উপজেলার মিটিং তাগিদ দিয়েছি ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য। নির্বাহী কর্মকর্তা মহোদয় প্রত্যেকটি ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানদেরকে নির্দেশনা দিয়েছেন। কিন্তু তারা সে নির্দেশনা অনুযায়ী কতটুকু কাজ করছে তাতে আমি সন্দীহান। মাঝে নৈহাটি ইউনিয়ন পরিষদের একটি সচেতনামূলক সভাতে আমাকে ডাকা হলে সেখানে গিয়েছিলাম। এছাড়া খুব উল্লেখযোগ্য তৎপরতা আমার চোখে পড়ছে না।
 ডেঙ্গু প্রতিরোধে কি, কি ব্যবস্থা নিয়েছেন জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর পক্ষ থেকে কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) ও হেলথ এসিস্ট্যান্ট (এইচএ) দের সমন্বয়ে  আগে থেকে জনসচেতনামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছি। এবং আমরা নিয়মিত এ বিষয়ে মনিটরিং করছি। ফগার মেশিনের মাধ্যমে ওষুধ স্প্রে করার কোন উদ্যোগ নিয়েছেন কি’না জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা উপজেলা প্রশাসনের কাছে সুপারিশ করেছি। তা বাস্তবায়ন করবে উপজেলা প্রশাসন। চিকিৎসা দেওয়ার ক্ষেত্রে আপনাদের  কি ব্যবস্থা  নিচ্ছেন তা জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, উপজেলা পর্যায় ৫০ টি বেড আছে আজ ডেঙ্গু রোগী শুধু ভর্তি আছে ৩৪ জন। ধারণ ক্ষমতার বাইরে অনেক বেশি রোগীদের চিকিৎসা দিতে যেয়ে আমাদের ডেঙ্গু কিডস, স্যালাইন ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক সীমাবদ্ধতার কারণে হিমশিম খেতে হচ্ছে। প্রয়োজনের তুলনায় আমাদের সরবরাহ খুবই অপ্রতুল। আমাদের যা আছে তা দিয়ে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আমরা প্রতিটি রোগীকে একটি করে স্যালাইন দিচ্ছি, এর বেশি দিতে পারছি না। ওষুধের জন্য উপর মহলে কথা বলেছি তারা সরবরাহ করলে রোগীর প্রয়োজন অনুযায়ী ওষুধ  দিতে পারবে।ডেঙ্গু প্রতিরোধে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সানজিদা রিকতা বলেন,আমরা উপজেলা আইনশৃঙ্খলা ও সমন্বয় মিটিংয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধ করতে প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদের নির্দেশনা দিয়েছি তারা যেন সচেতনামূলক সভা -সেমিনার, ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় তথ্যসম্বলিত লিফলেট বিতরণ এবং মাইকিং করে বাড়ির আশপাশ পরিস্কারসহ ডেঙ্গু সচেতনতায় সবাইকে সচেতনতামূলক বার্তা দেয়। উপজেলায় সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের ডেঙ্গু সুরক্ষায় যেখানে ঝোপঝাড় বা আগাছা রয়েছে সেগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে। ডিসি স্যারের নির্দেশনা অনুযায়ী সবাইকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে যার যার অবস্থান থেকে প্রতিরোধ ও সচেতনতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেয়ার জরুরি বার্তা দেয়া হয়েছে উপজেলা প্রশাসন থেকে। বর্তমানে রূপসায় ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা একটু উদ্বেগজনক। আশা করছি আমরা যদি ডেঙ্গু প্রতিরোধে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে পারি অচিরেই এ সমস্যা কেটে যাবে।
Facebook Comments Box

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2019 প্রানের বাংলাদেশ