খুলনার কয়রায় বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্যে গাঁজা সেবন এবং ইয়াবা বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় ছোট ছোট এজেন্টের মাধ্যমে হাট-বাজার, চায়ের দোকান এমনকি রাস্তার পাশেও মাদক কেনাবেচা চলছে। এতে দিন বিপথে যাচ্ছে তরুণরা, আর দিশেহারা হয়ে পড়ছেন শত শত পরিবার।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন পয়েন্টে দল বেঁধে বসে গাঁজা সেবন করছে যুবকেরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “এখন গাঁজা-ইয়াবা এলাকার পোলাপানদের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে গেছে। গাঁজা ছাড়া তারা চলতেই পারে না। টাকা না থাকলে বাড়ির থালা-বাসন, ফ্যান, মোবাইল পর্যন্ত বিক্রি করে দিচ্ছে।”
অভিভাবকরা জানান, সন্তান মাদকাসক্ত হওয়ার পর সংসারে শান্তি নেই। পড়াশোনা ছেড়ে অনেকে চুরি-ছিনতাইয়ের দিকেও ঝুঁকছে। একাধিক পরিবার অভিযোগ করেছেন, প্রকাশ্যে বিক্রি হলেও প্রশাসনিকভাবে তেমন কোনো কঠোর ব্যবস্থা চোখে পড়ছে না। ফলে অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় কয়েকজন যুব প্রতিনিধি বলছেন, মাদকের সহজলভ্যতার কারণে মাধ্যমিক ও কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীরাও ঝুঁকিতে পড়ছে। তারা দ্রুত অভিযান, গোয়েন্দা নজরদারি এবং প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন।
সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, শুধু আইনশৃঙ্খলা নয়, পাশাপাশি স্কুল-কলেজে সচেতনতা, কর্মসংস্থান এবং পরিবারভিত্তিক কাউন্সেলিং জরুরি। তা না হলে একটি প্রজন্মই ধ্বংসের মুখে পড়বে।
এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে প্রকাশ্য বিক্রি ও সেবন বন্ধ করা হোক। তা না হলে খুলনার উপজেলাগুলোতে যুবসমাজকে বাঁচানো কঠিন হয়ে পড়বে।