শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ০৮:৩৪ পূর্বাহ্ন
রাজধানীতে এক চাঞ্চল্যকর অনিয়মের পর্দা ফাঁস হয়েছে—প্রাথমিকভাবে ছোটখাটো অভিযোগ মনে হলেও অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে বড় ধরনের দুর্নীতির জাল। “কেঁচো খুঁড়তে সাপ বেরিয়ে এলো”—এমনটাই বলছেন ভুক্তভোগী ও সংশ্লিষ্টরা।
অনুসন্ধানে জানা যায়, রতন নামের এক ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে গার্মেন্টস, হোটেল-রেস্টুরেন্ট, শিল্পকারখানাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স পাইয়ে দেওয়ার নামে অবৈধ বাণিজ্য চালিয়ে আসছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রয়োজনীয় ফায়ার লাইসেন্স ও স্বাস্থ্যগত অনুমোদন ছাড়াই, সিটি কর্পোরেশনের ট্রেড লাইসেন্স বিভাগে কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে এসব লাইসেন্স সংগ্রহ করে দিত সে।
সরেজমিনে তদন্তে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। রতন নিজের ব্যক্তিগত মোটরসাইকেলে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের লোগো ব্যবহার করে এলাকায় চলাফেরা করত, যা সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার একটি কৌশল বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। অথচ সে সিটি কর্পোরেশনের কোনো নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নন।
এতেই শেষ নয়—অভিযোগ রয়েছে, নিজেকে সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন ফুটপাত ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে উচ্ছেদ অভিযানের ভয় দেখিয়ে নিয়মিত চাঁদাবাজি করত রতন। অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ভয়ে তার দাবি মেনে টাকা দিতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানিয়েছেন।
ভুক্তভোগীরা জানান, “উচ্ছেদের ভয় দেখিয়ে সে নিয়মিত টাকা নিত। না দিলে দোকান ভেঙে দেওয়ার হুমকি দিত।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড শুধু প্রশাসনের ভাবমূর্তিই ক্ষুণ্ণ করছে না, বরং নগর ব্যবস্থাপনায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। তারা দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন সচেতন মহল। তাদের প্রশ্ন—কিভাবে একজন বহিরাগত ব্যক্তি বছরের পর বছর ধরে সিটি কর্পোরেশনের নাম ব্যবহার করে এমন অনিয়ম চালিয়ে যেতে পারে? এর পেছনে কারা রয়েছে—তা উদঘাটন জরুরি।
সংশ্লিষ্টদের মতে, অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে রতনসহ জড়িত সকলের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। পাশাপাশি ট্রেড লাইসেন্স প্রদান প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি উঠেছে।