গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার ছোট্ট ও শান্ত-সুন্দর গ্রাম নিজড়ায় ১৯৭৫ সালের ২ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন সাহসী কলমযোদ্ধা ও সাংবাদিক রবিউল আলম রাজু। তাঁর পিতা শিহাব মোল্লা এবং মাতা লুৎফরনেছা বেগম। ১১ ভাই-বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন দ্বিতীয় সন্তান।
কর্মজীবনের শুরুতে তিনি বাংলাদেশ বিডিআর (বর্তমান বিজিবি)-এর একজন সাহসী, কর্মঠ ও দায়িত্বশীল সদস্য হিসেবে দেশসেবায় নিয়োজিত ছিলেন। পরবর্তীতে সাংবাদিকতাকে জীবনের আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করে রাজধানীর উত্তরায় বিভিন্ন গণমাধ্যমে পেশাগত জীবন শুরু করেন।
সাংবাদিকতায় তাঁর নিষ্ঠা, সাহসিকতা ও পেশাদারিত্ব তাঁকে দ্রুতই সবার কাছে পরিচিত করে তোলে। দীর্ঘ প্রায় এক যুগ ধরে জাতীয় দৈনিক আমার প্রানের বাংলাদেশ পত্রিকায় অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি আরও কয়েকটি গণমাধ্যমে কাজ করে অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।
দৈনিক আমার প্রানের বাংলাদেশ-এ দীর্ঘদিনের কর্মদক্ষতা, সততা ও দায়িত্বশীলতার স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার থেকে চীফ রিপোর্টার পদে পদোন্নতি লাভ করেন। সংবাদ সংগ্রহ, সত্য প্রকাশ এবং সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় তিনি ছিলেন নির্ভীক ও আপসহীন। সহকর্মীদের কাছে তিনি ছিলেন একজন আন্তরিক, সহযোগিতাপরায়ণ ও মানবিক মানুষ।
শুধু সাংবাদিকতাই নয়, সামাজিক কর্মকাণ্ডেও ছিল তাঁর সক্রিয় অংশগ্রহণ। তিনি উত্তরা প্রেসক্লাবের সাবেক আপ্যায়ন বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে উত্তরা প্রেসক্লাবের দ্বিবার্ষিক নির্বাচনে সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক পদে প্রার্থী হন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস—নির্বাচনের মাত্র দুই দিন আগে, ২০২৬ সালের ১৬ জুলাই ভোর ৩টা ৩০ মিনিটে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় তিনি ইন্তেকাল করেন।
তাঁর অকাল প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে আসে পরিবার, সহকর্মী, সাংবাদিক সমাজ এবং উত্তরাবাসীর মাঝে। তাঁর হাসিমাখা মুখ, আন্তরিক ব্যবহার, অতিথিপরায়ণতা, মানবিকতা ও কর্মনিষ্ঠা আজও সবার হৃদয়ে অম্লান হয়ে আছে।
দৈনিক আমার প্রানের বাংলাদেশ পরিবারের কাছে রবিউল আলম রাজু শুধু একজন সহকর্মী ছিলেন না; তিনি ছিলেন সাহস, সততা ও ভালোবাসার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তাঁর রেখে যাওয়া স্মৃতি, আদর্শ ও কর্ম আজও সহকর্মীদের অনুপ্রাণিত করে এবং ভবিষ্যতেও সাংবাদিক সমাজের জন্য প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
রবিউল আলম রাজুর জীবন আমাদের শেখায়—একজন প্রকৃত সাংবাদিক কখনো শুধু সংবাদ লেখেন না; তিনি সত্য, ন্যায় এবং মানুষের অধিকার রক্ষায় নিজের জীবন উৎসর্গ করেন। তাঁর অবদান, কর্ম ও স্মৃতি উত্তরার সাংবাদিক সমাজ এবং সর্বস্তরের মানুষের হৃদয়ে চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
আল্লাহ তাআলা মরহুম রবিউল আলম রাজুকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন। আমীন।