ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় তালাবদ্ধ একটি ভাড়া ঘর থেকে মোঃ কামরুল খান নামে এক ব্যক্তির গলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতের শরীরে আঘাতের চিহ্ন থাকায় ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করছে পুলিশ। এ ঘটনায় একই কক্ষে থাকা অপর ব্যক্তি পলাতক রয়েছেন।
রোববার (১৬ আগস্ট) সন্ধ্যায় আশুলিয়া থানাধীন বাসাইদ ইউনিয়নের রাজু সিটি এলাকার স্থানীয় আমির আলীর বাড়ির একটি কক্ষ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত মোঃ কামরুল খান খুলনা জেলার তেরখাদা উপজেলার চন্দনা মহল পোস্ট অফিস এলাকার নয়া বরসাত গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবার নাম মৃত করিম খান।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই কক্ষটি দুই ব্যক্তি মিলে প্রায় সাত দিন আগে ভাড়া নেন। ভাড়া নেওয়ার পর থেকেই ঘরটির দরজা-জানালা বেশিরভাগ সময় বন্ধ থাকত। আশপাশের লোকজনের সঙ্গেও তাদের তেমন যোগাযোগ ছিল না।
রোববার সন্ধ্যায় ওই কক্ষ থেকে তীব্র পচা গন্ধ বের হলে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে তারা আশুলিয়া থানা পুলিশকে খবর দেন। সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখতে পায়, কক্ষটির দরজা বাইরে থেকে তালাবদ্ধ।
পরে পুলিশ তালা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে মেঝেতে এক ব্যক্তির মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে। মরদেহটি বেশ পচে ও গলে যাওয়ায় প্রথমে তার পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরে পুলিশি তদন্তের মাধ্যমে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা হয়।
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম জানান, তাৎক্ষণিক পরিচয় না মিললেও পরবর্তীতে নিহতের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। তার নাম মোঃ কামরুল খান। তিনি খুলনা জেলার তেরখাদা উপজেলার নয়া বরসাত গ্রামের বাসিন্দা।
ওসি আরও জানান, ওই কক্ষে দুই ব্যক্তি থাকতেন। তারা প্রায় সাত দিন আগে ঘরটি ভাড়া নিয়েছিলেন। মরদেহ উদ্ধারের পর থেকে অপর ব্যক্তিকে পাওয়া যাচ্ছে না। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তাকে হত্যার পর কক্ষটি বাইরে থেকে তালাবদ্ধ করে ওই ব্যক্তি পালিয়ে যেতে পারেন।
পুলিশ পলাতক ব্যক্তিকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে উন্নত প্রযুক্তির সহায়তা নিচ্ছে। একই সঙ্গে ঘটনাটির রহস্য উদঘাটনে তদন্ত চলছে।
মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানা যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ বলছে, তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং জড়িত ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে