নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় এক স্কুলছাত্রীকে দীর্ঘদিন ধরে ধর্ষণ, ঘটনার ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে বারবার যৌন নির্যাতনের অভিযোগে বিএনপি নেতাসহ আটজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। ভুক্তভোগীর পরিবার জানিয়েছে, নির্যাতনের শিকার ওই ছাত্রী বর্তমানে প্রায় ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা।
মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে কেন্দুয়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় কেন্দুয়া পৌর বিএনপির সহ-যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বকুল মিয়াসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও তিন থেকে চারজনকে আসামি করা হয়েছে।
পুলিশ মামলার দ্বিতীয় আসামি মো. আবু মিয়া (৩৬)-কে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছে। আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তবে প্রধান আসামি বকুল মিয়া এখনও পলাতক।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ২০ নভেম্বর স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে চিকিৎসকের কাছে নেওয়ার কথা বলে আত্মীয় বকুল মিয়া ভুক্তভোগীকে একটি বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে তাকে ধর্ষণ করা হয় এবং ঘটনার ভিডিও ধারণ করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। সে সময় ভুক্তভোগী ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী ছিল।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ধারণকৃত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ২০২৫ সালের মার্চ-এপ্রিল এবং ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে ও বিভিন্ন স্থানে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন সহযোগিতা করেছেন বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
পরিবার জানায়, গত ১ আগস্ট চট্টগ্রামে বড় ভাইয়ের কাছে যাওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও দেখতে পেয়ে বিষয়টি জানতে পারে পরিবার। পরে মেয়েটিকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে দীর্ঘদিনের নির্যাতনের ঘটনা খুলে বলে। ১৮ আগস্ট চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসা পরীক্ষায় জানা যায়, সে প্রায় ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা।
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে জানতে পেরে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন কেন্দুয়া পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন।
কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম জানান, মামলার একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, অভিযোগগুলো তদন্তাধীন। বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত নয়।