ঢাকা শহরে নারীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে চালু করা হয়েছে ‘পিংক বাস’ সেবা। এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে একজন সাংবাদিক হিসেবে আমার ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ ও চিন্তা থেকে একটি বিষয় সামনে এসেছে, যা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিবেচনা করতে পারেন।
আমার মতে, পিংক বাসগুলোতে ড্রাইভার, হেল্পার বা সুপারভাইজার পদে তৃতীয় লিঙ্গের (হিজড়া) ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি ভাবা যেতে পারে। আমাদের সমাজে তৃতীয় লিঙ্গের অনেক মানুষ এখনো পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ পান না। ফলে তাদের একটি অংশ বাধ্য হয়ে বিভিন্ন অনানুষ্ঠানিক পেশার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন।
যদি তাদের জন্য গণপরিবহন খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা যায়, তাহলে একদিকে যেমন তারা সম্মানজনক পেশায় যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন, অন্যদিকে সমাজে তাদের গ্রহণযোগ্যতাও বাড়বে। একই সঙ্গে নারীদের জন্য নির্ধারিত এসব বাসে দায়িত্বশীল কর্মী হিসেবে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।
অনেকের ধারণা, তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তিদের উপস্থিতি বাসের ভেতরে অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ বা হয়রানি প্রতিরোধে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। ফলে নারী যাত্রীরা আরও বেশি নিরাপত্তাবোধ করতে পারেন। যদিও নিরাপত্তার মূল বিষয়টি নির্ভর করে দক্ষতা, প্রশিক্ষণ ও দায়িত্বশীলতার ওপর, তবুও এই উদ্যোগটি নতুন একটি সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে।
তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের কর্মসংস্থান ও নারীদের নিরাপদ গণপরিবহন—দুটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক বিষয়কে একসঙ্গে বিবেচনায় এনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ ধরনের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করতে পারেন। বিষয়টি বাস্তবায়নযোগ্য কি না, তা অবশ্যই নীতিনির্ধারক, পরিবহন বিশেষজ্ঞ, নারী অধিকারকর্মী এবং তৃতীয় লিঙ্গের প্রতিনিধিদের মতামতের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
একজন সাংবাদিক হিসেবে এটি আমার ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ ও মতামত। সমাজের সকল মানুষের জন্য সমান সুযোগ এবং নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এ ধরনের চিন্তাভাবনা ইতিবাচক আলোচনার জন্ম দিতে পারে।