
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার কাওরাইদ ইউনিয়নে আবারও বেপরোয়া আচরণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ছাত্রলীগের একটি অংশের বিরুদ্ধে। শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকাল আনুমানিক ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে কাওরাইদ রেলস্টেশন এলাকায় এক হকারকে মারধরের ঘটনা ঘটে, যা স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাজহারুল গ্রুপের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হিসেবে পরিচিত সিয়াম নামে এক যুবক, যিনি পূর্বে একটি হত্যা মামলার আসামি হিসেবে পরিচিত, তিনি স্টেশনে অবস্থানরত এক হকারকে হঠাৎ আক্রমণ করেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মারধরের পাশাপাশি ওই হকারের কাছ থেকে কিছু অর্থও ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। পরে উপস্থিত সাধারণ মানুষ এগিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং মারামারি থামিয়ে দেয়।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ:
কাওরাইদ স্টেশনে হকারকে মারধরের অভিযোগ
অভিযুক্ত সিয়াম পূর্বে হত্যা মামলার আসামি বলে দাবি
স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে
ঘটনার সময় এলাকায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কিছু কর্মী উপস্থিত থাকলেও কেন এমন ঘটনা ঘটলো, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে স্থানীয়দের মধ্যে। অনেকেই মনে করছেন, রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে একটি গোষ্ঠী ধারাবাহিকভাবে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে, যা এলাকার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছে।
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, মাজহারুল নামের এক ব্যক্তির নেতৃত্বে একটি গ্রুপ দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত রয়েছে। এর মধ্যে হত্যা, ডাকাতি ও মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও রয়েছে বলে তারা দাবি করেন। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় স্থানীয় কয়েকজন, যেমন জুয়েল, এমদাদ মন্ডল এবং ছাত্রদলের রিয়াদ-এর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে যেন তারা বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেন।
সচেতন মহল বলছে, একজন ব্যক্তি যদি গুরুতর মামলার আসামি হয়েও জামিনে মুক্ত হয়ে পুনরায় অপরাধে জড়িয়ে পড়েন, তাহলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আরও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। একইসঙ্গে কিশোর গ্যাং ও মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগগুলো দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
ঘটনার বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং কাওরাইদ এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা হবে।